img

নিয়োগপত্রের দাবিতে ফের উত্তাল শাহবাগ, মুখোমুখি শিক্ষক-পুলিশ

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নিয়োগপত্রের দাবিতে ফের উত্তাল শাহবাগ, মুখোমুখি শিক্ষক-পুলিশ

সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক সহকারী শিক্ষকরা নিয়োগপত্রের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেছেন।  রবিবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় জাদুঘরের সামনে থেকে একটি মিছিল শুরু করেন তারা। 

মিছিল নিয়ে সড়কের ওপর যেতে চাইলে বাধা দেয় পুলিশ। ফলে শাহবাগে জাদুঘরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছেন তারা।

প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ-আন্দোলনকারীরা মুখোমুখি অবস্থানে আন্দোলন চলমান ছিল।  

এ সময় তাদের হাতে, ‘প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন চাই’, ‘শ্রেণিকক্ষে যেতে চাই, শিক্ষার্থীরা অপেক্ষায়’, ‘দেরির বোঝা বইব না, নিয়োগ ছাড়া ফিরব না’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন। 

আন্দোলনকারীরা বলেন, আমরা আড়াই মাস আগে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি, কিন্তু আমাদের এখনো নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি। এমনকি কিছু জানানো হয়নি।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে বলে তারা জানান। তাদের নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের।


img

শিক্ষক-ছাত্রীর ত্রিভুজ প্রেমের বলি ঢাবির মিমো?

প্রকাশিত :  ১৫:৪২, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরমেন্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ত্রিভুজ প্রেমের বলি হয়ে অভিমানে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন মিমো। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা ‘সুইসাইড নোট’ এই ধারণাকে পোক্ত করেছে বলে জানিয়েছেন তারা। ইতোমধ্যে এই নোটের ভিত্তিতে একজন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আত্মহত্যার প্ররোচনায় তার বিরুদ্ধে বাড্ডা থানায় একটি মামলাও করেছে মিমোর পরিবার। একই সঙ্গে তার এক সহপাঠীকে আটক করা হয়েছে।

রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর বাড্ডার নিজ বাসা থেকে মিমোর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তার লাশটি ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মাহজাবিন মিমো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী। নাট্যকর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। এ ছাড়া তাকে নির্দেশনা দিতেও দেখা গেছে। এ ঘটনায় আটক সহপাঠীর নাম উম্মে হানি। আর গ্রেপ্তার ব্যক্তি ওই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তী। মিমোর সুইসাইড নোটে এ দুজনের নাম এসেছে।


মিমোর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মিমো সচরাচর দরজা খোলা রেখে ঘুমাতেন। তবে আজ ফজরের আজানের পর দরজা বন্ধ দেখে পরিবারের সদস্যরা ধাক্কাধাক্কি করেন। তবে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তার সহপাঠীরা জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ৯টার দিকে তারা খবর পেয়ে বাড্ডা এলাকায় তার বাসভবনে আসেন। এসময় ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে সুদীপ চক্রবর্তী ও উম্মে হানির নাম থাকায় তাদের হেফাজতে নেয় পুলিশ।

মেহজাবিন মিমোর সহপাঠী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা মহিউদ্দিন রনি গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের বাবা-মা তাদের সন্তানকে শিক্ষকদের কাছে পাঠিয়ে নিশ্চিতে থাকতে চান। কিন্তু এখন দেখছি পিতৃতুল্য এই শিক্ষকদের কাছেও আমাদের বোনেরা নিরাপদ নন। সুইসাইড নোটে সুদীপ স্যার ও হানির নাম এসেছে। শোনা যাচ্ছে একটি ত্রিমুখী প্রণয়ের প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল এবং ওই শিক্ষকের প্ররোচণায় মিমো আত্নহনন করতে বাধ্য হয়েছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে লেখা ছিল— ‘সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো, স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেয়া...।’


এদিকে মিমোর আত্মহননের ঘটনায় সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর প্রাথমিক সংশ্লিষ্টতা পেয়েছে পুলিশ। বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) আসাদুজ্জামান গণমাধ্যমকে বলেন, রাতে ১টার দিকে সুদীপ চক্রবর্তীর সঙ্গে ছয় মিনিট কথা বলেছেন মিমো। তবে সুদীপ সে কল হিস্ট্রি ডিলিট করে দিয়েছেন। আমরা প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছি, ঘটনার সঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তীর সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।