img

শ্রীমঙ্গলে ছিনতাই আতঙ্ক: পুলিশের জালে চক্রের মূলহোতা খালেদ

প্রকাশিত :  ০৭:৩৯, ২২ মে ২০২৬

শ্রীমঙ্গলে ছিনতাই আতঙ্ক: পুলিশের জালে চক্রের মূলহোতা খালেদ

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের রাজধানীখ্যাত শান্ত শহর শ্রীমঙ্গল সাম্প্রতিক সময়ে মোটরসাইকেলচালিত ছিনতাইকারী চক্রের দৌরাত্ম্যে আতঙ্কিত হয়ে উঠেছিল। বিশেষ করে নারী পথচারীদের লক্ষ্য করে সংঘবদ্ধভাবে ছিনতাইয়ের ঘটনায় সন্ধ্যার পর অনেকেই জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া কমিয়ে দেন। একের পর এক ঘটনায় উদ্বেগ বাড়লেও অবশেষে দীর্ঘ তদন্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর অভিযানের মাধ্যমে চক্রটির মূলহোতা খালেদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করেছে শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, চক্রটি সাধারণত মোটরসাইকেলে দুই বা তিনজন সদস্য নিয়ে শহর ও শহরতলীর নির্জন এলাকায় ঘোরাফেরা করত। সুযোগ বুঝে পেছনে থাকা সদস্য ধারালো দা দেখিয়ে মুহূর্তের মধ্যে স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যেত। কয়েক সপ্তাহ ধরে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় একই কৌশলে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

গত ৩ মে রূপসপুর এলাকার শিক্ষিকা অর্পিতা রায় স্কুল থেকে বাসায় ফেরার পথে আখড়ার পাশে ছিনতাইয়ের শিকার হন। মোটরসাইকেলযোগে আসা দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে তার গলায় থাকা প্রায় পৌনে এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। একই দিনে শহরের মাস্টারপাড়া এলাকায় জয়া সাহা নামে আরেক নারীকে দা ঠেকিয়ে স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার সময় তিনি আহত হন। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় আরও কয়েকটি ছিনতাই ও ছিনতাইচেষ্টার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পরপরই শ্রীমঙ্গল থানার এসআই মো. মহিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টিম তদন্তে নামে। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে ঘটনাগুলো ছিল সম্পূর্ণ ক্লুলেস। পরে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন এলাকা থেকে শতাধিক সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করা হয়। প্রায় ২৫টি ফুটেজে সন্দেহভাজন মোটরসাইকেল ও ছিনতাইকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা সম্ভব হয়।

শ্রীমঙ্গল-ভানুগাছ সড়ক, কমলগঞ্জ, শমশেরনগর, কুলাউড়া হয়ে সিলেট পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চক্রটির চলাচলের রুট শনাক্ত করা হয়। অবশেষে গত ১৮ মে ভোররাতে সিলেট নগরীর জালালাবাদ থানার আখালিয়া গেট এলাকার একটি বাসা থেকে চক্রের মূলহোতা খালেদ আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গৌরাবাড়ী এলাকার বাশির মিয়ার ছেলে।

পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল, হেলমেট, নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, পার্স ও ব্যাগ উদ্ধার করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, এই চক্র শুধু শ্রীমঙ্গলে নয়, মৌলভীবাজার সদর ও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ এলাকাতেও একাধিক ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের আরও কয়েকজন সহযোগী রয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলাম মুন্না গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “ছিনতাইকারীরা বাইরের এলাকা থেকে এসে দ্রুত অপরাধ সংঘটিত করে পালিয়ে যেত। বিভিন্ন চেকপোস্ট, গোয়েন্দা তৎপরতা ও প্রযুক্তির সহায়তায় আমরা চক্রটির মূলহোতাকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছি।”

মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নোবেল চাকমা গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, “অনেক পরিশ্রমের মাধ্যমে আমরা এই পেশাদার ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করেছি। বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।”

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশের এই অভিযানে স্বস্তি প্রকাশ করলেও শহরে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিয়মিত টহল ও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দ্রুত বিচার ও ধারাবাহিক অভিযান চালানো গেলে শ্রীমঙ্গলে ছিনতাই আতঙ্ক অনেকটাই কমে আসবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে পৃথক বজ্রপাতে চা-শ্রমিকসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৪:৪২, ২২ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটন নগরী মৌলভীবাজার জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) জেলার সদর উপজেলার হামিদিয়া চা-বাগান ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে এ ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন চা-শ্রমিক এবং অন্যজন কৃষক। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় দুই পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হামিদিয়া চা-বাগানে বজ্রপাতে নিহত হন স্বপন মুন্ডা নামে এক যুবক। বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। স্বপন মুন্ডার বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা-বাগানে। এক যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছেন চা-বাগানের শ্রমিকরা।

অন্যদিকে রাজনগর উপজেলার ৭নং কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান মো. তালেব মিয়া নামে এক কৃষক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে তিনি নিজের জমিতে ধান কাটতে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে কালো মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তালেব মিয়া। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় কৃষক ও স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

বজ্রপাতের এই পৃথক দুই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজার অঞ্চলে প্রায়ই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে মাঠ ও বাগানে কাজ করতে গিয়ে মানুষ চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তারা আকাশ কালো হলে ও মেঘের গর্জন শোনা গেলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপে দুই পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর