img

পিপারমিন্ট তেল রক্তচাপ কমাতে কার্যকর—নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

প্রকাশিত :  ১৮:২১, ১৩ মে ২০২৬

পিপারমিন্ট তেল রক্তচাপ কমাতে কার্যকর—নতুন গবেষণায় চমকপ্রদ তথ্য

জনমত রিপোর্ট : যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ল্যাঙ্কাশায়ারের এক নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন নির্দিষ্ট মাত্রায় পিপারমিন্ট তেল গ্রহণ করলে উচ্চ রক্তচাপ কমাতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারে।

সম্প্রতি PLOS One জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা অনুযায়ী, দিনে দুইবার ১০০ মাইক্রোলিটার করে পিপারমিন্ট তেল ২০ দিন ধরে গ্রহণ করলে সিস্টোলিক ব্লাড প্রেসার (রক্তচাপের উপরের সংখ্যা) গড়ে ৮.৫ mmHg পর্যন্ত কমে যায়। গবেষকরা বলছেন, এটি হালকা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের জন্য একটি সহজ, সাশ্রয়ী এবং সহনীয় পদ্ধতি হতে পারে।

গবেষণায় ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী মোট ৪০ জন অংশগ্রহণকারীকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দল, যাদের প্রিহাইপারটেনশন বা স্টেজ-১ হাইপারটেনশন ছিল, নিয়মিত পিপারমিন্ট তেল গ্রহণ করে। অন্য দলটি পিপারমিন্ট স্বাদের প্লাসিবো গ্রহণ করে, যেখানে কার্যকর তেলের উপাদান ছিল না। ফলাফলে দেখা যায়, পিপারমিন্ট তেল গ্রহণকারী দলের রক্তচাপে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ করা গেলেও প্লাসিবো গ্রুপে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

গবেষণার প্রধান লেখক ড. জনি সিনক্লেয়ার বলেন, “উচ্চ রক্তচাপ বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ ও মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। এর চিকিৎসায় বিপুল ব্যয় হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ওষুধ দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর তা স্পষ্ট নয়, পাশাপাশি পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও থাকে।”

পিপারমিন্টে থাকা মেনথল ও ফ্ল্যাভোনয়েডসের মতো উপাদান রক্তনালীর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষণায় শুধু সিস্টোলিক নয়, ডায়াস্টোলিক রক্তচাপ, হার্ট রেট, শারীরিক গঠন, মানসিক সুস্থতা এবং ঘুমের মানসহ নানা বিষয়ও পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ড. সিনক্লেয়ার আরও বলেন, “এই ফলাফল ক্লিনিক্যালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উচ্চ রক্তচাপই কার্ডিওমেটাবলিক রোগের সবচেয়ে সাধারণ প্রতিরোধযোগ্য ঝুঁকি এবং বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কম ক্যালরি ও কম দামে সহজলভ্য হওয়ায় পিপারমিন্ট তেল ভবিষ্যতে লাখো মানুষের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে নিয়মিত ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও তারা গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন।


img

হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাসে নতুন সুবিধা

প্রকাশিত :  ১০:০৭, ২৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১১, ২৯ জুন ২০২৬

আরেকটি নতুন ফিচার নিয়ে কাজ করছে জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ । এতে স্ট্যাটাস ২৪ ঘণ্টা পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে গেলেও তা ব্যক্তিগতভাবে সংরক্ষিত থাকবে। ফলে ব্যবহারকারীদের প্রিয় মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও আর হারিয়ে যাবে না।

হোয়াটসঅ্যাপে বর্তমানে স্ট্যাটাস প্রকাশের ২৪ ঘণ্টা পর সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে মুছে যায় এবং আর দেখা যায় না। কিন্তু নতুন ফিচার চালু হলে ব্যবহারকারীরা তাদের পুরোনো স্ট্যাটাস একটি ব্যক্তিগত সংরক্ষণাগারে সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ এরই মধ্যে এই ফিচারের পরীক্ষামূলক সংস্করণ কিছু অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীর জন্য উন্মুক্ত করেছে। বিশেষ করে যারা বেটা ভার্সন ব্যবহার করছেন, তাদের মধ্যে অনেকে নতুন সুবিধাটি দেখতে পাচ্ছেন।

এই ফিচারের অন্যতম বড় সুবিধা হলো, স্ট্যাটাস আলাদা করে ডাউনলোড বা সংরক্ষণ করতে হবে না। ব্যবহারকারীর শেয়ার করা স্ট্যাটাস নির্ধারিত সময় শেষে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আর্কাইভে জমা হবে। পরে ইচ্ছা করলে সেই পুরোনো স্ট্যাটাস আবারও শেয়ার করা যাবে।

গোপনীয়তা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা রেখেছে হোয়াটসঅ্যাপ। আর্কাইভে রাখা স্ট্যাটাস কেবলমাত্র যিনি পোস্ট করেছেন তিনিই দেখতে পারবেন। অন্য কোনো ব্যবহারকারী, পূর্বে দেখে থাকলেও, সেই স্ট্যাটাস আর দেখতে পারবেন না।

নতুন এই সুবিধা ব্যবহার করতে হোয়াটসঅ্যাপের সেটিংসে গিয়ে স্টোরেজ অ্যান্ড ডাটা বিভাগে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে স্ট্যাটাস আর্কাইভ নামে একটি অপশন পাওয়া যাবে, যা চালু করলে ভবিষ্যতের স্ট্যাটাসগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত হবে।

সংরক্ষিত স্ট্যাটাস দেখতে হলে আপডেটস ট্যাবে গিয়ে উপরের তিন ডট মেনুতে ট্যাপ করতে হবে। এরপর স্ট্যাটাস আর্কাইভ অপশনে প্রবেশ করলেই পুরোনো স্ট্যাটাসগুলো দেখা যাবে।

বর্তমানে এই ফিচারটি সীমিতসংখ্যক অ্যান্ড্রয়েড বেটা ব্যবহারকারীর জন্য চালু করা হয়েছে। তবে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এটি আরও বিস্তৃত পরিসরে চালু হতে পারে। তাই সর্বশেষ আপডেট ইনস্টল করার পরও ফিচারটি না পাওয়া গেলে কিছুদিন অপেক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর