img

যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস মনিটরিং সিস্টেমে ইরানি হ্যাকারদের হামলা, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

প্রকাশিত :  ০৮:১১, ১৬ মে ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের গ্যাস মনিটরিং সিস্টেমে ইরানি হ্যাকারদের হামলা, চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক অঙ্গরাজ্যের গ্যাস স্টেশনগুলোতে জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকের পরিমাণ পর্যবেক্ষণকারী সিস্টেমে সাইবার অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইরানি হ্যাকারদের জড়িত থাকার সন্দেহ করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন’র বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হ্যাকাররা অনলাইনে থাকা এবং পাসওয়ার্ডবিহীন অটোমেটিক ট্যাংক গেজ (এটিজি) সিস্টেমে প্রবেশ করে। কিছু ক্ষেত্রে তারা ট্যাংকের ডিসপ্লেতে দেখানো তথ্য পরিবর্তন করতে সক্ষম হলেও প্রকৃত জ্বালানির পরিমাণে কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো শারীরিক ক্ষতি বা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে মার্কিন কর্মকর্তা ও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের সিস্টেমে প্রবেশাধিকার পেলে তাত্ত্বিকভাবে কোনো হ্যাকার গ্যাস লিকের তথ্য গোপন রাখতে পারে, যা বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, অতীতে গ্যাস ট্যাংক-সংক্রান্ত সিস্টেমে হামলার ইতিহাস থাকায় ইরানকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হ্যাকাররা খুব কম ডিজিটাল প্রমাণ রেখে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার হয়তো নিশ্চিতভাবে দায়ী পক্ষ শনাক্ত করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেছেন তারা।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার নিরাপত্তা ও অবকাঠামো নিরাপত্তা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। তবে এফবিআই মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হলে এটি হবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মার্কিন অভ্যন্তরীণ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে তেহরানের সর্বশেষ হুমকি। কারণ ইরানের ড্রোন বা ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ডে পৌঁছাতে সক্ষম না হলেও সাইবার হামলার মাধ্যমে তারা চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবেও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে। সাম্প্রতিক এক জরিপে অংশ নেওয়া ৭৫ শতাংশ মার্কিন নাগরিক বলেছেন, ইরান যুদ্ধ তাদের আর্থিক অবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বহু গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এখনও পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ছাড়াই অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকিং গ্রুপগুলো এমন দুর্বল সিস্টেম খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে, যেগুলো সরাসরি তেল-গ্যাস স্থাপনা বা পানি সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত।

২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছিলেন, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস–সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা মার্কিন পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় সাইবার হামলা চালিয়ে পানি চাপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রে ইসরাইলবিরোধী বার্তা প্রদর্শন করেছিল।

সাইবার নিরাপত্তা গবেষকরা এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ইন্টারনেট-সংযুক্ত এটিজি সিস্টেমের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করে আসছেন। ২০১৫ সালে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ট্রেন্ড মাইক্রো পরীক্ষামূলকভাবে ভুয়া এটিজি সিস্টেম অনলাইনে চালু করলে দ্রুতই একটি ইরানপন্থি হ্যাকার গ্রুপ সেখানে সক্রিয় হয়ে ওঠে।

এদিকে ২০২১ সালে স্কাই নিউজের এক প্রতিবেদনে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের অভ্যন্তরীণ নথির উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়েছিল, গ্যাস স্টেশনের এটিজি সিস্টেমকে সম্ভাব্য সাইবার হামলার লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে মনে করে আসছে, সাইবার সক্ষমতায় ইরান চীন বা রাশিয়ার চেয়ে পিছিয়ে। তবে সাম্প্রতিক যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ঘটনা ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইরান একটি সক্ষম এবং অনিশ্চিত প্রতিপক্ষ।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে তেহরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক তেল-গ্যাস ও পানি সরবরাহ স্থাপনায় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া বড় মার্কিন চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইকার–এর শিপমেন্ট কার্যক্রমেও বিলম্ব ঘটেছে। এমনকি এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ইমেইলও ফাঁস করা হয়েছে।

ইসরাইলের জাতীয় সাইবার প্রতিরক্ষা সংস্থা জানিয়েছে, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইসরাইলি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের বিরুদ্ধেও ব্যাপক সাইবার হামলা চালিয়েছে তেহরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলও সামরিক অভিযানে সাইবার অপারেশন ব্যবহার করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ইসরাইলের জাতীয় সাইবার অধিদপ্তরের প্রধান ইয়োসি কারাদি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপারেশন ও মনস্তাত্ত্বিক প্রচারণার মধ্যে সমন্বয়, গতি ও ব্যাপ্তি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা এখন চাপের মধ্যে রয়েছে এবং সাইবার জগতে যেখানেই সুযোগ পাচ্ছে, সেখানেই আঘাত হানার চেষ্টা করছে।’

সাইবার বিশেষজ্ঞ অ্যালিসন উইকফের মতে, গত ১৮ মাসে ইরানের সাইবার কার্যক্রম আরও দ্রুত, আক্রমণাত্মক ও প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে। তিনি বলেন, এখন তারা দ্রুত ‘যথেষ্ট কার্যকর’ ম্যালওয়্যার তৈরি করছে এবং একই সঙ্গে তথ্য ফাঁস ও প্রচারণাভিত্তিক হ্যাকিং কার্যক্রমও বাড়িয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আরও সতর্ক করেছেন, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানের সাইবার তৎপরতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। ২০২০ সালের নির্বাচনে ভোটারদের ভয়ভীতি দেখাতে উগ্র ডানপন্থি সংগঠন ‘প্রাউড বয়েসে’–এর পরিচয় ব্যবহার করে ইরান সাইবার প্রচারণা চালিয়েছিল বলে অভিযোগ করেছিল মার্কিন কর্তৃপক্ষ।

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও ইরানি হ্যাকাররা ট্রাম্প প্রচারণা শিবিরে অনুপ্রবেশ করে অভ্যন্তরীণ নথি সংবাদমাধ্যমে পাঠিয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

সাবেক মার্কিন সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তা ক্রিস ক্রেবসের আশঙ্কা, আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনেও ইরান তথ্যভিত্তিক প্রভাব বিস্তারের অপারেশন চালাতে পারে।

তার ভাষায়, ‘রাশিয়া ও চীন যেভাবে তথ্যযুদ্ধ চালিয়েছে, ইরানও একই পথ অনুসরণ করতে পারে। কারণ এটি সস্তা, সহজে বিস্তৃত করা যায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় আরও কার্যকর হয়ে উঠছে।’


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

বাংলাদেশকে জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের সিমুলেটর হস্তান্তর পাকিস্তানের

প্রকাশিত :  ০৮:৪৩, ১৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৭, ১৬ মে ২০২৬

পাকিস্তান তাদের সেরা যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক ৩’ সিমুলেটর বাংলাদেশকে হস্তান্তর করেছে। এটিকে দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক ভারসাম্যে একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সংকেত বলে ধারনা করছেন সামরিক বিশ্লেষকরা। 

ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটিকে কেবল একটি সাধারণ উপহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি হতে পারে দুই দেশের মধ্যে বিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তির আগের একটি বড় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। 

২০২৬ সালের মে মাসে ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের বিমান বাহিনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক ‘এয়ার স্টাফ টকস'-এ পাকিস্তানের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল অংশ নেয়, যার পরই এই সিমুলেটরের বিষয়টি সামনে আসে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে যুদ্ধবিমান আসার আগেই চালকদের দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হবে, যা আগামীতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তির পথকে আরও মসৃণ করবে।

ঢাকায় অনুষ্ঠিত দুই দেশের বিমান বাহিনীর প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠকে পাকিস্তানের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন দেশটির এয়ার ভাইস মার্শাল আওরঙ্গজেব আহমেদ। 

তিনি বর্তমানে অপারেশনাল ডেপুটি চিফ অব এয়ার স্টাফ, ‘কমান্ডার স্ট্রাট্রেজিক কমান্ড’ এবং ডিরেক্টর জেনারেল পাবলিক রিলেশনস হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এই প্রতিনিধি দলে আরও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন এয়ার কমান্ডার শাহ খালিদ, এয়ার কমান্ডার আব্দুল গফুর বাজদুর, গ্রুপ ক্যাপ্টেন মাহমুদ আলী খান এবং উইং কমান্ডার হাসান তারিক আজিজ।

উচ্চপর্যায়ের এই কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ও প্রতিনিধি দলের গঠন কাঠামো দেখেই সামরিক বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট বুঝতে পারছেন যে, এই সফরটি কেবল কোনো আনুষ্ঠানিক বা সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল না। এর পেছনে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক, বাণিজ্যিক ও কৌশলগত সামরিক উদ্দেশ্য জড়িত ছিল।

উক্ত বৈঠকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা জেএফ-১৭ ব্লক ৩ বিমানের বহুমুখী যুদ্ধ সক্ষমতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।

বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তৈরি হওয়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে রাফাল বিমানের তুলনায় জেএফ-১৭ এর কার্যকারিতা কেমন ছিল, সেই তুলনামূলক চিত্রও তারা বাংলাদেশের সামনে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।

সামরিক ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রচারণার একটি বড় কৌশলগত ও ভূ-রাজনৈতিক গুরুত্ব রয়েছে। এই ধরণের রপ্তানি উদ্যোগের মাধ্যমে পাকিস্তান একই সাথে নিজেদের বাণিজ্যিক লক্ষ্য পূরণ করতে চাচ্ছে এবং অন্যদিকে আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দী ও পর্যবেক্ষকদের কাছে একটি বড় কৌশলগত বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

পাকিস্তান যে সিমুলেটরটি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, সেটি সাধারণ বা প্রাথমিক স্তরের কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নয়, বরং সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন মান বজায় রেখে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক ৩ সিমুলেটর। 

এই সিস্টেমটির মাধ্যমে পাইলটরা আসল যুদ্ধবিমানে ওঠার আগেই যেকোনো মিশন বা অভিযানের বাস্তবসম্মত মহড়া দিতে পারবেন। 

এটি মূলত আধুনিক যুদ্ধবিমানের সাথে পাইলটদের মানিয়ে নেওয়া, জটিল রণকৌশল রপ্ত করা এবং বিমান বাহিনীর সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। 

যেকোনো দেশ যখন নতুন যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্ত নেয়, তখন পাইলটদের নতুন বিমানের জন্য দক্ষ করে তুলতে সবচেয়ে বেশি সময় লাগে। এই কারণেই সিমুলেটর হস্তান্তরের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত তাৎপর্য বহন করে।

বিমানগুলো সশরীরে বিমান বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার আগেই এই সিমুলেটরের সাহায্যে পাইলটরা এর ভেতরের পুরো পরিচালনা পদ্ধতি এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার সাথে পুরোপুরি পরিচিত হতে পারবেন। এই আগাম প্রস্তুতির ফলে পরবর্তীতে মূল ফাইটার জেটগুলো যখন স্কোয়াড্রনে যুক্ত হবে, তখন আর পাইলটদের নতুন করে তৈরি করার বাড়তি কোনো সময় লাগবে না। 

এর পাশাপাশি, এই সিমুলেটরের মাধ্যমে বিমানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী এবং টেকনিশিয়ানরাও এই যুদ্ধবিমানের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম সম্পর্কে বাস্তব ধারণা পেয়ে যাবেন। ফলে পরবর্তীতে বিমান বহরে নতুন ফাইটার জেট যুক্ত হওয়ার পর প্রাতিষ্ঠানিক কাজের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাড়তি জটিলতা বা ধীরগতি তৈরি হবে না।

আধুনিক সামরিক বাহিনীগুলো এখন যুদ্ধবিমান ক্রয়ের ক্ষেত্রে এই ধরনের সিমুলেটর সিস্টেমকে অনেক বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। কারণ একটি উন্নত প্রযুক্তির যুদ্ধবিমান সফলভাবে পরিচালনার জন্য পাইলট, প্রকৌশলী এবং মাঠ পর্যায়ের সহায়ক অবকাঠামো—সবার সমান এবং সমন্বিত প্রস্তুতি থাকা জরুরি। একটি আধুনিক যুদ্ধবিমান বিমান বহরে যুক্ত করার জন্য কেবল বিমানটি কিনলেই চলে না; এর সাথে রক্ষণাবেক্ষণ নীতি এবং মানবসম্পদকে দক্ষ করে তোলার মতো বিশাল লজিস্টিকস প্রক্রিয়া জড়িত থাকে। 

সেই দিক থেকে বিবেচনা করলে, এই সিমুলেটর হস্তান্তর প্রক্রিয়াটি জটিল ও বহুমুখী যুদ্ধবিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত আলোচনার একটি স্বাভাবিক ও অন্যতম প্রধান ধাপ। 

ফলে, এই সিমুলেটরটিকে কেবল একটি বিচ্ছিন্ন সামরিক অনুদান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি হতে পারে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে আগামীতে হতে যাওয়া একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিমান ক্রয় চুক্তির সবচেয়ে প্রাথমিক এবং কার্যকরী একটি ধাপ।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর