img

মায়ের পচন ধরা লাশ: সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার

প্রকাশিত :  ১৫:৪৭, ০৩ জুন ২০২৬

মায়ের পচন ধরা লাশ: সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
রাজধানীর মিরপুরে ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মৃত্যুকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার মধ্যেই তার ছেলে যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমানকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রত্যাহার হওয়া আনিসুর রহমান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
কালবেলায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় ভিডিও ধারণ করে সিঅ্যান্ডএফকে ২ কাস্টম কর্মকর্তার হুমকি

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নির্ধারিত কর্মস্থলে যোগদান করতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর না করলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
সেই যুগ্ম সচিব আনিসুরকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার
আল জাজিরার অনুসন্ধান / দান করা মরদেহ ব্যবহৃত হচ্ছে ইসরায়েলের সামরিক প্রশিক্ষণে

এর আগে গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুর-১১ এলাকার একটি বাসা থেকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি দীর্ঘ সময় পড়ে থাকায় পচন ধরে এবং তাতে পোকার উপস্থিতি দেখা যায়। নূর জাহান বেগম তার মেয়ের সঙ্গে ওই বাসায় বসবাস করতেন। বাসাটির পরিবেশ ছিল অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নজরে আসে এবং পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নূর জাহান বেগমের কক্ষসহ পুরো ফ্ল্যাটের পরিবেশ ছিল অস্বাস্থ্যকর ও অবহেলিত।
মরদেহ উদ্ধারের সময়কার দৃশ্যও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। প্রতিবেশীরা বলছেন, একজন বৃদ্ধ নারী এমন অবস্থায় জীবন কাটিয়ে মৃত্যুবরণ করবেন, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

জানা যায়, নূর জাহান বেগমের এক ছেলে যুগ্ম সচিব, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক এবং মেয়ে স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করেন।
সন্তানরা প্রতিষ্ঠিত অবস্থানে থাকলেও মায়ের এমন পরিণতি সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। ঘটনাটি সামনে আসার পর আবারও আলোচনায় এসেছে ২০১৩ সালের পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন।

আইনে প্রত্যেক সন্তানের ওপর পিতা-মাতার ভরণপোষণ, স্বাস্থ্যসেবা, নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরিচর্যার দায়িত্ব আরোপ করা হয়েছে। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে তারা পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে এসব দায়িত্ব পালন করবেন বলে আইনে উল্লেখ রয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বাবার স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখননের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ১৩ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন । শনিবার সকাল পৌনে ১১টায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। 

১৯৭৯ সালের ৪ ডিসেম্বর ‘পাতলী খাল’ খনন করেছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দীর্ঘ ৪৭ বছর পর জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত এই খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে বর্তমান সরকার। 

এর আগে, প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ফ্লাইটটি সকাল ১০টায় কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন।

সফরসূচি অনুযায়ী, দুপুর ১২টায় চকরিয়ার ডুলাহাজারা সাফারি পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন। সেখান থেকে তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কক্সবাজারের প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করবেন এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। পরে নবগঠিত পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পেকুয়ার বাড়িতে বিশ্রাম ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে বিকেল ৪টায় চকরিয়া বাস টার্মিনালে আয়োজিত বিএনপির রাজনৈতিক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জনসভা শেষে কক্সবাজার শহরে সুধী সমাবেশে অংশ নিয়ে মেরিন ড্রাইভ ও সমুদ্র সৈকত পরিদর্শন করবেন তিনি। রাত ১০টায় ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কক্সবাজার সফরকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিএনপির দলীয় নেতাকর্মীরা। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল করতে জোর প্রস্তুতির পাশাপাশি সফরের নির্ধারিত কর্মসূচিগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সমন্বিতভাবে কাজ করছেন।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেবদূত মজুমদার বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কক্সবাজার সফর উপলক্ষে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শুধু পুলিশ নয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অন্যান্য সদস্যদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ), গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি), বিদ্যুৎ বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সব দপ্ত‌র সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। সফরসূচিতে থাকা উদ্বোধন, পরিদর্শন ও মতবিনিময় কর্মসূচিগুলো সফল ও নিরাপদভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় সমন্বয় কার্যক্রমও ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর