img

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার, মিলবে প্রণোদনা

প্রকাশিত :  ১৩:৪৩, ১০ আগষ্ট ২০২৬

বাংলা কিউআর লেনদেনে চার্জ প্রত্যাহার, মিলবে প্রণোদনা

নগদবিহীন লেনদেন সম্প্রসারণ ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ করতে বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক সব ধরনের লেনদেনে ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের ফলে বাংলা কিউআর ব্যবহার করে লেনদেনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর ওপর আইআরএফ বাবদ কোনো ফি আরোপ করা হবে না। এর মাধ্যমে দেশে নগদবিহী

একই সঙ্গে এই কোডভিত্তিক লেনদেনে বাড়তি প্রণোদনাও ঘোষণা করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। অর্থাৎ, কার্ড ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠান অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো ফি বা সার্ভিস চার্জ নিতে পারবে না।

সোমবার (১০ আগস্ট) এ সংক্রান্ত এক সার্কুলার জারি করে দেশে কার্যরত সব তফশিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের পাঠিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২।

এই নির্দেশনা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সার্কুলারে বলা হয়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সংক্রান্ত নির্দেশনা সংশোধিত বলে গণ্য হবে এবং অন্যান্য নির্দেশনা অপরিবর্তিত থাকবে।

একই সঙ্গে উক্ত তারিখ থেকে গত ১ জুলাইয়ে জারি করা সার্কুলারের নির্দেশনাবলি রহিত থাকবে।

একই দিন অন্য এক সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলা কিউআর কোডভিত্তিক লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিশোধ ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে অনবোর্ডকৃত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পণ্য বিক্রেতা এবং সেবা প্রদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টে সম্পাদিত ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনের বিপরীতে মাসিক ভিত্তিতে প্রণোদনা দেওয়া হবে।

এ ক্ষেত্রে শর্তসাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে লেনদেনের পরিমাণের ০.২০ শতাংশ প্রণোদনা প্রদান করা হবে বলে জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এ সংক্রান্ত শর্তাবলীতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, প্রণোদনা পাওয়ার উদ্দেশ্যে কোনো একক লেনদেনকে একাধিক ছোট লেনদেনে বিভক্ত করা, ট্রানজেকশন স্ট্রাকচারিং করা বা অন্য কোনো কৌশল অবলম্বন করা যাবে না;

বাতিল হওয়া কোনো লেনদেনের বিপরীতে প্রণোদনা প্রাপ্য হবে না;

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনবোধে যেকোনো সময় প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনের রেকর্ড, মার্চেন্ট-সংক্রান্ত তথ্য, নিষ্পত্তি-সংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সহায়ক দলিলাদি যাচাই ও নিরীক্ষা করতে পারবে। এ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের চাহিদা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে প্রয়োজনীয় তথ্য, উপাত্ত ও দলিলাদি সরবরাহ করতে হবে;

কোনো প্রতিষ্ঠানকে অতিরিক্ত, কৃত্রিম বা অন্য কোনো ত্রুটিপূর্ণ লেনদেনের বিপরীতে বা ভুলবশত প্রণোদনা প্রদান করা হলে বাংলাদেশ ব্যাংক সংশ্লিষ্ট প্রণোদনার অর্থ ফেরত গ্রহণ বা পরবর্তী প্রণোদনার অর্থের সঙ্গে সমন্বয় করতে পারবে;

এছাড়া কোনো মার্চেন্টের অস্বাভাবিক সংখ্যক বা অস্বাভাবিক ধরনের লেনদেন পরিলক্ষিত হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকোয়ারিং প্রতিষ্ঠানকে যথাযথভাবে তা পর্যবেক্ষণ, যাচাই ও পর্যালোচনা করতে হবে এবং কৃত্রিমভাবে লেনদেন বিভাজন, ক্যাশ আউট বা অন্য কোনো ধরনের অপব্যবহার প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

এ ধরনের অপব্যবহার প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান দায়ী থাকবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক প্রদত্ত প্রণোদনার অর্থ ফেরত গ্রহণ বা সমন্বয়ের পাশাপাশি পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।



বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি সই

প্রকাশিত :  ১১:৪৫, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:১১, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তায় এর প্রভাব, বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টি স্বীকার করেছে। একই সঙ্গে দুই দেশ নিজেদের জ্বালানি চাহিদা পূরণে পারমাণবিক শক্তির সম্ভাব্য ভূমিকার কথাও উল্লেখ করেছে।

বেসামরিক পারমাণবিক শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত এক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিএনপি মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক পোস্টের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

চুক্তিতে বাংলাদেশের পক্ষে সই করেন প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ। অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে স্বাক্ষর করেন দেশটির অর্থনীতিবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জ্যাকব হেলবার্গ।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তিগত বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা জোরদার এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় পক্ষই তাদের কূটনৈতিক সম্পর্কের কৌশলগত গুরুত্ব এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা—বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর এর প্রভাবকে স্বীকৃতি দিয়েছে। উভয় দেশ তাদের জ্বালানি চাহিদা মেটাতে পারমাণবিক শক্তি যে ভূমিকা রাখতে পারে, তা উল্লেখ করে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের জন্যই আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সেফগার্ডস চুক্তি এবং অতিরিক্ত প্রোটোকল কার্যকর রয়েছে। পাশাপাশি, দুই দেশই ১৯৬৮ সালের ১ জুলাই স্বাক্ষরিত পরমাণু অস্ত্র বিস্তার প্রতিরোধ চুক্তির (নন-প্রলিফারেশন ট্রিটি) অংশীদার। 

এর আগে চলতি বছরের মে মাসে, বহুমুখী উৎসের মাধ্যমে বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে দুটি দেশের মধ্যে সামগ্রিক জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতার বিষয়ে আরও একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর