img

বাংলাদেশে মেটার বার্ষিক আয় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি

প্রকাশিত :  ১৫:১০, ২৩ মে ২০২৬

বাংলাদেশে মেটার বার্ষিক আয় ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ৮ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় করে মেটা এমন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার (১৬ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘টেলিকম খাতে নতুন সরকারের ভিশন’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। সেমিনারের আয়োজন করে টেলিকম অ্যান্ড টেকনোলজি রিপোর্টার্স নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (টিআরএনবি)।

সংগঠনটির সভাপতি সমীর কুমার দে-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফকির মাহবুব আনাম। তিনি বলেন, সরকার ৫জি প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) গ্রামীণ পর্যায়ে পৌঁছে দিতে কাজ করছে। একইসঙ্গে আগামী পাঁচ বছরে এ খাতে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

সেমিনারে বক্তৃতাকালে ব্যারিস্টার শাহেদ আলম বলেন, দেশে বর্তমানে প্রায় ৭ কোটি ৩০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেন। প্রতি ব্যবহারকারীর কাছ থেকে গড়ে ১৫ ডলার আয় করে মেটা। সে হিসাবে বাংলাদেশ থেকে প্রতিষ্ঠানটির আয় দাঁড়ায় প্রায় ৭০ কোটি ডলার, যা তাদের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী নির্ধারিত। তবে দেশের অর্থনীতিতে প্রতিষ্ঠানটির দৃশ্যমান অবদান নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর টেলিযোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল মাবুদ চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী, মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (এমটব)-এর মহাসচিব মোহাম্মদ জুলফিকার, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল কবীর, বাংলাদেশ কম্পিটিশন কমিশনের সাবেক পরিচালক খালেদ আবু নাসের, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)-এর অধ্যাপক ড. লুৎফা আক্তার এবং বাংলালিংকেরর হেড অব রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স তাইমুর রহমান।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবির রেগুলেটরি অ্যান্ড করপোরেট অ্যাফেয়ার্স প্রধান সাহেদ আলম। আর স্বাগত বক্তব্য দেন টিআরএনবির সাধারণ সম্পাদক মাসুদুজ্জামান রবি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ইবোলার নতুন স্ট্রেইনের ভ্যাকসিন পেতে লাগতে পারে আরও ৯ মাস: ডব্লিউএইচও

প্রকাশিত :  ০৭:৫৭, ২১ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৪৩, ২১ মে ২০২৬

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, ইবোলার বর্তমান ‘বুন্ডিবুগিও’ ধরনটির বিরুদ্ধে কার্যকর টিকা তৈরি হতে আরও ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে। এ পরিস্থিতিতে আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্র ও প্রতিবেশী উগান্ডায় নতুন করে উদ্বেগ বেড়েছে।

গতকাল বুধবার জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) উপদেষ্টা ড. ভাসি মূর্তি এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ড. ভাসি মূর্তি জানান, বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে বর্তমানে দুটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন বা ‘ক্যান্ডিডেট ভ্যাকসিন’ নিয়ে কাজ চলছে। তবে এগুলোর কোনোটিই এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল সম্পন্ন করেনি।

তিনি জানান, একটি ভ্যাকসিন বিদ্যমান ইবোলা প্রতিরোধী টিকার মতো কার্যকর হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে অনুমোদিত যে ইবোলা ভ্যাকসিন রয়েছে, তা শুধুমাত্র ‘জায়ার’ স্ট্রেইনের বিরুদ্ধে কার্যকর। তাই নতুন ভ্যাকসিন তৈরিকে দ্রুত অগ্রাধিকার দিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান তথ্য অনুযায়ী, কার্যকর ভ্যাকসিন প্রস্তুত হতে ছয় থেকে নয় মাস সময় লাগতে পারে।’ 

আরেকটি সম্ভাব্য ভ্যাকসিন অ্যাস্ট্রাজেনেকার কোভিড-১৯ টিকার প্রযুক্তির ভিত্তিতে তৈরি করা হচ্ছে। তবে এর কার্যকারিতা নিয়ে এখনো কোনো প্রাণীর ওপর পরীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি। 

ড. ভাসি মূর্তি জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এ ভ্যাকসিনের কিছু ডোজ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য প্রস্তুত হতে পারে। তবে এটি কতটা কার্যকর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বুন্ডিবুগিও প্রজাতির বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট কোনো ওষুধও এখনো নেই। ফলে চিকিৎসা কার্যক্রম আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

ডিআর কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি ও নর্থ কিভু প্রদেশে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। ইতুরি প্রদেশকে বর্তমান প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্র হিসেবে ধরা হচ্ছে। স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা জানিয়েছেন, হাসপাতাল ও চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে রোগীর চাপ দ্রুত বাড়ছে। অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত সুরক্ষা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করতে হচ্ছে চিকিৎসাকর্মীদের।

এ দিন জেনেভায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক ড. টেড্রস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ জনকে সন্দেহভাজন ইবোলা রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে এবং ১৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ভাইরাস শনাক্তে বিলম্ব হওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তিনি জানান, ডিআর কঙ্গোতে এখন পর্যন্ত ৫১টি এবং উগান্ডায় দুটি সংক্রমণ নিশ্চিত হয়েছে। উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় শনাক্ত হওয়া দুজনই ডিআর কঙ্গো থেকে সেদেশে গিয়েছিলেন, যাদের একজন মারা গেছেন।

ডব্লিউএইচও ইতোমধ্যে পরিস্থিতিকে ‘আন্তর্জাতিক উদ্বেগের জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করলেও এটিকে এখনো বৈশ্বিক মহামারি পর্যায়ে নেয়নি। সংস্থাটি বলছে, জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে ঝুঁকি ‘উচ্চ’, তবে বৈশ্বিক পর্যায়ে ঝুঁকি এখনো ‘নিম্ন’।

ইবোলা ১৯৭৬ সালে বর্তমান ডিআর কঙ্গোতে প্রথম শনাক্ত হয়। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। বুন্ডিবুগিও স্ট্রেইন তুলনামূলক কম প্রাণঘাতী হলেও এটি অত্যন্ত বিরল। এর আগে মাত্র দুইবার এই প্রজাতির প্রাদুর্ভাব দেখা গিয়েছিল, যার একটি ২০০৭ সালে উগান্ডা এবং অন্যটি ২০১২ সালে ডিআর কঙ্গোতে। তখন আক্রান্তদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মারা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পূর্ব কঙ্গোয় দীর্ঘদিনের সংঘাত, দুর্বল স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডের মতো রোগের সঙ্গে ইবোলার প্রাথমিক উপসর্গের মিল থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। 

সূত্র: বিবিসি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর