img

বসতঘরের সিলিংয়ে ১৪ ফুটের অজগর, এক নজর দেখতে মানুষের ঢল শ্রীমঙ্গলে

প্রকাশিত :  ০৮:৪৬, ২১ মে ২০২৬

বসতঘরের সিলিংয়ে ১৪ ফুটের অজগর, এক নজর দেখতে মানুষের ঢল শ্রীমঙ্গলে

সংগ্রাম দত্ত: চারদিকে চা-বাগান, পাহাড় আর বনাঞ্চলঘেরা শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত ছাত্রাবট গ্রামে বৃহস্পতিবার সকালটা শুরু হয়েছিল এক আতঙ্ক আর বিস্ময়ের মধ্য দিয়ে। ঘুম থেকে উঠে পরিবারের সদস্যরা দেখেন, বসতঘরের সিলিংয়ের বাঁশের উপর কুণ্ডলী পাকিয়ে রয়েছে বিশাল এক অজগর সাপ। মুহূর্তেই পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে চাঞ্চল্য।

ঘটনাটি ঘটেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাচাউন এলাকার ছাত্রাবট গ্রামে খলিল মিয়ার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা প্রথম সাপটি দেখতে পান। প্রায় ১৪ ফুট দৈর্ঘ্যের বিশাল অজগরটি ঘরের সিলিংয়ের উপর নিশ্চুপ হয়ে পড়ে থাকলেও তার উপস্থিতিই আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয় পুরো পরিবারে।

খবরটি দ্রুত গ্রামজুড়ে ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ ভিড় করেন সাপটি এক নজর দেখার জন্য। কেউ মোবাইলে ভিডিও ধারণ করেন, কেউ আবার বিস্মিত চোখে তাকিয়ে থাকেন বিরল এই দৃশ্যের দিকে। স্থানীয়দের মধ্যে কেউ কেউ আতঙ্কে সাপটিকে মেরে ফেলার কথাও ভাবছিলেন। তবে সচেতন কয়েকজন দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ। দীর্ঘ সময় সতর্কতা ও দক্ষতার সঙ্গে অভিযান চালিয়ে তারা অজগরটিকে জীবিত উদ্ধার করেন। উদ্ধার অভিযানের সময় পুরো এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় আরও বেড়ে যায়।

পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ জানান, উদ্ধার হওয়া অজগরটির ওজন প্রায় ২০ থেকে ২২ কেজি এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট। পরে সাপটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে নিরাপদ পরিবেশে অবমুক্ত করা যায়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গত পাঁচ মাসে শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের এলাকা থেকে অজগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির অসংখ্য বন্যপ্রাণী উদ্ধার করা হয়েছে। পরে সেগুলো বন বিভাগের মাধ্যমে প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শ্রীমঙ্গলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান, পাহাড় ও বনাঞ্চল একসময় বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল ছিল। কিন্তু বনভূমি দখল, বসতি নির্মাণ, রিসোর্ট ও বাণিজ্যিক স্থাপনা বৃদ্ধির কারণে ধীরে ধীরে সংকুচিত হচ্ছে তাদের আবাসস্থল। ফলে খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে সাপসহ নানা বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে।

এদিকে, বনাঞ্চল ধ্বংস ও মানবসৃষ্ট চাপের কারণে প্রায়ই সড়কে গাড়িচাপা পড়ে কিংবা মানুষের হাতে প্রাণ হারাচ্ছে বন্যপ্রাণীরা। পরিবেশবাদীরা বলছেন, বন্যপ্রাণী রক্ষায় বনভূমি সংরক্ষণ এবং মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

রাতের আঁধারে পাইপ বেয়ে চারতলায়, শ্রীমঙ্গলের বাসায় ধরা দিল বিরল লজ্জাবতী বানর

প্রকাশিত :  ০৯:১৯, ২০ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: নিঝুম রাত। সবাই যখন ঘুমের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই শ্রীমঙ্গলের একটি চারতলা ভবনের বাসায় দেখা মিলল অদ্ভুত এক অতিথির। প্রথমে কেউ বুঝতে পারেননি প্রাণীটি কী। পরে ভালোভাবে দেখে চমকে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা— সেটি ছিল বিরল প্রজাতির একটি লজ্জাবতী বানর।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও চৌমুহনা এলাকার বাসিন্দা সফেদ মিয়ার ভবন থেকে প্রাণীটিকে উদ্ধার করা হয়। পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাসার ভেতরে হঠাৎ অস্বাভাবিক নড়াচড়া টের পান তারা। কিছুক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর চোখে পড়ে বড় বড় চোখের শান্ত স্বভাবের একটি প্রাণী। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়, সেটি একটি লজ্জাবতী বানর।

ঘটনার বিষয়টি স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী কাজী গোলাম কিবরিয়া জুয়েলকে জানানো হলে তিনি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার সকালে সংগঠনটির পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন।

উদ্ধারকারীদের ধারণা, রাতের আঁধারে ভবনের সেনেটারি পাইপ বেয়ে উপরে উঠে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে প্রাণীটি। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের সদস্যরা জানান, লজ্জাবতী বানর অত্যন্ত শান্ত ও নিশাচর প্রাণী। বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস এবং খাদ্য সংকটের কারণে এসব প্রাণী এখন মাঝেমধ্যে লোকালয়ে চলে আসছে। সাধারণত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, হবিগঞ্জের সাতছড়ি ও রেমা-কেলেঙ্গা বনাঞ্চলে এদের বিচরণ দেখা যায়।

প্রকৃতিনির্ভর পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে এমন বিরল প্রাণীর উপস্থিতি যেমন কৌতূহল তৈরি করেছে, তেমনি বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আবার সামনে এনে দিয়েছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর