img

ফোন হারালেও দূর থেকেই যেভাবে ডিলিট করতে পারবেন নিজের ছবি-ভিডিও

প্রকাশিত :  ০৮:৩৪, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ফোন হারালেও দূর থেকেই যেভাবে ডিলিট করতে পারবেন নিজের ছবি-ভিডিও

স্মার্টফোন এখন শুধু কল বা মেসেজের যন্ত্র নয়—এতে জমা থাকে ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও, গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট, ব্যাংকিং অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মতো সংবেদনশীল তথ্য। ফোন হারানো বা চুরি হলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি এসব ডাটার নিরাপত্তা। তবে সুখবর হলো, ফোন হাতে না থাকলেও দূর থেকেই পুরো ডাটা ডিলিট করা সম্ভব। 

চলুন, জেনে নেওয়া যাক ফোন হারালে কীভাবে দূর থেকেই ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ডিলিট করার নিয়ম—

অ্যান্ড্রয়েড ফোন হারালে করণীয়

অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য গুগলের Find My Device সেবা বেশ কার্যকর। ফোনে আগে থেকেই গুগল অ্যাকাউন্ট লগইন ও ইন্টারনেট চালু থাকতে হবে। অন্য কোনো ফোন বা কম্পিউটার থেকে ব্রাউজারে গিয়ে Find My Device ওপেন করে নিজের গুগল অ্যাকাউন্টে লগইন করুন। হারানো ফোনটি সিলেক্ট করে ‘Erase Device’ অপশনে ক্লিক করলেই ছবি, ভিডিওসহ সব ডাটা স্থায়ীভাবে মুছে যাবে।

আইফোন হারালে যেভাবে ডাটা মুছবেন

আইফোন ব্যবহারকারীরা Find My iPhone ফিচার ব্যবহার করতে পারেন। আইক্লাউডে অ্যাপল আইডি লগইন ও ফিচারটি অন থাকতে হবে। অন্য ডিভাইস থেকে iCloud.com এ গিয়ে অ্যাপল আইডি দিয়ে লগইন করুন, ‘Find Device’ অপশনে হারানো আইফোন নির্বাচন করে ‘Erase iPhone’ চাপুন। এতে ফোনের সব ব্যক্তিগত তথ্য ডিলিট হয়ে যাবে।

ক্লাউড ব্যাকআপ থাকলে দুশ্চিন্তা কম

যদি আগে থেকেই গুগল ফটোস বা আইক্লাউড ব্যাকআপ চালু থাকে, তাহলে ফোন থেকে ডাটা মুছে গেলেও ক্লাউডে থাকা ছবি-ভিডিও নিরাপদ থাকবে। নতুন ফোনে লগইন করলেই সেগুলো আবার পাওয়া যাবে।

অ্যাকাউন্ট ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন

ফোন হারানোর পর দ্রুত গুগল বা অ্যাপল আইডির পাসওয়ার্ড বদলানো জরুরি। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ ও ই-মেইল থেকে লগআউট করুন, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট সাময়িকভাবে ব্লক করুন এবং সিম কার্ড বন্ধ করতে অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

আগাম সতর্কতাই সেরা সুরক্ষা

ফোন হারানোর ঝুঁকি কমাতে আগে থেকেই Find My Device/Find My iPhone চালু রাখা, শক্তিশালী স্ক্রিন লক ব্যবহার, নিয়মিত ক্লাউড ব্যাকআপ এবং গুরুত্বপূর্ণ ফাইল এনক্রিপ্ট করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

এআই ক্যামেরায় শনাক্তের পর গ্রেপ্তার হলেন বেনজীর

প্রকাশিত :  ১৪:৩৫, ১৪ জুন ২০২৬

দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের জন্য শেষ পর্যন্ত কাল হলো বিমানবন্দরের আধুনিক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) নির্ভর ফেস রিকগনিশন প্রযুক্তি। লন্ডন থেকে যাত্রা করে এশিয়ার একটি দেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার পথে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পরই তার পরিচয় শনাক্ত হয় বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

জানা যায়, লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রা করছিলেন বেনজীর আহমেদ। পরিকল্পনা ছিল দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে চূড়ান্ত গন্তব্যে পৌঁছানোর। তবে দুবাই বিমানবন্দরের এআইভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার স্ক্যানিং সিস্টেমে তার মুখমণ্ডল শনাক্ত হয় এবং তা আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে ইন্টারপোলের সতর্কতা সংকেত সক্রিয় হয়ে ওঠে।

পরে দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় ইউনিট বিষয়টি যাচাই করে তাকে হেফাজতে নেয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, প্রযুক্তিগত শনাক্তকরণের পরপরই নিরাপত্তা প্রক্রিয়া অনুসরণ করে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষ, ইন্টারপোল কিংবা বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি।

দুবাই পুলিশের বরাতে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এক কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, সম্প্রতি তিনি (বেনজীর) লন্ডন থেকে সিঙ্গাপুর বা থাইল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হন। নির্ধারিত ফ্লাইটে দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ট্রানজিটে নামার পর অন্য যাত্রীর মতোই ইমিগ্রেশন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আসেন তিনি।

পুলিশের ওই কর্মকর্তার দাবি, বিমানবন্দরের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) ক্যামেরা তার মুখমণ্ডল স্ক্যান করে। স্ক্যানের তথ্য আন্তর্জাতিক অপরাধীদের ডেটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হলে বেনজীর আহমেদের নামে থাকা ইন্টারপোল সতর্কতা সংকেত (নোটিশ) সামনে আসে। এরপর দুবাই পুলিশের ইন্টারপোল সমন্বয় শাখা বিষয়টি যাচাই করে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই তাকে আটক করে। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এদিকে বিষয়টি নিয়ে রোববার জাতীয় সংসদে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত সাবেক আইজিপিকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ইন্টারপোলসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে।

তিনি জানান, গত ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানানো হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ফেডারেল আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে প্রত্যর্পণ আবেদন দাখিল করতে হয়। সেই সময়সীমার মধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে কূটনৈতিক চ্যানেলে আবেদন পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।

সংসদে দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বেনজীর আহমেদ-এর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং পাসপোর্ট আইনের একাধিক ধারায় মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুদকের মামলার নথি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এক্সট্রাডিশন প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, ইন্টারপোলের সহায়তায় সাবেক আইজিপি বেনজীরের গ্রেপ্তার বাংলাদেশ পুলিশের একটি ঐতিহাসিক সাফল্য।

তার মতে, অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব—এ ঘটনাই তার প্রমাণ।

এর আগে পুলিশ সদরদপ্তরের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাও ইন্টারপোল ও দুবাই পুলিশের সমন্বয়ে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর