img

ইরান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলার আশঙ্কা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৮, ০৬ মার্চ ২০২৬

ইরান সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্রে সাইবার হামলার আশঙ্কা

সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সাইবার হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। নিরাপত্তা জোরদার করে বিভিন্ন লেনদেন ব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

সাম্প্রতিক বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও পড়তে শুরু করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার সময় সাইবার হামলার ঝুঁকি স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক সেবা খাত দেশটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর অংশ। অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থা, লেনদেন নিষ্পত্তি, শেয়ারবাজারের ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এটি সাইবার হামলাকারীদের প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

শিল্পসংগঠন এসআইএফএমএ–এর সাইবার ও প্রযুক্তি বিভাগের ব্যবস্থাপনা পরিচালক টড ক্লেসম্যান বলেন, আর্থিক খাত সব সময়ই সতর্ক থাকে। তবে বৈশ্বিক ঝুঁকি বাড়লে নিরাপত্তা প্রস্তুতিও আরও জোরদার করা হয়। বড় ধরনের সাইবার জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় নিয়মিত মহড়াও চালানো হয়।

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার এক মূল্যায়নে বলা হয়েছে, ইরান-সমর্থিত অনলাইন গোষ্ঠীগুলো তুলনামূলক কম মাত্রার সাইবার হামলা চালাতে পারে। বিশেষ করে ‘বিতরণকৃত সেবা অস্বীকৃতি’ বা ডিডিওএস ধরনের হামলার আশঙ্কা রয়েছে, যেখানে বিপুল পরিমাণ ইন্টারনেট ট্রাফিক নির্দিষ্ট সার্ভারে পাঠিয়ে সেটিকে অচল করে দেওয়া হয়।

ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মর্নিংস্টার ডিবিআরএস সতর্ক করে বলেছে, দীর্ঘ সময় ধরে তেলের উচ্চ মূল্য এবং ঋণগ্রহীতাদের আর্থিক চাপ বৈশ্বিক ব্যাংক ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এর সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

এদিকে বিনিয়োগ ব্যাংক লাজার্ডের ভূরাজনৈতিক পরামর্শক দল জানিয়েছে, অতীতে ইরান বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও আর্থিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে সাইবার সক্ষমতা ব্যবহারের ইঙ্গিত দিয়েছে।

শিল্পভিত্তিক তথ্য বিনিময় সংস্থা এফএস-আইএসএসি এর ২০২৫ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালে সাইবার হামলার প্রধান লক্ষ্য ছিল আর্থিক খাত। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব ইউরোপের যুদ্ধ পরিস্থিতির সময় অনলাইন হামলার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক যুদ্ধে সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি সাইবার পরিসরও গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাই প্রযুক্তিগত সুরক্ষা জোরদার, বিকল্প ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখা এবং কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এখন আর্থিক খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

ফরেনসিক অডিটে মিলল প্রিমিয়ার ব্যাংকের ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকার দুর্নীতি

প্রকাশিত :  ১২:২৩, ০৯ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫৭, ০৯ এপ্রিল ২০২৬

প্রিমিয়ার ব্যাংক থেকে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত  মোট ৩ হাজার ৮৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে একটি ফরেনসিক অডিট প্রতিবেদনে দেখা গেছে।  অতিরিক্ত অফিস ভাড়া দেখানো, সিএসআর তহবিলের অপব্যবহার, খতিয়ানে কারসাজি, ক্রয় প্রক্রিয়ার অপব্যবহার এবং ভুয়া সংস্কার ব্যয় দেখানোর মাধ্যমে এই অর্থ আত্মাসাৎ করা হয় বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট প্রতিষ্ঠান এমএবিএস অ্যান্ড জে পার্টনারস এই ফরেনসিক নিরীক্ষা পরিচালনা করে। ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ব্যাংক-এর নির্দেশনার পর বর্তমান বোর্ডের অনুমোদনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রতিবেদন জমা দেয়।

তদন্তে দেখা যায়, ব্যাংকের জেনারেল সার্ভিসেস ডিভিশন, ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিভিশন এবং বনানী শাখার মাধ্যমে এই অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। নিরীক্ষা অনুযায়ী, ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান এইচবিএম ইকবাল, তার দুই ছেলে সাবেক পরিচালক মঈন ইকবাল ও ইমরান ইকবাল, কয়েকজন সাবেক পরিচালক ও শীর্ষ কর্মকর্তাসহ ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অফিস ভাড়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অনিয়ম হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইকবাল পরিবারের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে উচ্চমূল্যে চুক্তির মাধ্যমে ৪০৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকার বেশি আত্মসাৎ করা হয়। বাজারদর যেখানে প্রতি বর্গফুট ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, সেখানে ইকবাল সেন্টারের জন্য ৩৫০ থেকে ৫০৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হয়েছে। এতে ব্যাংকের মোট আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় ২ হাজার ৭১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

এছাড়া সিএসআর, প্রচারণা, বিজ্ঞাপন ও ব্যবসা উন্নয়ন খাতে অনিয়মের মাধ্যমে ৬০৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ১২৮ কোটি টাকার সিএসআর ব্যয়ের মধ্যে কম্বল, ত্রাণ ও দানের বড় অংশ বাস্তবে বিতরণ হয়নি। পাঁচটি ভেন্ডর অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৭৪ কোটি ৪৯ লাখ টাকা সরানোর তথ্যও পাওয়া গেছে।

ফরেনসিক প্রতিবেদনে ‘সান্ড্রি ডেবটরস’ অ্যাকাউন্টকে অর্থ আত্মসাতের প্রধান চ্যানেল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এখান থেকে ৬৬৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা ভেন্ডর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ২২টি ভেন্ডর ও একটি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ৬৫৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।

প্রিন্টিং ও স্টেশনারি খাতে ১২৯ কোটি ৩৬ লাখ টাকা খরচ দেখানো হলেও প্রকৃত সরবরাহ ছিল মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। এতে ৮১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাৎ হয়েছে, যার বড় অংশ একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বেশি দামে বিল দেখিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল)-এর খুলনা টাইগার্স ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্ট ব্যয়ে ৪৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। যেখানে প্রকৃত খরচ ছিল মাত্র ৬ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড-এ ৩ কোটি ৩৫ লাখ টাকা প্রদান করা হলেও বাকি অর্থ অনিয়মের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয়।

নিরীক্ষায় আরও উঠে এসেছে, অফিস ইন্টেরিয়র, নির্মাণ, সংস্কার, ব্যবসা উন্নয়ন, টেলিভিশন বিজ্ঞাপন ও ভবন মেরামতের খরচের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ অতিরিক্ত বা ভুয়া ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে।

এদিকে, প্রতিবেদন অনুযায়ী আত্মসাৎ হওয়া অর্থ উদ্ধারে ব্যাংকটি ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করেছে। ১১ মার্চ প্রিমিয়ার ব্যাংক ফাউন্ডেশনের নামে ৩৫ কোটি টাকার একটি মামলা করা হয়। এছাড়া ১৫ মার্চ অফিস ভাড়া ও ভেন্ডর খাতে আত্মসাৎ হওয়া ৩ হাজার ৫৩ কোটি ৭৯ লাখ টাকা উদ্ধারে আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, এইচবিএম ইকবাল সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন এবং ১৯৯৯ সালে ব্যাংকটি প্রতিষ্ঠার পর টানা ২৬ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে তিনি পদত্যাগ করেন। ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর