img

ব্রঙ্কসে হৃদয়ে বাংলাদেশের অভিষেক ও বৈশাখী পালন

প্রকাশিত :  ০৮:৩১, ৩০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৪৫, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

ব্রঙ্কসে হৃদয়ে বাংলাদেশের অভিষেক ও বৈশাখী পালন

নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে সাংস্কৃতিক সংগঠন হৃদয়ে বাংলাদেশের নতুন কমিটির অভিষেক ও বৈশাখী উৎসব নববর্ষ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২৬শে এপ্রিল রবিবার সকালে ব্রঙ্কসের স্ট্রালিন বাংলাবাজারের এশিয়ান ড্রাইভিং স্কুল মিলনায়তনে আনন্দ উৎ উৎসবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দুই পর্বের অনুষ্ঠানে প্রথম পর্বে গানে গানে বৈশাখ উৎসব পালন এবং দ্বিতীয় পর্বে হৃদয়ে বাংলাদেশ কার্যকরী পরিষদের নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠান।

সংগঠনের সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফয়েজের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা আব্দুর রহিম বাদশা, উপদেষ্টা সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ, উপদেষ্টা আকতার হোসেন, নবনির্বাচিত উপদেষ্টা আব্দুল মুহিত, উপদেষ্টা বীরমুক্তিযোদ্ধা তোফায়েল আহমেদ চৌধুরী, উপদেষ্টা আব্দুর রহমান, উপদেষ্টা শামীম আহমেদ।

প্রথম পর্বে ছন্দে আনন্দে আমাদের বৈশাখ শুভ নববর্ষ উপলক্ষে সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় সংগীত দিয়ে শুরু হয়।এতে অংশ গ্রহণ করেন। দলীয় সংগীত পর্ব সঞ্চালনা করেন তাসনিন জারা, মাহমুদুল হাসান ও সৈয়দ ফয়েজ। বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হলে উপস্থিত সবাই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করেন এবং পরপর চারটি গান পরিবেশন করে দলীয় সংগীত পর্ব শেষ হয়।

দ্বিতীয় পর্বে ছিল কার্যকরী কমিটি ২০২৬-২০২৯ইং নতুন কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে শপথ গ্রহণ। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান সংগঠনের উপদেষ্টা সিরাজ উদ্দিন আহমেদ সোহাগ। নতুন কমিটির সভাপতি সাইদুর রহমান লিংকন, সহ-সভাপতি পল্লব সরকার,সহ-সভাপতি মোশাররফ শিকদার, সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ কামরুজ্জামান ফয়েজ, যুগ্ম সম্পাদক আল মামুন সরকার, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম রব্বানী বেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহমুদুল হাসান,অর্থ সম্পাদক ফাহমিনা পারভীন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক শারমিন তানিয়া, প্রচার সম্পাদক শেখ শফিকুর রহমান, দপ্তর সম্পাদক মার্গারেট মল্লিক, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রুপচান মিয়া,সদস্য মেহেদী কাবুল। নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যদের গোলাপ ফুল দিয়ে বরণ করে নেন উপদেষ্টা আব্দুর রহিম বাদশা।

শপথ গ্রহণ শেষে পরিবেশিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।সংগীত পরিবেশন করেন শারমিন তানিয়া,সৈয়দ ফয়েজ,সঞ্চিতা ঠাকুর, তাসনিন জারা, শেখ শফিক, মইন রাজা, বিনিতা জয়।

সবশেষে উপস্থিত সবাইকে রাঁধুনি শারমিন তানিয়া ও ফাহমিনা পারভীনের মজাদার রান্না করা খাবার পান্তা ইলিশ, বেগুন ভাজা, আলু ভর্তা ও ডাল খাওয়ানোর মাধ্যমে আপ্যায়ন করা হয়।

মনোমুগ্ধকর নববর্ষ বরণ ও অভিষেক অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে প্রানবন্ত হয়ে ওঠে।সবাই গানের তালে নেচে গেয়ে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

কানাডার এমপি নির্বাচনে জয়ী ডলি বেগমকে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র অভিনন্দন

প্রকাশিত :  ১৮:৩৮, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

কানাডার ফেডারেল উপনির্বাচনে টরোন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে কানাডার সংসদে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মৌলভীবাজার জেলার

সুযোগ্য কন্যারত্ন ডলি বেগম এমপি বিজয়ী হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করায় গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর ও  মৌলভীবাজার ডিস্ট্রিক্ট ডেভেলপমেন্ট এন্ড ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন অব ওয়ালর্ড হোয়াইডের ফাউন্ডার্স প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মকিস মনসুর, গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র  কো-কনভেনর মসুদ আহমদ,সদস্য সচিব ড. মুজিবুর রহমান,ও অর্থ সচিব কাউন্সিলর আসরাফ মিয়া, সাউথইস্ট রিজিওনাল কনভেনর হারুনুর রশিদ, কো কনভেনর জামাল হোসেন,  যুগ্ম কনভেনর সিপার করিম ও সদস্য সচিব তাজুল ইসলাম সহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রিজিওনাল কমিটির নেতৃবৃন্দের পক্ষ থেকে বিজয়ের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন  জানান এবং তার এই সাফল্যে বাংলাদেশ তথা সিলেট বাসীর জন্য এটি একটি বিশেষ সম্মানের বলে উল্লেখ করেছেন। 

অভিনন্দন বার্তায় কানাডার পার্লামেন্টে বাবা,মা সহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের নিয়ে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আজ সম্প্ন্ন হওয়ায়  ইউকে বিডি টিভির চেয়ারম্যান  ও গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে\'র কেন্দ্রীয় কনভেনর  মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, মৌলভীবাজারের বাজরাকোনা গ্রামের সুযোগ্য কন্যারত্ন ডলি বেগম কানাডার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে ফেডারেল উপনির্বাচনে প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়ে তিনি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক গর্বের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

তার এই অর্জন শুধু সিলেট বা মৌলভীবাজারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি পুরো বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য এক অনন্য সম্মান। প্রবাসে থেকেও নেতৃত্ব, সততা এবং যোগ্যতার মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব—ডলি বেগম তার বাস্তব প্রমাণ।

কমিউনিটি লিডার ও সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মকিস মনসুর আর ও বলেন ডলি বেগমের এই সাফল্য নতুন প্রজন্মকে আরও বড় স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে। ব্যবসা বা পেশাগত ক্ষেত্রের বাইরে গিয়ে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়েও নিজেদের অবস্থান তৈরি করার সাহস যোগাবে এ অর্জন।

ডলি বেগমের এই যাত্রা নিঃসন্দেহে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে এবং প্রবাসে বাংলাদেশিদের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলে তিনি   অভিমত ব্যাক্ত করেছেন। 

এদিকে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর ডলি বেগমকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে কার্নি বলেন, স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের নতুন এমপি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় ডলি বেগমকে অভিনন্দন। ডলি তার কমিউনিটির জন্য একটি উন্নত ভবিষ্যৎ গড়তে অত্যন্ত জোরালো এবং কার্যকরভাবে লড়াই করেছেন। তার অক্লান্ত কণ্ঠস্বর এবং অভিজ্ঞতা সবার জন্য একটি শক্তিশালী ও অধিকতর ন্যায়পরায়ণ কানাডা গঠনে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য যে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার আধ্যাত্মিকতার আলোকধারা ও ইতিহাসের গৌরবে ভরা এক জনপদ—বাজরাকোনা। এই পবিত্র মাটিতে শায়িত আছেন হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর অন্যতম সফরসঙ্গী হযরত শাহ মঈন উদ্দিন (রহ.)। সেই পুণ্যভূমি আজ আবারও এক উজ্জ্বল ইতিহাসের সাক্ষী হলো এক অনন্য অর্জনের মাধ্যমে।

আধুনিক বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কানাডার সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এটি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; এটি একটি জাতির অগ্রযাত্রার প্রতীক, একটি স্বপ্নের বাস্তব রূপ।

ছোট্ট ডলি—মা-ও বাবা রাজা-মিয়ার একমাত্র কন্যা—বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মনুমুখ বাজরাকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া শুরু করেন। পরবর্তীতে মনুমুখ পিটি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থায় ১৯৯৯ সালে পরিবারসহ কানাডায় পাড়ি জমান, আর সেখান থেকেই শুরু হয় তার নতুন জীবনের যাত্রা।

কানাডায় তিনি নিজেকে গড়ে তোলেন একজন সমাজসেবক হিসেবে। গবেষণা, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং অভিবাসী অধিকার নিয়ে কাজ করে ধীরে ধীরে কমিউনিটিতে নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।

২০১২ সালে University of Toronto থেকে স্নাতক এবং University College London থেকে উন্নয়ন, প্রশাসন ও পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি City of Toronto-এ রিসার্চ অ্যানালিস্ট হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।

সমাজসেবার এই পথ ধরে তিনি রাজনীতিতে প্রবেশ করেন এবং New Democratic Party (NDP)-এর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন লাভ করেন। ২০১৮ সালে অন্টারিও প্রাদেশিক নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট থেকে নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস গড়েন—প্রথমবারের মতো কোনো বাংলাদেশি প্রাদেশিক এমপি নির্বাচিত হন।

এরপর তিনি ধারাবাহিকভাবে তিনবার এই এলাকায় প্রতিনিধিত্ব করেন, যা তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতারই প্রমাণ।

তবে তার এই সংগ্রামের পথে একটি গভীর ব্যক্তিগত শোকও রয়েছে—২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে তিনি তার প্রিয় স্বামী, টরন্টোর বাংলাদেশি-কানাডিয়ান আইনজীবী ব্যারিস্টার রিজওয়ান রহমানকে হারান। এই কঠিন সময়েও তিনি ভেঙে না পড়ে দৃঢ়তার সঙ্গে সামনে এগিয়ে গেছেন—যা তার মানসিক শক্তি ও নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

পরবর্তীতে বৃহত্তর পরিসরে কমিউনিটির কণ্ঠস্বরকে আরও শক্তিশালী করতে তিনি Liberal Party of Canada-এ যোগ দেন এবং প্রথমবারের মতো ফেডারেল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। এই উপ-নির্বাচনে স্কারবোরো সাউথ ওয়েস্ট থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি এখন কানাডার সংসদে আমাদের প্রতিনিধিত্ব করবেন।

এই বিজয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একজন শক্তিশালী immigrant voice এবং Muslim নারী নেতৃত্বের প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর