img

মহাকাশ ও ভূ-অবস্থানভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনার তথ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচণে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ২৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:১৫, ২৭ মে ২০২৬

মহাকাশ ও ভূ-অবস্থানভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনার তথ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচণে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন

ঢাকা, ২৬ মে: বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রহবিজ্ঞান এবং মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

“এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স, প্ল্যানেটারি সায়েন্স অ্যান্ড স্পেস সিস্টেমস” গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন সাবেক বিজ্ঞান ও তথ্য-যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, এমপি। 

অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মঈন খান বলেন, দেশের প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ প্রথম নিয়েছে বলে মনে হয়। এর মাধ্যমে নানা সংকট ও সম্ভাবনা দ্রুত গবেষণার মাধ্যমে সমাধান করার পথ উন্মুক্ত হবে। বন্যা বা দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে এর অঞ্চল ভিত্তিক প্রভাব যাচাই করে বা অপরাধপ্রবণ এলাকার ডেটা ম্যাপিং করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এ ধরণের গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে। 

নবনির্মিত ‘এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স’ মূলত স্যাটেলাইট ডেটা ও ভৌগোলিক ম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগ পূর্বাভাস, স্মার্ট নগর পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।   

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান। তিনি জিওস্পেশাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ডেটা এবং মহাকাশভিত্তিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস-এর পরিচালক ড. মার্টিন ভ্যান ক্রানেনডক, উপ-পরিচালক ড. ক্যাটারিনা মিলকোভিক এবং পরিচালক (গবেষণা) ড. আশরাফ দেওয়ান। তারা আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম শামসুল আলম লিটন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামুখী কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ কেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ও অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে সহযোগিতা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব জনাব মোঃ কামরুজ্জামান লিটু ও সদস্য জনাব কামরুন নেহার।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের এডভাইজর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি


img

সামরিক কৌশল বদলে যে অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে ইউরোপীয় দেশগুলো

প্রকাশিত :  ১১:১৭, ১৬ জুলাই ২০২৬

ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে পাওয়া বাস্তব অভিজ্ঞতার আলোকে নিজেদের সামরিক ও প্রতিরক্ষা কৌশল নতুন করে সাজিয়ে তুলছে ইউরোপ। মহাদেশটির ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থার কেন্দ্রে এখন স্থান করে নিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)–চালিত ড্রোন এবং স্বয়ংক্রিয় যুদ্ধপ্রযুক্তি।

প্রতিরক্ষা খাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর বিপুল বিনিয়োগ এখন এ প্রযুক্তিতেই গিয়ে মিশছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি।

সামরিক কৌশলের এই দ্রুত পরিবর্তনের গতিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে দুই সপ্তাহের বেশ কিছু বড় ঘোষণা। ড্রোনের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছে উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট ন্যাটো, যেখানে যুক্তরাজ্য ড্রোন ও ড্রোন-বিধ্বংসী ব্যবস্থার জন্য শত কোটি পাউন্ড বরাদ্দ করেছে।

ইউক্রেনের জন্য জার্মানি ৫০ হাজার ড্রোন সংগ্রহের পদক্ষেপ নিয়েছে এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি খাতের স্টার্টআপ ‘হেলসিং’ এক হাজার ৮০০ কোটি ডলার পেয়েছে।

এসব ঘটনা সামরিক পরিকল্পনার বড় ধরনের পটপরিবর্তনেরই ইঙ্গিত করে। যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় বিভিন্ন ব্যবস্থা একসময় কেবল বিশেষ কিছু প্রয়োজনে ব্যবহৃত হলেও এখন তা আধুনিক যুদ্ধকৌশলের মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হচ্ছে। এ নতুন ধারা কেবল ড্রোন নির্মাতাদের জন্যই নয়, বরং এআই, সফটওয়্যার, ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার ও সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন কোম্পানির জন্যও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে।

বাজার গবেষণা কোম্পানি ‘মর্নিংস্টার’-এর বিশ্লেষক লোরেদানা মুহাররেমি বলেছেন, ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বহুমাত্রিক যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যেমন, একটি ট্যাংক এখন কেবল গোলাবারুদই ছুড়বে না, একইসঙ্গে ড্রোন উৎক্ষেপণ করবে, স্যাটেলাইট ও চালকহীন আকাশযান থেকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর লাইভ ডেটা গ্রহণ করবে, পুরো যুদ্ধক্ষেত্রে তথ্য আদান-প্রদান করবে এবং সমন্বিত নেটওয়ার্ক ফোর্সের অংশ হিসেবে কাজ করবে।

ইউক্রেন যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের তৈরি কম খরচের ‘শাহেদ’ ড্রোনের ব্যবহার প্রমাণ করেছে, তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী এআই ড্রোন কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। এগুলো নিখুঁতভাবে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করতে, প্রচলিত অস্ত্রের আক্রমণ সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে এবং দিন দিন মানুষের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে।

ড্রোন কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধে ?

ইউক্রেন ও রাশিয়ার যুদ্ধক্ষেত্রের বাস্তব অভিজ্ঞতা এখন আমূল বদলে দিচ্ছে পুরো ইউরোপের সামরিক কেনাকাটা ও প্রতিরক্ষা কৌশল। আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন কীভাবে যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণ করছে তা মাথায় রেখেই সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে শত কোটি ডলারের নতুন সব মহাপরিকল্পনা হাতে নিচ্ছে পশ্চিমা দেশগুলো।

ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জোটের সামরিক বাহিনীকে ‘ড্রোন-রেডি’ বা ড্রোনের মুখে পড়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুতের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ন্যাটোর বিভিন্ন সদস্য দেশ আগামী পাঁচ বছরে ড্রোন-বিধ্বংসী সক্ষমতা বাড়াতে ৪ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের উদাহরণ টেনে মার্ক রুত্ত বলেছেন, আধুনিক সমর কৌশলের চরিত্রকে মৌলিকভাবে বদলে দেওয়া ও যুদ্ধক্ষেত্রে প্রধান উপাদান হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে ড্রোন।

একই পথে হাঁটছে যুক্তরাজ্যও। গত জুনের শেষদিকে প্রকাশিত প্রতিরক্ষা বিনিয়োগ পরিকল্পনার আওতায় নিজেদের সশস্ত্র বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে ও ড্রোনের রূপান্তরের লক্ষ্যে প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার বরাদ্দের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।

এদিকে, ইউক্রেনের জন্য সহায়তার হাত আরও বাড়িয়েছে জার্মানি। প্রতিরক্ষা বিষয়ক সফটওয়্যার নির্মাতা কোম্পানি ‘অটেরিয়ন’ ও ইউক্রেনীয় ড্রোন নির্মাতা ‘স্কাইফল’ যৌথভাবে ৫০ হাজার ড্রোনের বড় ক্রয়াদেশ পেয়েছে, যার মূল্য প্রায় ৯ কোটি ইউরো।

ইউরোপীয় ন্যাটো সদস্য দেশ হিসেবে জার্মানি এ বিপুল পরিমাণ ড্রোনের অর্ডার দিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র। এসব ড্রোনে অটেরিয়নের বিশেষ স্বয়ংক্রিয় অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহৃত হবে।

অটেরিয়নের প্রধান নির্বাহী লরেঞ্জ মেয়ার বলেছেন, মানব ইতিহাসে ড্রোন প্রযুক্তি যথেষ্ট সহজলভ্য হওয়ার পর এটাই প্রথম যুদ্ধ, যেখানে সামরিক ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তির এত বড় প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

মেয়ার বলেছেন, বর্তমান যুদ্ধক্ষেত্রের সমীকরণ এখন দিন দিন সফটওয়্যারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। অটেরিয়নের অপারেটিং সিস্টেমের কারণে শত্রুপক্ষের ‘ইলেকট্রনিক জ্যামিং’ বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্নের চেষ্টার মুখেও এসব ড্রোন নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারবে।

তিনি বলেন, ‘শত্রুপক্ষের জ্যামার সক্রিয় থাকলে যেখানে আগে ভিডিও সিগনাল হারিয়ে যেত এবং ড্রোনের লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকত, আমাদের প্রযুক্তির কারণে এখন জ্যামার থাকার পরও ড্রোন সরাসরি লক্ষ্যবস্তুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়তে পারবে।’

পাহাড় বা উপত্যকার নিচে যেখানে রেডিও তরঙ্গ পৌঁছায় না, সেখানেও এ সফটওয়্যারের মাধ্যমে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। কোম্পানিটি এমন আধুনিক সফটওয়্যার নিয়েও কাজ করছে, যা দিয়ে একজন অপারেটর আলাদা আলাদা ড্রোন চালনার পরিবর্তে একসঙ্গে এক ঝাঁক ড্রোনের পুরো দলকে সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

জার্মানির দেওয়া বড় অর্ডারটি সরাসরি ইউক্রেনীয় বাহিনীর জন্য তৈরি করা হলেও মেয়ার বলেছেন, এ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রতি জার্মানি, নরওয়ে, ব্রিটেন ও ফ্রান্সের নিজস্ব সশস্ত্র বাহিনীও গভীর আগ্রহ দেখাচ্ছে।

বর্তমানে যুদ্ধক্ষেত্রে শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে বিভ্রান্ত ও পর্যুদস্ত করতে কম খরচের সাধারণ ড্রোনের সঙ্গে উচ্চ প্রযুক্তির দামি অস্ত্রের সমন্বয় ঘটিয়ে ব্যবহার করা হচ্ছে, যা আধুনিক যুদ্ধের ময়দানে ড্রোনকে আরও বেশি মারাত্মক ও কার্যকর করে তুলছে।

ড্রোন ছাড়িয়ে যুদ্ধকৌশলে যখন প্রযুক্তির রাজত্ব

আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রে ড্রোন ও স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ক্রমাগত ব্যবহার কেবল ড্রোন নির্মাতাদের ভাগ্যই বদলাচ্ছে না, বরং এর পেছনে থাকা নিয়ন্ত্রণকারী মূল প্রযুক্তির চাহিদাও বহুগুণ বাড়িয়েছে।

‘মর্নিংস্টার’-এর বিশ্লেষক লোরেদানা মুহাররেমি বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রে রিয়াল-টাইম বা তাৎক্ষণিকভাবে শত শত ড্রোনের মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর জন্য এখন অত্যাধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে সুরক্ষিত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ব্যাটল ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার বা যুদ্ধ পরিচালনাকারী সফটওয়্যার, এআই, স্যাটেলাইটভিত্তিক গোয়েন্দা তথ্য, সেন্সর ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার সিস্টেম।

এর ফলে, যেসব কোম্পানির স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সেন্সর, ইলেকট্রনিক যুদ্ধকৌশল, সফটওয়্যার ও মহাকাশ প্রযুক্তির মতো ক্ষেত্রে বড় আকারের কাজের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে, ভবিষ্যতের প্রতিরক্ষা বাজেটের সিংহভাগ তাদের পকেটেই যাবে।

‘ম্যাককিনসে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের পর থেকে ইউরোপের মূল প্রতিরক্ষা ব্যয় এরইমধ্যে দ্বিগুণ হয়েছে। ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৩ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা নেটো নির্ধারণ করেছে তার ওপর ভিত্তি করে ২০৩০ সালের মধ্যে ইউরোপের সামরিক বাজেট প্রায় ৮০ হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে, যা মহাদেশটির মোট জিডিপির প্রায় ২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ইউরোপ ও আমেরিকা উভয় অঞ্চলেই ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগ উল্কার গতিতে বেড়েছে।

ম্যাককিনসে বলেছে, আগের বছরের তুলনায় এই খাতে বিনিয়োগের চুক্তি বা ডিলের পরিমাণ দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে, বিশেষ করে ইউরোপে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির অর্থায়ন ২০২১ সালের ২০ কোটি ইউরো থেকে এক লাফে ২০২৫ সালে ২৬০ কোটি ইউরোতে গিয়ে ঠেকেছে।

এ মেটা অংকের বিনিয়োগের অন্যতম বড় সুবিধাভোগী জার্মানির মিউনিখভিত্তিক ‘হেলসিং’। সম্প্রতি কোম্পানিটি নতুন তহবিল সংগ্রহের ঘোষণা দিয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের বাজার মূল্য দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৮০০ কোটি ডলারে।

এ বিপুল মূল্যায়নের পর ইউরোপের সবচেয়ে ধনী প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি স্টার্টআপগুলোর মধ্যে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করল হেলসিং। ড্রোন ও পানির নিচের নজরদারি সংক্রান্ত যুদ্ধাস্ত্র তৈরি করে কোম্পানিটি। পাশাপাশি সামরিক খাতে পরিচালনার জন্য এআই ও স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরি করে।

কোম্পানিটির এ অভাবনীয় উত্থানেই প্রমাণ মেলে, ইউরোপের প্রতিরক্ষা শিল্প এখন প্রচলিত ভারি সামরিক সরঞ্জাম বা হার্ডওয়্যারের চেয়ে সফটওয়্যার ও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ওপরই তাদের ভবিষ্যতের বাজি ধরছে।

সূত্র: সিএনবিসি, ডয়চে ভেলে


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর