বসতঘরের সিলিংয়ে ১৪ ফুটের অজগর, এক নজর দেখতে মানুষের ঢল শ্রীমঙ্গলে
সংগ্রাম দত্ত: চারদিকে চা-বাগান, পাহাড় আর বনাঞ্চলঘেরা শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত ছাত্রাবট গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু হয়েছিল এক আতঙ্ক আর বিস্ময়ের মধ্য দিয়ে। ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, বসতঘরের সিলিংয়ের বাঁশের উপর কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে বিশাল এক অজগর সাপ। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।
ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাচাউন এলাকার ছাত্রাবট গ্রামে খলিল মিয়ার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা প্রথম সাপটি দেখতে পান। প্রায় ১৪ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল অজগরটি ঘরের সিলিংয়ের উপর নিশ্চুপ হয়ে পড়ে থাকলেও তার উপস্থিতিই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় পুরো পরিবারে।
খবরটি দ্রুত গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন সাপটি এক নজর দেখার জন্য। কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকেন বিরল এই দৃশ্যের দিকে। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ আতঙ্কে সাপটিকে মেরে ফেলার কথাও ভাবছিলেন। তবে সচেতন কয়েকজন দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। দীর্ঘ সময় সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তারা অজগরটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানের সময় পুরো এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়।
পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, উদ্ধার হওয়া অজগরটির ওজন প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা যায়।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা থেকে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেগুলো বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান, পাহাড় ও বনাঞ্চল একসময় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ছিল। কিন্তু বনভূমি দখল, বসতি নির্মাণ, রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বৃদ্ধির কারণে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে তাদের আবাসস্থল। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সাপসহ নানা বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।
এদিকে, বনাঞ্চল ধ্বংস ও মানবসৃষ্ট চাপের কারণে প্রায়ই সড়কে গাড়িচাপা পড়ে কিংবা মানুষের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনভূমি সংরক্ষণ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।



















