img

খামেনির জানাজায় ইমামতি করা কে এই আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী

প্রকাশিত :  ০৮:২৬, ০৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:৩৭, ০৫ জুলাই ২০২৬

খামেনির জানাজায় ইমামতি করা কে এই আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী

ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্যের প্রথম জানাজা রোববার (৫ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজার নামাজে ইমামতি করেন বিশিষ্ট ধর্মীয় নেতা গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানী।

ইরানে অত্যন্ত শ্রদ্ধেয় এই গ্র্যান্ড আয়াতুল্লাহর বয়স ৯৭ বছর। তিনি কোম সেমিনারির মুজতাহিদদের কাউন্সিলের একজন শীর্ষস্থানীয় সদস্য। কোম সেমিনারি দ্বাদশী শিয়া মতবাদের শিক্ষা ও গবেষণার দুটি প্রধান কেন্দ্রের একটি।

তিনি ইরানের ইমাম সাদিক ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক। এর আগে তিনি কোমের সোসাইটি অব সেমিনারি টিচার্সের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইসলামী জ্ঞানের প্রায় সব শাখায় তার গবেষণা ও অবদান ব্যাপকভাবে পরিচিত এবং তার কাজ সমালোচনামূলকভাবে মূল্যায়িত হয়ে থাকে। আয়াতুল্লাহ সোবহানী একজন অত্যন্ত প্রাজ্ঞ লেখক।  তিনি ৩০০টিরও বেশি গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ও প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে রোববারের এই জানাজার নামাজে ইরানের জ্যেষ্ঠ সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শোকাহত মানুষ এবং অন্যান্য দেশের সমর্থকেরাও উপস্থিত ছিলেন।

শনিবার শুরু হওয়া দুই দিনের গণবিদায় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর সোমবার (৬ জুলাই) তেহরানে খামেনির জানাজার শোভাযাত্রা ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হবে। এতে তেহরানের বিপুলসংখ্যক মানুষ এবং ইরানের বিভিন্ন অঞ্চল ও অন্যান্য দেশ থেকে আসা সমর্থকদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

এরপর মঙ্গলবার খামেনির মরদেহ বিদায় অনুষ্ঠান ও জানাজার জন্য কোম শহরে নেওয়া হবে।

এ ছাড়া ইরাকি কর্মকর্তাদের অনুরোধে বুধবার ইরাকের পবিত্র শহর কারবালা ও নাজাফে খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর বৃহস্পতিবার শিয়াদের পবিত্র শহর মাশহাদে তার মরদেহ দাফনের জন্য নিয়ে যাওয়া হবে।

এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় আলি খামেনি এবং তার পরিবারের চার সদস্য—ড. মেসবাহ আল-হোদা (মেয়ে জামাতা), সাইয়্যেদেহ বুশরা হোসেইনি খামেনি (কন্যা), জাহরা হাদ্দাদ আদেল (পুত্রবধূ) এবং জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানি (নাতনি) নিহত হন।

ধর্ম এর আরও খবর

img

বায়তুল মোকাররমে খতিবের ‘অপসারণ দাবি’ ঘিরে উত্তেজনা

প্রকাশিত :  ১১:২৪, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৫, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে । খতিবকে ‘সরিয়ে দেওয়া হবে’ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেন একদল মুসল্লি। এ সময় ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। তবে খতিবের অপসারণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, এই মসজিদের খতিব মিম্বারে এবং সব মুসলমানের নয়নের মণি। তিনি এখানে খতিব থাকবেন এবং নামাজ পড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম কোনো দলের পক্ষে নয়। ইসলাম আল্লাহর, ইসলাম তৌহিদীদের, ইসলাম আমাদের মুসলমানদের।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।

সম্প্রতি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিজের আপত্তি তুলে ধরার সময় তাকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।

খতিবের এসব মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগানের ঘটনা ঘটল।


ধর্ম এর আরও খবর