img

জলবায়ু গত পরিবর্তনে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যাদের প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৪:৫৭, ০২ মে ২০২৬

জলবায়ু গত পরিবর্তনে ২০৫০ সাল নাগাদ বিশ্বের ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যাদের প্রায় ২ কোটি বাংলাদেশের

সিনিয়র রিপোর্টার সৈয়দ আমান উল্লাহ: বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত অভিবাসনের অভিযোজন চ্যালেঞ্জ স্থানীয় নেতৃত্বের সমাধান বিষয়ক কর্মশালয় হয়েছে রাজধানী সিডাপ মিলনায়তনে। সেখানে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেট মুভমেন্ট রিসার্চ ( রামরু) এই আয়োজনে, বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিবেদনের উল্লেখ করে,

রামরুর নির্বাহী পরিচালক ডক্টর তাসলিম সিদ্দিক বলেন, ২০৫০ সাল নাগাদ ২৫ কোটি মানুষ স্থানচ্যুত হবে, যার ৪ কোটি রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ায়, এরমধ্যে বাংলাদেশে স্থানচ্যুত হবে ১ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষ। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন এই বিশেষজ্ঞ, তিনি বলেন যেখানে ইন্ডাস্ট্রি সেখানে কাজয়, সেখানে লো রেন্টাল হাউজিং দরকার, আর কিচ্ছু দরকার নাই।  তার চেয়ে আমরা যদি লো রেন্টালে তাদের, যেখানে ইন্ডাস্ট্রি সেখানে হাউসিং প্রোভাইড করতে পারি, তাহলে কিন্তু হচ্ছে। তাহলে আমাদের হাউসিং তৈরি করতে হবে, সরকার বলতে পারে আমাদের টাকা নাই, তাহলে গুচ্ছগ্রাম আশ্রয়ন কেন বানাচ্ছো, তা না বানিয়ে এইখানে বানান। আর এ থেকে উত্তরণের জন্য গ্রাম ও শহর ভিত্তিক সঠিক ব্যবস্থাপনা নেওয়ার খুব জরুরী।

সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতার কারণে জলবায়ু অভিবাসীদের সংকট ও সম্ভাবনা নিয়ে কাঠামোগত পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়নি, 

মন্ত্রী আরো বলেন, আমাদেরকে ক্লাইমেট চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে, বিজ্ঞান এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর বাইরে এমন কোন গ্রহ আবিষ্কার করতে পারেনি, যে এখানে সমস্যা হলে সবাই মিলে সেই গ্রহে চলে যাব , বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত এতটা শক্তিশালী হয়নি, অতএব আমাদের জন্য পথ একটাই খোলা আছে এই গ্রহকে বাসযোগ্য করতে হবে, বাসযোগ্য রাখতে হবে।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি  বলেন, স্থানীয় মানুষদের নিয়ে পরিকল্পনা নেই বলে তারা শহরে পেট্টন প্লান    সংকটে পড়ে, সমাধানে কাঠামোগত পরিবর্তন দরকার বলেও উল্লেখ করেন ।

তিনি আরো বলেন, সরকার শেষ চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য সর্বোত্তম ভাবে চেষ্টা ও প্রস্তুতি গ্রহণ করছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য পরিস্থিতিকে ভয়াবহ রূপ দিতে পারে। বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে অতিরিক্ত ৪ কোটি ১০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়তে পারে, যারা মূলত ‘জলবায়ু-প্ররোচিত’ আয়ের ক্ষতির কারণে দারিদ্র্যের নতুন শিকার হবে।

শুধু দক্ষিণ এশিয়াতেই ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ মানুষ চরম দারিদ্র্যের মধ্যে পড়ে যেতে পারে। আর ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ১৪ কোটি ৮৮ লাখে।

বিশ্বব্যাংক আর জানিয়েছে, সাহারা-উপসাহারীয় আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চল হবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। এসব অঞ্চলের দুর্বল অর্থনৈতিক কাঠামো, সীমিত সামাজিক সুরক্ষা এবং বারবার চরম আবহাওয়ার ধাক্কায় পরিস্থিতি হবে ভয়াবহ। স্থানীয় সরকার ও নাগরিকদের পক্ষে এই অভিঘাত সামলানো হয়ে উঠবে চরম দুরূহ।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ধনী দেশগুলোকে অবশ্যই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের বড় অংশের জন্য দায়ী এই দেশগুলোকে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে আর্থিক সহায়তা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অভিযোজনে সাহায্য করতে হবে।

বিশ্বব্যাংক সুস্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে—জলবায়ু পরিবর্তন যদি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনা যায়, তবে তা আগামী কয়েক দশকে বৈশ্বিক দারিদ্র্য হ্রাসের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াবে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

এআই ক্যামেরায় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর

প্রকাশিত :  ১৪:৩৫, ১৪ জুন ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের জন্য শেষ পর্যন্ত কাল হলো বিমানবন্দরের আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি। লন্ডন থেকে যাত্রা করে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পরই তার পরিচয় শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা যায়, লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রা করছিলেন বেনজীর আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর। তবে দুবাই বিমানবন্দরের এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্ক্যানিং সিস্টেমে তার মুখমণ্ডল শনাক্ত হয় এবং তা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পরে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট বিষয়টি যাচাই করে তাকে হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পরপরই নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

দুবাই পুলিশের বরাতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি তিনি (বেনজীর) লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা ইন্টারপোল সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিল করতে হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং পাসপোর্ট আইনের একাধিক ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুদকের মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্টারপোলের সহায়তায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।

তার মতে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব—এ ঘটনাই তার প্রমাণ।

এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ইন্টারপোল ও দুবাই পুলিশের সমন্বয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর