img

জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

প্রকাশিত :  ০৬:৩৫, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইটে সাইবার হামলা

বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা সতর্কতার কারণে আগেভাগেই সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হলেও সাইবার হামলার শিকার হয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট। সাইটটির অন্তত দুটি স্থানে স্প্যাম ও হামলার চিহ্ন শনাক্ত হওয়ার পর নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে কাজ করছেন ব্যাংকের তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিভাগের কর্মীরা। ফলে ছুটি শেষে রোববার (২৫ অক্টোবর) ব্যাংকিং কার্যক্রম শুরু হলেও বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি সচল করা সম্ভব হয়নি।

জনতা ব্যাংকের আইটি বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়েবসাইটের দুটি স্থানে হামলার আলামত পাওয়া গেছে। ত্রুটিগুলো শনাক্ত করে সাইটটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ চলছে। আজকের মধ্যেই ওয়েবসাইটটি পুরোপুরি নিরাপদ করে চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

এদিকে ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদ শূন্য থাকায় এ বিষয়ে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। গত ১৯ অক্টোবর জনতা ব্যাংকের তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক মজিবুর রহমানের নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার। পরদিন দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ব্যাংক খাতে টানা পাঁচ দিনের ছুটি শুরু হয়।

এর আগে, বহুল ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপি (PHP)-তে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর বৈশ্বিক সাইবার হামলার আশঙ্কায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা এনিসা (ENISA) ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গত ২১ অক্টোবর যৌথ সতর্কতা জারি করে। সতর্কবার্তায় বলা হয়, এসব ত্রুটির সুযোগ নিয়ে হ্যাকাররা আক্রান্ত সার্ভারে দূর থেকে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে। দ্রুত নিরাপত্তা প্যাচ বা হালনাগাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলোর ইন্টারনেট সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এই সতর্কতার পরিপ্রেক্ষিতে বাড়তি নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গত বৃহস্পতিবার থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ও জনতা ব্যাংকের ওয়েবসাইট সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। ছুটি শেষে রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট চালু করা হলেও ম্যালওয়্যার সংক্রমণের কারণে জনতা ব্যাংকের সাইটটি তখনও সচল করা সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর

img

প্রথম ইউনিটের ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন, রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ প্রয়োজনীয় সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন মিললেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক পর্যায় ‘সি স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপে প্রবেশ করবে ইউনিটটি।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে। তবে এ কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে।

এদিকে, রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফররত উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৃহস্পতিবার রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এসময় প্রতিনিধিদল মন্ত্রীকে প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের ক্রিটিক্যাল পর্যায়সহ সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ২০-২৩ অক্টোবর পর্যন্ত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে বাংলাদেশ সফর করে। এসময় প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন ও প্রকল্পের পরিচালনাকারী সংস্থা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে। পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে বাস্তবায়নযোগ্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েও মতবিনিময় হয়।

এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান বলেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। এ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল বৈঠকে ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে।

জাহেদুল হাসান আরও বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। পরবর্তী কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানো হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, চলতি মাসের শেষ দিকে, সম্ভাব্য ২৫ অক্টোবর, পাওয়ার স্টার্টআপ শুরুর প্রস্তুতি রয়েছে। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রত্যাশা, উৎপাদনক্ষমতা ৩০-৩৫ শতাংশে পৌঁছালে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে। সে অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর আশা করা হচ্ছে। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নির্ভর করবে পরীক্ষার প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়ার ওপর।


বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এর আরও খবর