img

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ অবৈধ : মার্কিন আদালত

প্রকাশিত :  ০৭:২৮, ০৮ মে ২০২৬

ট্রাম্পের ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ অবৈধ : মার্কিন আদালত

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে—এমন দেশগুলোর ওপর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরোপিত ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’কে অবৈধ ঘোষণা করেছে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আদালত। আদালতটি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল কোর্টের (হাইকোর্ট) সমমর্যাদাসম্পন্ন।

গতকাল বৃহস্পতিবার এক রায়ে ট্রাম্পের ‘বেইসলাইন’ শুল্ককে ‘আইন বহির্ভূত’ উল্লেখ করে বাণিজ্য আদালত ৩ জন বিচারপতির একটি বেঞ্চ বলেছেন, আইইইপিএ নামের যে আইনের জোরে ট্রাম্প ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের নির্দেশ দিয়েছিলেন, তা তাকে এই নির্দেশ প্রদানের অনুমোদন দেয় না। ৩ বিচারপতির বেঞ্চের ২ জন রায়ের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তবে তৃতীয় বিচারকের মতে, ট্রাম্পের ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আইইইপিএ আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়।

আদালত সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এপি জানিয়েছে, যদি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এই রায় বাতিল চেয়ে আবেদন করতে চান— তাহলে প্রথমে তাদের ওয়াশিংটনের ‘ইউএস কোর্ট অব আপিল ফর দ্য ফেডারেল সার্কিট’ আদালতে আপিল করতে হবে। যদি সেই আদালতের রায়ও বিরুদ্ধে যায়, তাহলে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য  সর্বশেষ এবং চূড়ান্ত গন্তব্য সুপ্রিম কোর্ট।

উল্লেখ্য, ১৯৭৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রণীত জরুরি অর্থনীতি আইন (ইন্টারন্যাশনাল ইমরার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট- আইইপিএ)-এর আওতায় ২০২৫ সালের ২ এপ্রিল নতুন শুল্কনীতি ঘোষণা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই নীতি অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আছে— এমন সব দেশের ওপর ১০ শতাংশ ‘বেইসলাইন শুল্ক’ আরোপের পাশাপাশি ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’ (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) আরোপ করেন তিনি। পরবর্তীতে চীন, ভারত, কানাডা, মেক্সিকো, ব্রাজিলসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের সময়ে ‘পাল্টাপাল্টি শুল্ক’-কে (রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ) হাতিয়ার ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের এই শুল্কনীতির সুবাদে গত প্রায় এক বছরে শুধু শুল্ক থেকে অতিরিক্ত ১৩ দশমিক ৩৫ হাজার কোটি ডলার উপার্জন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চলতি ২০২৬ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি এক রায়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্কনীতিকে অবৈধ ঘোষণা করেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে এতদিন ইন্টারন্যাশনাল ইমরার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৭৭ আইনটি বিধি বহির্ভূতভাবে ব্যবহার করে আসছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ফলে এই আইনের আওতায় যে শুল্ক আরোপ করা হয়েছে— তা অবৈধ।

২০ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্ট এই রায় প্রদানের পর তার নিন্দা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি সেদিনই ১৯৭৪ সালে প্রণীত বাণিজ্য আইনের (ট্রেড অ্যাক্ট ১৯৭৪) আওতায় বিশ্বের প্রায় সব দেশের ওপর অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এক লিখিত বার্তায় তিনি বলেছিলেন আগামী ১৫০ দিন এই শুল্ক কার্যকর থাকবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দেওয়া সময়সীমা অনুযায়ী, আগামী ২৪ জুলাই শেষ হবে অস্থায়ীভাবে আরোপিত ১০ শতাংশ শুল্কের মেয়াদ।

সূত্র : এপি

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

বিশ্ববাজারে কমলো জ্বালানি তেলের দাম

প্রকাশিত :  ০৮:০৮, ২৩ জুন ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা এগিয়ে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে আরও স্পষ্ট সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। এর প্রভাবে মঙ্গলবার (২৩ জুন) আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম সামান্য কমেছে।  খবর জিও নিউজের। 

এর আগের দিনের দরপতনের ধারাবাহিকতায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২০ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ কমে ৭৭.৭০ ডলারে নেমে আসে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১২ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ৭৩.৭৪ ডলারে দাঁড়ায়।

বাজার বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালিতে তেল পরিবহন পরিস্থিতি কত দ্রুত স্বাভাবিক হয় এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতার বাস্তব অগ্রগতি কতটা হয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা।

এদিকে,  ইরানকে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ডলারে তেল বিক্রির অনুমতি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।  দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে,  ইরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রেতাদের কাছেও তেল বিক্রি করতে পারবে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, ইরানি কর্মকর্তারা চলতি সপ্তাহেই দেশটিতে পারমাণবিক পরিদর্শকদের ফের প্রবেশের অনুমতি দিতে সম্মত হয়েছেন। এটি ইরানের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ছাড় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর