img

আগামী সপ্তাহে আলোচনায় বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত :  ০৬:৩২, ০৯ মে ২০২৬

আগামী সপ্তাহে আলোচনায় বসতে পারে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে থমকে থাকা আলোচনা আগামী সপ্তাহেই পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পুনরায় শুরু হতে পারে।  মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে। 

বিষয়টির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, উভয় পক্ষ মধ্যস্থতাকারীদের সহায়তায় একটি এক পৃষ্ঠার ১৪ দফা সমঝোতা স্মারক চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। এই সমঝোতাকে ভিত্তি করে এক মাসব্যাপী আলোচনা চালিয়ে যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

খসড়া প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, হরমুজ প্রনালি অঞ্চলে উত্তেজনা কমানো এবং ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পরিধি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত আছে, যা শেষ পর্যন্ত এই আলোচনা ভেস্তে দিতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান ইস্যুতে হতাশা, ভেনেজুয়েলার সব সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম লুটে নিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৩:০৬, ০৯ মে ২০২৬

ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়ে অবশেষে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা থেকে উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। 

শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন জ্বালানি বিভাগ এক ঘোষণায় জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘চূড়ান্ত নেতৃত্বের’ কারণে কারাকাসের একটি পুরোনো গবেষণা চুল্লি থেকে ১৩.৫ কেজি (প্রায় ৩০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে। ব্রিটেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার এই যৌথ অভিযানকে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্বের জন্য বড় জয় হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।

আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, একটি অত্যন্ত জটিল ও সংবেদনশীল অভিযানের মাধ্যমে এই ইউরেনিয়াম স্থল ও জলপথে দক্ষিণ আমেরিকা থেকে উত্তর আমেরিকায় পরিবহন করা হয়েছে। কারাকাস থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের একটি স্থান থেকে সংগৃহীত এই তেজস্ক্রিয় পদার্থটি বর্তমানে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় মার্কিন জ্বালানি বিভাগের একটি কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। 

মার্কিন ন্যাশনাল নিউক্লিয়ার সিকিউরিটি অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের প্রশাসক ব্র্যান্ডন উইলিয়ামস এই পদক্ষেপকে একটি ‘পুনরুদ্ধারকৃত ও নবায়িত’ ভেনেজুয়েলার সংকেত হিসেবে অভিহিত করেছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটকের বিতর্কিত নির্দেশের পর কারাকাসের সঙ্গে দীর্ঘদিনের শত্রুতা কাটিয়ে সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে হোয়াইট হাউস। 

ট্রাম্প বর্তমানে মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এবং ভেনেজুয়েলার জ্বালানি ও খনি খাত মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য উন্মুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। দীর্ঘ সাত বছর পর সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক বিমান চলাচল শুরু হয়েছে এবং পুনরায় চালু হয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

তবে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে এই মাখামাখি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। একদিকে ব্যবসায়ীরা বিপুল তেলের মজুদ থাকা এই দেশটির সঙ্গে নতুন বাণিজ্যিক যুগের সম্ভাবনা দেখছেন, অন্যদিকে গণতন্ত্রকামী কর্মীরা ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

তাদের মতে, নির্বাসিত বিরোধী নেত্রী ও নোবেলজয়ী মারিয়া করিনা মাচাদোকে পাশ কাটিয়ে রদ্রিগেজের সাথে সমঝোতা করা হতাশাজনক। এছাড়া গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে তেহরানের হাতে থাকা ৪০৮ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জব্দ করার লক্ষ্য থাকলেও, এখন পর্যন্ত সেই চেষ্টায় ট্রাম্প সফল হতে পারেননি। সেই তুলনায় ভেনেজুয়েলার এই অর্জন নেহাতই নগণ্য বলে মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।

সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর