img

ইবোলার নতুন স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন পেতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস: ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত :  ০৭:৫৭, ২১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৪৩, ২১ মে ২০২৬

ইবোলার নতুন স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন পেতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস: ডব্লিউএইচও

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনটির বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা তৈরি হতে আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও প্রতিবেশী উগান্ডায় নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।

গতকাল বুধবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ড. ভাসি মূর্তি জানান, বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেনি।

তিনি জানান, একটি ভ্যাকসিন বিদ্যমান ইবোলা প্রতিরোধী টিকার মতো কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমোদিত যে ইবোলা ভ্যাকসিন রয়েছে, তা শুধুমাত্র ‘জায়ার’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। তাই নতুন ভ্যাকসিন তৈরিকে দ্রুত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।’ 

আরেকটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো কোনো প্রাণীর ওপর পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি। 

ড. ভাসি মূর্তি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ ভ্যাকসিনের কিছু ডোজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধও এখনো নেই। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ইতুরি প্রদেশকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসাকর্মীদের।

এ দিন জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনকে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ১৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাস শনাক্তে বিলম্ব হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৫১টি এবং উগান্ডায় দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শনাক্ত হওয়া দুজনই ডিআর কঙ্গো থেকে সেদেশে গিয়েছিলেন, যাদের একজন মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করলেও এটিকে এখনো বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়ে নেয়নি। সংস্থাটি বলছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’, তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি এখনো ‘নিম্ন’।

ইবোলা ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গোতে প্রথম শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এটি অত্যন্ত বিরল। এর আগে মাত্র দুইবার এই প্রজাতির প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, যার একটি ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। তখন আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব কঙ্গোয় দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগের সঙ্গে ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মিল থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। 

সূত্র: বিবিসি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ডিজিটাল প্রযুক্তিতে মিলবে ভূমিসেবা, বন্ধ হবে দুর্নীতি ও হয়রানি: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৭:১১, ১৯ মে ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ভূমিসেবাকে আরও সহজ ও হয়রানিমুক্ত করতে সরকার ডিজিটাল প্রযুক্তিনির্ভর সেবা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে । তিনি বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে এই সেবা দেওয়া হবে, যাতে দুর্নীতি বা অযথা হয়রানির শিকার হতে না হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাজধানীর ভূমি ভবনে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধনের সময় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশে প্রতিটি উপজেলা, জেলা, বিভাগ ও জাতীয় পর্যায়ে ভূমিসেবা মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

ভূমির পরিকল্পিত ব্যবহার বর্তমান সময়ের জন্য অপরিহার্য মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, এই ব্যবস্থানে আরও আধুনিকায়ন ও সহজ করে জনগণকে ভূমিসেবা দিতে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।

তিন দিনব্যাপী এই ভূমিসেবা মেলা শেষ হবে আগামী বৃহস্পতিবার (২১ মে)।

এবারের মেলার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে, ‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিরাপদ ভূমি এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ’।

এ মেলা আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য হলো ভূমি সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং প্রান্তিক পর্যায়ে সেবাগুলো পৌঁছে দেওয়া।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর