img

হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়ে আসছে পোল্যান্ড

প্রকাশিত :  ০৯:৪৭, ০৭ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২০, ০৭ মার্চ ২০২৬

হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন নিয়ে আসছে পোল্যান্ড

পোল্যান্ডে প্রথমবারের মতো হাইড্রোজেনচালিত যাত্রীবাহী ট্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেশটির রেলগাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পেসা বিদগোশ্চ এসএ এই ট্রেন তৈরির কাজ শুরু করবে।

দেশটির পরিবেশ সুরক্ষা ও পানি ব্যবস্থাপনা তহবিল প্রকল্পটি বাস্তবায়নে আর্থিক সহায়তা দেবে। জাতীয় পুনরুদ্ধার ও সহনশীলতা পরিকল্পনার আওতায় এ অর্থায়ন করা হচ্ছে।

প্রকল্পটির মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১০৮ মিলিয়ন পোলিশ জ্লোটি। এর মধ্যে প্রায় ৩৬ মিলিয়ন জ্লোটি সরকারি সহায়তা হিসেবে দেওয়া হবে।

এই প্রকল্পের আওতায় একটি হাইড্রোজেন ইলেকট্রিক মাল্টিপল ইউনিট ধরনের যাত্রীবাহী ট্রেন তৈরি করা হবে। ট্রেনটিতে তিন ধরনের শক্তির উৎস থাকবে ওভারহেড বৈদ্যুতিক লাইন, হাইড্রোজেন ফুয়েল সেল ও ব্যাটারি। ফলে এটি বিদ্যুতায়িত ও অবিদ্যুতায়িত দুই ধরনের রেলপথেই চলতে পারবে।

পোল্যান্ডের জলবায়ু ও পরিবেশমন্ত্রী পাউলিনা হেনিগ-ক্লোস্কা বলেন, পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিবহন খাতে বড় পরিবর্তন আনতে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকল্পের অংশ হিসেবে ট্রেনটির প্রযুক্তিগত নকশা তৈরি করা হবে এবং একটি পরীক্ষামূলক ট্রেন নির্মাণ করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পোল্যান্ডের প্রায় ৪০ শতাংশ রেলপথ এখনো বিদ্যুতায়িত নয়। তাই কম দূষণকারী হাইড্রোজেনচালিত ট্রেন ভবিষ্যতে ডিজেলচালিত ট্রেনের কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

এ ছাড়া ভবিষ্যতে ২৫টি হাইড্রোজেনচালিত লোকোমোটিভ উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব ট্রেন চালু হলে বছরে প্রায় সাত হাজার ছয়শ টনের বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

রামিসা হত্যা মামলা: ফরেনসিক রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত মিলেছে

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ২৪ মে ২০২৬

রাজধানীর ঢাকার পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ফরেনসিক রিপোর্ট প্রস্তুত হয়েছে। ফরেনসিক রিপোর্টে মৃত্যুর আগে রামিসাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া ডিএনএ প্রোফাইলিং এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে সোহেল রানাই ধর্ষণ করেছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

গতকাল শনিবার (২৩ মে) শিশুটির ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং শিশু ও অভিযুক্ত ব্যক্তির ডিএনএ নমুনা পরীক্ষা করে প্রতিবেদন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক ইউনিট থেকে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনও তদন্তকারী কর্মকর্তাকে দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ পত্রের ড্রাফট তৈরি করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) আদালতে অভিযোগপত্রটি জমা দেওয়া হতে পারে। সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানা গত বুধবার আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন। জবানবন্দিতে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার বর্ণনাও দেন তিনি।

রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম ঈদের পর শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৩ মে) এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

রামিশা হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান যুগান্তরকে জানিয়েছেন, ফরেনসিক রিপোর্টে এসেছে যে তাকে মৃত্যুর আগে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে। রামিসাকে ধর্ষণের পরই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র জমার জন্য যা যা কাজ আছে তা প্রায় সম্পূর্ণ হয়েছে। সরকার ঘোষিত রোববারের মধ্যেই অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রোববারের ভেতরে অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার জন্য কাজ করছি। এখানে অনেকগুলো বিষয় আছে, আমরা সেগুলো প্রসেস করছি। তারপর কারিগরি বিষয় আছে। অভিযোগপত্রতো আগের মতো হাতে লেখা হয় না। এইটা সিডিএমএসে এন্ট্রি দিতে হবে। সরকার ঘোষিত সময়ের মধ্যে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।

মামলার বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ

রামিসা হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্নের লক্ষ্যে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর নিয়োগ দিয়েছে আইন মন্ত্রণালয়। এ বিষয়ে শনিবার (২৩ মে) মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৯২ ধারার বিধান মতে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন পল্ল­বী থানার মামলাটি রাষ্ট্রপক্ষে পরিচালনার জন্য অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলুকে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

উলে­খ্য, গত ১৯ মে পল্ল­বী থানার একটি বাসায় পপুলার মডেল হাইস্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ফুসে ওঠে সারা দেশ। খুনীর বিচার দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ। রামিসাদের বাসার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করতে থাকে তারা। রাজধানীসহ সারা দেশে টানা আন্দোলন চলছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও রামিসাদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে শান্তনা দিয়েছেন।

এদিকে ঘটনার পরদিন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্ল­বী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামি করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। গত বুধবার আদালতে তোলা হলে সোহেল নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। তিনি এও জানান, ঘটনার আগে তিনি ইয়াবা সেবন করেছিলেন।

একইদিন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর