img

সিলেটে হাম উপসর্গে একদিনে প্রাণ গেল ৫ শিশুর

প্রকাশিত :  ০৯:৩৯, ২২ মে ২০২৬

সিলেটে হাম উপসর্গে একদিনে প্রাণ গেল ৫ শিশুর

সিলেট বিভাগে হামের পরিস্থিতি দিনে দিনে আশঙ্কাজনক রূপ ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ বিভাগে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়।

এরমধ্যে সিলেটের ১জন, সুনামগঞ্জের ৩ জন ও হবিগঞ্জের ১ জন রয়েছেন। এনিয়ে বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন ২৮৩ জন রোগী। শুক্রবার (২২ মে) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় থেকে এই তথ্য জানা গেছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশু হলেন- হবিগঞ্জের নবীগঞ্জের আব্দুল মালিকের ৫ মাস বয়সী মেয়ে রাইসা, সুনামগঞ্জের ছাতকের ইশাক আলীর ৬ বছর বয়সী ছেলে আলী আফসান, দিরাইর মুসাদ্দিক মিয়ার ১০ মাস বয়সী মেয়ে মুসলিমা, সদরের ৪ বছর ২ মাস বয়সী শামিমা ও সিলেট সদরের বাহরাম আহমেদের ১ বছর ২ মাস বয়সী ছেলে মো. রাশেদ আহমেদ। তাদের মধ্যে রাইসা ও আলী আফসান সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, মুসলিমা ও রাশেদ সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে এবং সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে শামিমা মারা যান।

গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৭৪ জন রোগী। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩২ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন সিলেট শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ২৮৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন।

এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৮০ জন, ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫৯ জন এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৫৫ জন ভর্তি আছে। এ ছাড়া মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১৪ জন, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১৯ জনসহ বিভিন্ন হাসপাতালে রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

মৌলভীবাজারে পৃথক বজ্রপাতে চা-শ্রমিকসহ দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৪:৪২, ২২ মে ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: পর্যটন নগরী মৌলভীবাজার জেলায় ঝড়ো হাওয়া ও আকস্মিক বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় দুইজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২২ মে) জেলার সদর উপজেলার হামিদিয়া চা-বাগান ও রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে এ ঘটনাগুলো ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন চা-শ্রমিক এবং অন্যজন কৃষক। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় দুই পরিবারসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের হামিদিয়া চা-বাগানে বজ্রপাতে নিহত হন স্বপন মুন্ডা নামে এক যুবক। বজ্রাঘাতে গুরুতর আহত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে। স্বপন মুন্ডার বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা-বাগানে। এক যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে শোকাহত হয়ে পড়েছেন চা-বাগানের শ্রমিকরা।

অন্যদিকে রাজনগর উপজেলার ৭নং কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামে বজ্রপাতে মারা যান মো. তালেব মিয়া নামে এক কৃষক। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সকালে তিনি নিজের জমিতে ধান কাটতে যান। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে কালো মেঘ জমে বৃষ্টি শুরু হলেও কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। পরে আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বজ্রপাত হলে মাঠেই লুটিয়ে পড়েন তালেব মিয়া। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয় কৃষক ও স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধার করেন।

বজ্রপাতের এই পৃথক দুই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, চলতি মৌসুমে মৌলভীবাজার অঞ্চলে প্রায়ই বজ্রসহ বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে মাঠ ও বাগানে কাজ করতে গিয়ে মানুষ চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। তারা আকাশ কালো হলে ও মেঘের গর্জন শোনা গেলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রকৃতির আকস্মিক রুদ্ররূপে দুই পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্বজনরা। পুরো জেলাজুড়ে বিরাজ করছে শোকাবহ পরিবেশ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর