img

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: জয় দিয়ে মিশন শুরু বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১৫:৩৩, ১৪ জুন ২০২৬

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: জয় দিয়ে মিশন শুরু বাংলাদেশের

নেদারল্যান্ডসকে ৬ উইকেটে হারিয়ে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দারুণ জয় দিয়ে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ নারী দল।

রোববার (১৪ জুন) বার্মিংহামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নেদারল্যান্ডস নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় ডাচরা। তবে অধিনায়ক বাবেট ডি লিড একপ্রান্ত আগলে রেখে ৪৫ বলে ৫০ রানের দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে নেদারল্যান্ডস তোলে ১৩৯ রান।

বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মারুফা আক্তার, তিনি নেন ২টি উইকেট। এছাড়া ফারিহা তৃষ্ণা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খান ও ঋতু মণি একটি করে উইকেট শিকার করেন।

জবাবে ১৪০ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। পাওয়ারপ্লে থেকেই ডাচ বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করে মাত্র ৩৩ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় ফিফটি তুলে নেন তিনি। ফিফটি করার পর আউট হলেও বাংলাদেশের জয়ের ভিত গড়ে দেন তিনিই।

এরপর কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। অষ্টম ওভারে অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির শূন্য রানে বিদায় এবং ১১তম ওভারে দিলারা আক্তার ও সোবহানা মোস্তারি আউট হলে ম্যাচে উত্তেজনা তৈরি হয়।

তবে শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের অবিচ্ছিন্ন ৫৬ রানের জুটি বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। শারমিন ৩২ বলে ৩৭ রান এবং স্বর্ণা ১৭ বলে ১৮ রান করে অপরাজিত থাকেন।

৫ বল ও ৬ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এই জয়ের মাধ্যমে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাসী সূচনা করল টাইগ্রেসরা।

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

অঘটনের শিকার তুরস্ক, ঐতিহাসিক জয় অস্ট্রেলিয়ার

প্রকাশিত :  ০৭:২৩, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়ে ২০০২ সালে চমকে দিয়েছিল তুরস্ক। এরপর দীর্ঘ ২৪ বছর বিশ্বকাপের মঞ্চে দেখা মেলেনি তাদের। অবশেষে বিশ্বকাপে ফিরল তারা, তাও ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোতে খেলা একদল প্রতিভাবান ফুটবলারকে নিয়ে। কিন্তু প্রত্যাবর্তনের গল্পটা সুখের হলো না। প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরেছে তুরস্ক।

ভ্যাঙ্কুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে অস্ট্রেলিয়ার জয়ের নায়ক একাধিকজন। নেস্তুরি ইরানকুন্ডা ও কনর মেটকাফ গোল করেছেন, তবে সবচেয়ে বড় অবদান গোলকিপার প্যাট্রিক বিচের। ২২ বছর বয়সী এই গোলরক্ষক ৮টি সেভ করে তুরস্ককে হতাশায় ডুবিয়েছেন।

ম্যাচের আগে অস্ট্রেলিয়া কোচ টনি পপোভিচ বড় চমক দেন। অভিজ্ঞ অধিনায়ক ও গোলকিপার ম্যাথু রায়ানকে বেঞ্চে বসিয়ে প্রথম একাদশে জায়গা দেন বিচকে। সহ-অধিনায়ক জ্যাকসন আরভাইনকেও শুরুর একাদশে নামাননি তিনি, তাঁর জায়গায় খেলান ২১ বছর বয়সী মিডফিল্ডার পল ওকন-ওকন–ইংস্টলারকে। ফলে অস্ট্রেলিয়ার শুরুর একাদশের ১০ জনই ছিলেন বিশ্বকাপ অভিষিক্ত ফুটবলার।

শেষ পর্যন্ত পপোভিচের সিদ্ধান্ত দুটি কাজেও লেগেছে। ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখল ও আক্রমণে এগিয়ে ছিল তুরস্ক। কিন্তু প্রতিবারই তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান বিচ। আর সুযোগ পেয়ে পাল্টা আক্রমণে আঘাত হানে অস্ট্রেলিয়া।

২৮তম মিনিটে আসে সেই মুহূর্ত। ওকন-ওকন–ইংস্টলারের নিখুঁত দীর্ঘ পাস ধরে তুরস্কের রক্ষণভাগ ভেঙে এগিয়ে যান ইরানকুন্ডা। এরপর শান্ত মাথায় বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি।

এর আগে ২৭তম মিনিটে ম্যাচের সেরা সুযোগগুলোর একটি পেয়েছিল তুরস্ক। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা আর্দা গুলেরের জোরালো শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন বিচ। প্রথমার্ধে এটাই ছিল অস্ট্রেলিয়ান গোলকিপারের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেভের একটি।

দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র। ৫৭তম মিনিটে গুলেরের ফ্রি-কিক কর্নারের বিনিময়ে ফিরিয়ে দেন বিচ। তুরস্ক যতই আক্রমণে উঠেছে, ততই দৃঢ় হয়ে উঠেছে অস্ট্রেলিয়ার রক্ষণ।

অবশেষে ৭৫তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য প্রায় নিশ্চিত করে ফেলে অস্ট্রেলিয়া। মাঝমাঠে বল পেয়ে সামনে এগিয়ে যান কনর মেটকাফ। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া তাঁর দুর্দান্ত শট জালে জড়ালে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

বাকি সময়ে আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি তুরস্ক। ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা দলটিকে তাই হতাশা নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে।

এই জয়ে গ্রুপ ডিতে ৩ পয়েন্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সমান অবস্থানে উঠে এসেছে অস্ট্রেলিয়া। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে মুখোমুখি হবে দল দুটি।