img

আস্থা ফেরাতে গ্রাহকদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৭:৪৯, ১৫ জুন ২০২৬

আস্থা ফেরাতে গ্রাহকদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের বিশেষ ঘোষণা

আমানত নিয়ে উদ্বেগের কারণে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির বিভিন্ন সঞ্চয় ও মেয়াদি আমানত হিসাব নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ করেছেন এমন গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা ঘোষণা করেছে ব্যাংকটি। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকরা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তাদের হিসাব পুনরায় সক্রিয় করলে আগাম নগদায়নের কারণে আরোপিত সব ধরনের ফি ও আর্থিক ক্ষতি মওকুফ করা হবে।

আজ সোমবার (১৫ জুন) ব্যাংকের এক বিশেষ নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ১ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ সময়ের মধ্যে যেসব গ্রাহক  MTDRA, MSB, MMPDS এবং MSSA হিসাব প্রি-ম্যাচিউর অবস্থায় বন্ধ বা নগদায়ন করেছেন এবং এর ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তারা আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে একই ধরনের হিসাব পুনরায় চালু করতে পারবেন।

ব্যাংক জানিয়েছে, চলমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এসব গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে যে খরচ, চার্জ বা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি হিসাবগুলোকে নতুন হিসাব হিসেবে নয়, বরং চলমান হিসাব হিসেবে গণ্য করা হবে।

ফলে গ্রাহকরা আগের আমানতের ধারাবাহিক সুবিধা ফিরে পাবেন।

ইসলামী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের অযথা গুজব বা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট শাখা ও ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার আহ্বান জানিয়েছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা মনে করছেন, গ্রাহকবান্ধব এ উদ্যোগের ফলে প্রি-ম্যাচিউর নগদায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অনেক গ্রাহক পুনরায় তাদের আমানত হিসাব চালু করতে আগ্রহী হবেন এবং এতে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা আরো সুদৃঢ় হবে।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১০:০২, ১৫ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক তারল্যসংকট কমাতে বেসরকারি খাতের ইসলামী ব্যাংককে আরো ২৫০০ কোটি টাকা বিশেষ ধার দিয়েছে। আজ সোমবার (১৫ জুন) ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এর আগে রবিবার ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকা তারল্য সহায়তা দেওয়ার কথা জানায় বাংলাদেশ ব্যাংক। ১০ হাজার কোটি টাকা চাওয়ার বিপরীতে প্রাথমিকভাবে এই অঙ্কের অর্থ দেওয়া হয়েছে ব্যাংকটিকে। চলতি মাসে প্রথম ১০ দিনে আমানতকারীদের নগদ টাকা উত্তোলনের চাপ সামাল দিতেই মূলত এই বিশেষ ধার দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার ইসলামী ব্যাংকের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে জানিয়ে গভর্নর প্রয়োজনে নগদ সহায়তার বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

একই সঙ্গে প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরো সহায়তার বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে বলে জানায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য মতে, ইসলামী ব্যাংক থেকে ১ থেকে ৯ জুন পর্যন্ত ৯ দিনে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। এ ছাড়া ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ রয়েছে।

ব্যাংকটির অভ্যন্তরীণ হিসাব অনুযায়ী, ১ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত আমানত কমেছে ৪ হাজার ২০৪ কোটি টাকা।

পরবর্তী দুই দিনে আরো প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়। এতে কয়েকটি শাখা ও এটিএম বুথে নগদ অর্থের চাপ তৈরি হয়।

এরপর বিকেলে ইসলামী ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব), দুইজন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ছয়জন উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

পরে রাতে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানসহ পরিচালনা পর্ষদের সব নিয়োগ বাতিল করে বোর্ডের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক জহির হোসেনকে নিযুক্ত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।