img

সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা

প্রকাশিত :  ১২:০৮, ১২ এপ্রিল ২০২৬

সংশোধন হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের করা টেলিকম নীতিমালা

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে প্রণীত ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’  অংশীজনদের ব্যাপক আপত্তি ও দেশি উদ্যোক্তাদের প্রতি বৈষম্যের অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে সংশোধনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। 

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, তথ্য এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় মিলে একটি ক্লাস্টার গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নীতিমালা সংশোধনের কাজ বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রণীত এই নীতিমালায় টেলিকম খাতের লাইসেন্সগুলোকে তিন স্তরে নামিয়ে আনা হলেও এর বিভিন্ন ধারা নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিশেষ করে ক্ষমতাসীন দল বিএনপি এই নীতিমালাকে একতরফা এবং বড় কোম্পানিগুলোর স্বার্থরক্ষাকারী হিসেবে অভিহিত করে এর আমূল পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিল।

নীতিমালাটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এতে ৬৫ শতাংশ বিদেশি বিনিয়োগ রয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সব স্তরে ব্যবসা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে মোবাইল অপারেটরদের বিদেশি মালিকরা চাইলে গ্রাহক পর্যায়ে সেবার পাশাপাশি টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক নির্মাণের মতো অবকাঠামো খাতেও বিনিয়োগ করতে পারবে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, একই ধরনের সুবিধা দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য রাখা হয়নি। 

এমনকি টাওয়ার বা এনটিটিএন লাইসেন্সধারী দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাবমেরিন ক্যাবলসহ আন্তর্জাতিক অন্যান্য পরিষেবা খাতে লাইসেন্স না দেওয়ার বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এই বৈষম্যমূলক নীতির কারণে দেশি ছোট ও মাঝারি কোম্পানিগুলো বড় টেলিকম জায়ান্টদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবে না বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খাত সংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, বাংলাদেশের টেলিকম খাতের মোট রাজস্বের ৮০ শতাংশই বর্তমানে মোবাইল অপারেটরদের দখলে। বাকি ২০ শতাংশ রাজস্বের জন্য ব্রডব্যান্ড সেবাদাতা এবং অবকাঠামো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো লড়াই করছে। ফাইবার অ্যাট হোমের চিফ ইনফরমেশন অফিসার সুমন আহমেদ সাবির এবং সামিট কমিউনিক্যাশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ আল ইসলামের মতে, মোবাইল অপারেটররা যদি সরাসরি ফাইবার ও অবকাঠামো খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে, তবে ন্যাশনাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যান্ড কানেক্টিভিটি সার্ভিস প্রোভাইডারদের (এনআইসিএসপি) ব্যবসা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়বে। 

এমনকি ব্রডব্যান্ড সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি-র সভাপতি আমিনুল হক দাবি করেছেন, নীতিমালায় মোবাইল অপারেটরদের বাসাবাড়িতে ইন্টারনেট দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা সাধারণ ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের অস্তিত্ব সংকটে ফেলবে।

রাজনৈতিক মহলেও এই নীতিমালা নিয়ে তীব্র সমালোচনা দেখা দিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছিলেন যে, নীতিমালায় নতুন প্রযুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই এবং এটি বড় কোম্পানিগুলোকে অন্যায্য সুযোগ দিচ্ছে। 

এমন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে রবির চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলমও যৌক্তিক সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, পুরো নীতিমালা ঢেলে না সাজিয়ে যেসব সুনির্দিষ্ট ধারায় সমস্যা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত সমাধান করা উত্তম হবে। সরকারের পক্ষ থেকে নীতিমালা সংশোধনের এই আশ্বাস টেলিকম খাতের দেশি বিনিয়োগকারী ও ছোট উদ্যোক্তাদের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

মহাকাশ ও ভূ-অবস্থানভিত্তিক সমস্যা ও সম্ভাবনার তথ্য গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচণে অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ে অত্যাধুনিক গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন

প্রকাশিত :  ১৯:৩০, ২৭ মে ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২০:১৫, ২৭ মে ২০২৬

ঢাকা, ২৬ মে: বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূ-অবস্থানভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ, গ্রহবিজ্ঞান এবং মহাকাশ প্রযুক্তি বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

“এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স, প্ল্যানেটারি সায়েন্স অ্যান্ড স্পেস সিস্টেমস” গবেষণা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন সাবেক বিজ্ঞান ও তথ্য-যোগাযোগপ্রযুক্তি মন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, এমপি। 

অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. মঈন খান বলেন, দেশের প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণায় তরুণ প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে এ ধরনের উদ্যোগ সময়োপযোগী ও দূরদর্শী পদক্ষেপ। অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যালয় এই উদ্যোগ প্রথম নিয়েছে বলে মনে হয়। এর মাধ্যমে নানা সংকট ও সম্ভাবনা দ্রুত গবেষণার মাধ্যমে সমাধান করার পথ উন্মুক্ত হবে। বন্যা বা দুর্যোগ প্রবণ বাংলাদেশে এর অঞ্চল ভিত্তিক প্রভাব যাচাই করে বা অপরাধপ্রবণ এলাকার ডেটা ম্যাপিং করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্র সৃষ্টি হবে এ ধরণের গবেষণা কেন্দ্রের মাধ্যমে। 

নবনির্মিত ‘এডাস্ট সেন্টার ফর জিওস্পেশাল ইন্টেলিজেন্স’ মূলত স্যাটেলাইট ডেটা ও ভৌগোলিক ম্যাপ ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের দুর্যোগ পূর্বাভাস, স্মার্ট নগর পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষি ও জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।   

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ইমাদুর রহমান। তিনি জিওস্পেশাল প্রযুক্তি, স্যাটেলাইট ডেটা এবং মহাকাশভিত্তিক গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটির স্কুল অব আর্থ অ্যান্ড প্ল্যানেটারি সায়েন্সেস-এর পরিচালক ড. মার্টিন ভ্যান ক্রানেনডক, উপ-পরিচালক ড. ক্যাটারিনা মিলকোভিক এবং পরিচালক (গবেষণা) ড. আশরাফ দেওয়ান। তারা আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং উচ্চশিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতীশ দীপঙ্কর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান এম শামসুল আলম লিটন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণামুখী কার্যক্রম সম্প্রসারণে এ কেন্দ্রের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয় ও অতীশ দীপঙ্কর বিশ্ববিদ্যলয়ের মধ্যে সহযোগিতা দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্য সচিব জনাব মোঃ কামরুজ্জামান লিটু ও সদস্য জনাব কামরুন নেহার।

আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের এডভাইজর, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী, গবেষক ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।-প্রেস বিজ্ঞপ্তি


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর