img

লন্ডনের ভ‍্যালেণ্টাইনস পার্কের আলোছায়াময় পরিবেশে সুরালয়ের বর্ষবরণ উৎসব

প্রকাশিত :  ১০:১৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:২৫, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

লন্ডনের ভ‍্যালেণ্টাইনস পার্কের আলোছায়াময় পরিবেশে সুরালয়ের বর্ষবরণ উৎসব

বসন্তের রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে লন্ডনের ভ‍্যালেণ্টাইনস পার্কের আলোছায়াময় পরিবেশে বৃহস্পতিবার ২৫শে এপ্রিল সঙ্গীত শিক্ষালয় ‘সুরালয়’-এর অভিভাবক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উদযাপন করেন বাংলা বর্ষবরণ উৎসব।

গানে গানে, শিশু-কিশোরদের আনন্দোচ্ছল পদস্পন্দনে এবং হরেকরকম সুস্বাদু ভর্তা, ইলিশ-ভাজা ও মজাদার মিষ্টান্নের সমাহারে বর্ষবরণের উৎসবটি জমে ওঠে।

বর্ণাঢ‍্য আয়োজনটি শুরু হয় সুরালয়ের সঙ্গীত শিক্ষাগুরু গৌরী চৌধুরীর নেতৃত্বে সমবেত কণ্ঠে ‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’ গানটি দিয়ে। এতে একঝাঁক সম্ভাবনাময় শিশু-কিশোরের সঙ্গে অংশ নেন বড়রাও। পার্কের নয়নাভিরাম পরিবেশে মুহূর্তে সমবেত কণ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা গানের মধুর সুরের আবেশ। অবাঙালি পথচারীদের অনেকেই যাত্রাপথে থেমে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেন তাঁদের পরিবেশনা।

দলীয় পরিবেশনা শেষে এককভাবে গান পরিবেশন করে সবাইকে মুগ্ধ করে শিশুশিল্পী স্নিগ্ধা, জায়া, রাজকন‍্যা, রূপকথা, উদিতি, বিরজাসহ অনেকে। তাদের কেউ গাইল একি লাবণ‍্যে পূর্ণ প্রাণ, কেউ রাঙামাটির রঙে চোখ জুড়াল, কেউ আহা, আজি এ বসন্তে এত ফুল ফুটে, এত বাঁশি বাজে, এত পাখি গায়, আর কেউ বুলবুল পাখি, ময়না-টিয়ে আয় না, যা না গান শুনিয়ে ইত‍্যাদি।

শিশুকিশোরদের কাছে বর্ষবরণকে আনন্দময় করতে তাদের জন‍্য রাখা হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। প্রতিযোগিতায় কৃতিত্ব অর্জনকারী এবং অংশগ্রহনকারীদের জন‍্য ছিল পুরস্কার। আয়োজনটিকে উপভোগ‍্য করতে অভিভাবকেরা নিজেদের পছন্দমতো খাবার তৈরি করে নিয়ে আসেন। কেউ নিয়ে আসেন ইলিশভাজা, কেউ ভর্তা, কেউ চিকেন কারি, কেউ দই বড়া আবার কেউ টিরামিসু, কালোজাম ও চমচম।

অনুষ্ঠানে আগামী ৭ই মে’র নির্বাচনে রেডব্রিজ কাউন্সিলের বার্কিংসাইড ওয়ার্ডে লেবার পার্টির কাউন্সিলর পদপ্রার্থী সৈয়দা ফেরদৌসি পাশাকে সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন গৌরী চৌধুরী। তিনি সৈয়দা পাশাকে ভোট দিয়ে কাউন্সিলর নির্বাচিত করার জন‍্য বার্কিংসাইড ওয়ার্ডে বসবাসরত অভিভাবকদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। সৈয়দা পাশা তাঁর বক্তব‍্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিশু-কিশোরদেরকে বাংলা সঙ্গীত শিক্ষায় গৌরী চৌধুরীর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সুরালয় শুধুমাত্র বাংলা সঙ্গীত শিক্ষাই নয় বাঙালি সংস্কৃতির বিকাশেও প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করছে। তিনি আসন্ন নির্বাচনে বার্কিংসাইডে বসবাসরত সুরালয়ের অভিভাবকদের সমর্থন কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে সুরালয়ের শুভাকাঙ্ক্ষী কবি ও সাংবাদিক সারওয়ার-ই আলম সুরালয়ের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, বাঙালির ঐতিহ‍্যবাহী অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গৌরবোজ্জ্বল সাংস্কৃতিক ঐতিহ‍্যের গৌরবগাঁথা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ শিশু-কিশোরদের মনে ছড়িয়ে দিতে এ ধরণের আয়োজনের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি সৈয়দা পাশা সম্পর্কে বলেন, সৈয়দা পাশা কাউন্সিলর নির্বাচিত হলে একদিকে যেমন রেডব্রিজ কাউন্সিলে বাংলাদেশী-ব্রিটিশ কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, অপরদিকে ভবিষ‍্যতে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদের জন‍্য মূলধারার রাজনীতিতে অগ্রসর হওয়ার পথ আরো সুগম হবে।

বর্ষবরণের এই আয়োজনে সুরালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে অংশ নেন শিক্ষালয়টির শুভাকাঙ্খী সংস্কৃতিনুরাগী মোহাম্মদ আবদুর রাকীব, সঙ্গীতশিল্পী রিপা রাকীব, সংস্কৃতিনুরাগী স্বপন নন্দী, সাপ্তাহিক সত‍্যবাণীর সম্পাদক সৈয়দ আনাস পাশা, টেলিভিশন সংবাদ-পাঠক রিনা দাস, টেলিভিশন-উপস্থাপক শামীমা মিতা প্রমুখ।

তথ্যসূত্র: সত্যবাণী


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ওয়েলস পার্লামেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইঞ্জিনিয়ার হারুন-অর-রশিদ

প্রকাশিত :  ১৬:৩৬, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাজ্যের মূলধারার রাজনীতিতে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের জয়জয়কার থাকলেও ওয়েলস পার্লামেন্টে (সেনেড কামরি) এখনও কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সদস্য নির্বাচিত হতে পারেননি। 

ব্রিটিশ বাংলাদেশী  ইঞ্জিনিয়ার মোঃ হারুন-অর-রশিদ আসন্ন Senedd election 2026-এ Welsh Liberal Democrats-এর মনোনীত প্রার্থী হিসেবে এমপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। 

সিলেটের ওসমানীনগরের তাজপুর ইউনিয়নে মোল্লাপাড়া গ্রামে জন্ম হারুন-অর-রশীদের । ধুলোমাখা গ্রামীণ পরিবেশে বেড়ে ওঠা তাঁর। পড়াশোনা ও কর্মজীবনের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে  আসেন। শুরুতে সংগ্রাম ছিল, কিন্তু ধীরে ধীরে ব্যবসা, কমিউনিটি কাজ ও সাংবাদিকতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন তিনি।

রাজনৈতিক উত্তারিধাকার নিয়েই পথচলা শুরু, ছোটবেলা থেকেই পড়ালেখার পাশাপাশি ছাত্ররাজনীতিতে জড়িত ছিলেন তিনই। নেতৃত্ব তাঁর স্বভাবজাত, স্কুল ক্যাপ্টেন থেকে শুরু,কলেজ ছাত্র সংসদে ভিপি,জিএস নির্বাচন করেছেন হারুন।  সমানুষের জন্য কাজ করার অদম্য সেই প্রয়াস, প্রবাসে ও ধারণ করে চলেছেন ,দীর্ঘদিন ধরে কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থেকে অনুধাবন করেছেন অনেক সমস্যার স্থায়ী সমাধান নীতিনির্ধারণের পর্যায়ে থেকেই সম্ভব। আর সেই কারণেই নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে ভূমিকা রাখতে সংসদ নির্বাচন কে বেছে নিয়েছেন। 

মূলত তিনটি বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়ে তিনি  নির্বাচনী  সাওয়ার হয়েছেন, মানসম্মত শিক্ষা, সহজলভ্য স্বাস্থ্যসেবা এবং শক্তিশালী স্থানীয় অর্থনীতি। এছাড়া ছোট ব্যবসা, অভিবাসী কমিউনিটি এবং তরুণদের উন্নয়ন নিয়েও কাজ করতে চান হারুন। 

তিনি বলেন, আমাদের কমিউনিটি অনেক অবদান রাখছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে থাকে। আমি চাই তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত হোক—শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তায়। নতুন প্রজন্মকে দক্ষ ও আত্মনির্ভর করে গড়ে তোলাও  খুবই গুরুত্বপূর্ণ।আমি বিভিন্ন সংগঠন, চ্যারিটি ও সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে কাজ করেছি। এই অভিজ্ঞতা আমাকে মানুষের প্রয়োজন বুঝতে সাহায্য করেছে এবং বাস্তবসম্মত সমাধান ভাবতে শিখিয়েছে।

পাশাপাশি সাংবাদিকতা আমাকে মানুষের কথা শুনতে ও সত্য তুলে ধরতে শিখিয়েছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সমস্যার সঙ্গে পরিচিত হয়েছি। এটি আমার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে বাস্তবভিত্তিক করেছে।

আর  তরুণদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো পরিবর্তন সম্ভব নয়। তারা যেন সচেতনভাবে ভোট দেয় এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নেয়। আমি তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে চাই।

আমি চাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে, যেখানে সবাই সমান সুযোগ পাবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে চাই।

কমি৭নিটির উদ্দেশ্য  বলেন, আমি আপনাদেরই একজন। আপনাদের আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়েই আমি এগিয়ে যেতে চাই। আপনাদের সমর্থন পেলে আমি আপনাদের কণ্ঠস্বর হিসেবে কাজ করবো। 

উল্লেখ্য এবার  ওয়েলস পার্লামেন্ট (সেনেডের )আসন\" সংখ্যা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ৯৬ করা হয়েছে এবং নতুন নির্বাচনী পদ্ধতি প্রবর্তন করা হয়েছে, 

১৯৯৯ সালে ওয়েলস পার্লামেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্যক্তি \'মেম্বার অব দ্য সেনেড\' (এমএস) হিসেবে নির্বাচিত হননি।স্বল্প জাতিগত বৈচিত্র্য: বিদায়ী ষষ্ঠ সেনেডে (২০২১-২০২৬) ৬০ জন সদস্যের মধ্যে মাত্র ৩ জন (৫%) ছিলেন সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর। এর মধ্যে ভন গেথিং (সাবেক ফার্স্ট মিনিস্টার), নাতাশা আসগর এবং আলতাফ হুসাইন অন্তর্ভুক্ত থাকলেও তাদের কেউই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নন।

 ২০২৬-এর প্রার্থী তালিকা: আসন্ন নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর তালিকায় কিছু বাংলাদেশি নাম লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে কার্ডিফ ও সোয়ানসি অঞ্চলের তালিকায়  হারুন-অর - রশিদ ও দিলওয়ার আলী-র মতো প্রার্থীরা নির্বাচন করছেন।

ওয়েলসে বাংলাদেশিরা পিছিয়ে থাকলেও ব্রিটেনের অন্য অংশে চিত্রটি সম্পূর্ণ ভিন্ন:

ব্রিটিশ পার্লামেন্ট: রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, রূপা হক ও আফসানা বেগমের মতো চারজন দাপুটে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারী ব্রিটিশ পার্লামেন্টে দীর্ঘ দিন ধরে প্রতিনিধিত্ব করছেন।

২০২১ সালে ফয়সল চৌধুরী প্রথম ব্রিটিশ-বাংলাদেশি হিসেবে স্কটিশ পার্লামেন্টের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন।

২০২৬ সালের এই নির্বাচনে সেনেডের আসন সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে জাতিগত সংখ্যালঘুদের জন্য সুযোগ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে ওয়েলসের বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতাদের মতে, শুধুমাত্র প্রার্থী হওয়াই যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলগুলোকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যোগ্য প্রার্থীদের তালিকার উপরের দিকে স্থান দিতে হবে যাতে তাদের নির্বাচিত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আগামী ৭ মে-র নির্বাচনই বলে দেবে, ওয়েলস পার্লামেন্টের দরজায় শেষ পর্যন্ত কোনো বাংলাদেশির নামফলক উঠবে কি না।

কমিউনিটি এর আরও খবর