img

তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: মীর শাহে আলম

প্রকাশিত :  ১১:৩৭, ০৯ জুলাই ২০২৬

তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়ায় হচ্ছে ড্রোন কারখানা: মীর শাহে আলম

তুরস্কের সহযোগিতায় প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে বগুড়ায় ড্রোন উৎপাদন কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নির্মাণাধীন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পাশেই গড়ে তোলা হবে এই কারখানা। একই সঙ্গে উত্তরাঞ্চলে দেশের প্রথম বিমানবাহিনীর বিমানঘাঁটি স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’ এ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, তুরস্কের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে বগুড়া বিমানঘাঁটির পাশে ড্রোন উৎপাদন কারখানা নির্মাণ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলে এখনো আন্তর্জাতিক মানের কোনো বিমানবন্দর নেই। এ কারণে বগুড়া বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার কাজ চলছে। বিমানবন্দরটির পাশেই স্থাপন করা হবে ড্রোন তৈরির কারখানা, যা দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, উত্তরাঞ্চলকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর প্রথম বিমানঘাঁটি স্থাপনেরও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বিমানবাহিনীর বহরে যুক্ত হওয়া নতুন যুদ্ধবিমানগুলো এই ঘাঁটিতে মোতায়েন করা হবে।

বিএসআরএফ সভাপতি মাসুদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।

প্রসঙ্গত, পাকিস্তান আমলে নির্মিত বগুড়া বিমানবন্দরটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হলেও আন্তর্জাতিক মানে উন্নয়নের উদ্যোগ নানা সময়ে নেওয়া হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আমলেও এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে রাজনৈতিক কারণে প্রকল্পটি আর এগোয়নি।

img

এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? যা বলছে গবেষণায়

প্রকাশিত :  ১০:০৬, ০৫ জুলাই ২০২৬

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো- এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, ছবিটা পুরোপুরি একপেশে নয়।

গবেষণা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

র‌্যাম্প ও রেভেলিও ল্যাবসের যৌথ গবেষণায় প্রায় ২২ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য নিয়মিত এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে তাদের কর্মী সংখ্যা গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। শুধু প্রযুক্তি বিভাগ নয়; বিক্রয়, প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, অর্থ, বিপণনসহ বিভিন্ন বিভাগেও কর্মী বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে এআই সব জায়গায় নতুন চাকরি তৈরি করছে। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়ছে, তারাই অনেক সময় এআই ব্যবহারেও এগিয়ে থাকে। ফলে এআইয়ের কারণে নাকি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে কর্মী বাড়ছে তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছিল, এআইয়ের কারণে বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণায় বলা হয়, গত এক বছরে এআইয়ের প্রভাবে প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার চাকরি কমেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে তরুণ ও নতুন কর্মীদের ওপর।

তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরং নতুন কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের চাকরিও প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শুধু মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার প্রযুক্তি নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়িয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। সফটওয়্যার তৈরি, ভুল সংশোধন, তথ্য বিশ্লেষণ ও নতুন পণ্য তৈরির মতো কাজে এআই ব্যবহারে খরচ কমছে এবং উৎপাদন বাড়ছে।

তবে যারা শুধু এআইয়ের সাবস্ক্রিপশন কিনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে না তাদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেখা যাচ্ছে না।

গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান ও পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য আরও বাড়তে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে তারাই বেশি সুবিধা পাবে।

অর্থাৎ এআইয়ের ভবিষ্যৎ হয়তো শুধু চাকরি কমানোর গল্প নয়; বরং যারা এআইকে কাজে লাগাতে পারবে তাদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার পথ।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর