img

ফুসফুসের ক্যানসারের ইনজেকশন চালু করল ভারত, প্রতি ডোজের দাম কত

প্রকাশিত :  ০৭:৪৯, ১৮ মে ২০২৬

ফুসফুসের ক্যানসারের ইনজেকশন চালু করল ভারত, প্রতি ডোজের দাম কত

ভারতে ফুসফুসের ক্যানসার চিকিৎসায় নতুন ধরনের ৭ মিনিটের ইনজেকশন চালু করেছে রোশ ফার্মা ইন্ডিয়া। ‘টিসেন্ট্রিক’ নামের এই ইনজেকশনটি বিশেষভাবে নন-স্মল সেল লাং ক্যানসার রোগীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে। খবর এনডিটিভির।

প্রচলিত ইমিউনোথেরাপিতে রোগীদের হাসপাতালে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্যালাইনের মাধ্যমে ওষুধ নিতে হয়। তবে নতুন এই ইনজেকশন ত্বকের নিচে প্রয়োগ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগে মাত্র সাত মিনিট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে রোগীদের ভোগান্তি কমবে এবং হাসপাতালে চাপও কমবে। বিশেষ করে বয়স্ক রোগী ও দূর থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের জন্য এটি সুবিধাজনক হতে পারে।

এই চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের নাম অ্যাটেজোলিজুম্যাব। এটি পিডি-এল১ নামের একটি প্রোটিনকে ব্লক করে কাজ করে। সাধারণত ক্যানসার কোষ এই প্রোটিন ব্যবহার করে শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার আড়ালে লুকিয়ে থাকে। প্রোটিনটি বন্ধ হয়ে গেলে শরীরের প্রতিরোধ ব্যবস্থা ক্যানসার কোষ শনাক্ত করে আক্রমণ করতে পারে।

চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, যেসব রোগীর টিউমারে পিডি-এল১-এর মাত্রা বেশি, তারা এই চিকিৎসা থেকে বেশি উপকার পেতে পারেন। ধারণা করা হচ্ছে, নন-স্মল সেল লাং ক্যানসারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক রোগী এ চিকিৎসার উপযোগী হতে পারেন।

তবে নতুন এই চিকিৎসার বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর উচ্চ খরচ। প্রতি ডোজের দাম প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার ভারতীয় রুপি। অনেক রোগীর ক্ষেত্রে ছয়টি পর্যন্ত ডোজ প্রয়োজন হতে পারে। ফলে পুরো চিকিৎসা ব্যয় কয়েক কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খরচ কমাতে রোশ ফার্মা ‘ব্লু ট্রি’ নামে একটি সহায়তা কর্মসূচি চালু করেছে। এছাড়া ওষুধটি ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্প সিজিএইচএসের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাতে কিছু রোগী আর্থিক সহায়তা পেতে পারেন।

চিকিৎসকেরা বলছেন, ব্যয়বহুল হলেও দ্রুত চিকিৎসা, কম সময় হাসপাতালে থাকা এবং তুলনামূলক কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে এই প্রযুক্তিকে ক্যানসার চিকিৎসায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।


img

এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? যা বলছে গবেষণায়

প্রকাশিত :  ১০:০৬, ০৫ জুলাই ২০২৬

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগগুলোর একটি হলো- এআই কি চাকরি কেড়ে নিচ্ছে? বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর সেই আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, ছবিটা পুরোপুরি একপেশে নয়।

গবেষণা অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে বেশি বিনিয়োগ করছে তাদের অনেক ক্ষেত্রেই কর্মীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন চাকরির সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

র‌্যাম্প ও রেভেলিও ল্যাবসের যৌথ গবেষণায় প্রায় ২২ হাজার প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে দেখা গেছে, যেসব প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য নিয়মিত এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করেছে তাদের কর্মী সংখ্যা গড়ে ১০ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। শুধু প্রযুক্তি বিভাগ নয়; বিক্রয়, প্রশাসন, গ্রাহকসেবা, অর্থ, বিপণনসহ বিভিন্ন বিভাগেও কর্মী বাড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

তবে গবেষকরা বলছেন, এর অর্থ এই নয় যে এআই সব জায়গায় নতুন চাকরি তৈরি করছে। কারণ যেসব প্রতিষ্ঠান দ্রুত বাড়ছে, তারাই অনেক সময় এআই ব্যবহারেও এগিয়ে থাকে। ফলে এআইয়ের কারণে নাকি প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণে কর্মী বাড়ছে তা সব ক্ষেত্রে নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন।

এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছিল, এআইয়ের কারণে বিশেষ করে নতুন চাকরিপ্রার্থীরা বেশি ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের এক গবেষণায় বলা হয়, গত এক বছরে এআইয়ের প্রভাবে প্রতি মাসে প্রায় ১৬ হাজার চাকরি কমেছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে তরুণ ও নতুন কর্মীদের ওপর।

তবে নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, প্রযুক্তিতে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বরং নতুন কর্মীর সংখ্যা বেড়েছে। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পর্যায়ের চাকরিও প্রায় ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই শুধু মানুষের কাজ কেড়ে নেওয়ার প্রযুক্তি নয়। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রতিষ্ঠানের কাজের গতি বাড়িয়ে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। সফটওয়্যার তৈরি, ভুল সংশোধন, তথ্য বিশ্লেষণ ও নতুন পণ্য তৈরির মতো কাজে এআই ব্যবহারে খরচ কমছে এবং উৎপাদন বাড়ছে।

তবে যারা শুধু এআইয়ের সাবস্ক্রিপশন কিনে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করছে না তাদের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সুবিধা দেখা যাচ্ছে না।

গবেষকরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এআই ব্যবহারে এগিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান ও পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পার্থক্য আরও বাড়তে পারে। যেসব প্রতিষ্ঠান প্রযুক্তি ব্যবহারের দক্ষতা, বিনিয়োগ ও পরিকল্পনা তৈরি করতে পারবে তারাই বেশি সুবিধা পাবে।

অর্থাৎ এআইয়ের ভবিষ্যৎ হয়তো শুধু চাকরি কমানোর গল্প নয়; বরং যারা এআইকে কাজে লাগাতে পারবে তাদের জন্য তৈরি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার পথ।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর