লন্ডনে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় বক্তাগণ

img

‘মুহাদ্দিস হবিগঞ্জী ছিলেন এ শতাব্দীর বিরল প্রতিভার অধিকারী, একজন উপমাহীন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ’

প্রকাশিত :  ১৫:১৭, ০৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৫:২৩, ০৯ জুলাই ২০২৬

‘মুহাদ্দিস হবিগঞ্জী ছিলেন এ শতাব্দীর বিরল প্রতিভার অধিকারী, একজন উপমাহীন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ’

জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি, উপমহাদেশের শীর্ষ শায়খুল হাদীস ও জগৎবরেণ্য মুফাসসিরে কোরআন হযরত আল্লামা তাফাজ্জুল হক মুহাদ্দিস হবিগঞ্জী রহমাতুল্লাহি আলাইহির মহান জীবনাদর্শ ও অতুলনীয় অবদান শীর্ষক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকে।

গত ৬ জুলাই সোমবার বিকেল ৭ ঘটিকা থেকে মাগরিব পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন ইউকে জমিয়তের সভাপতি ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ। সম্মেলনে সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেন ইউকে জমিয়তের সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ। লন্ডনের বিখ্যাত ফোর্ড স্কয়ার মসজিদের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত বরকতময় এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। প্রধান আলোচক হিসাবে বক্তব্য প্রদান করেন হযরত হবিগঞ্জীর কৃতী সন্তান, জামেয়া ইসলামিয়া উমেদনগর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাসরুরুল হক। হযরত শায়খ হবিগঞ্জীর অপূর্ব যোগ্যতা, উপযুক্ততা, গ্রহণযোগ্যতাও সার্বজনীনতা সম্পর্কে বিশেষ আলোচনা উপস্থাপন করেন ইউকে জমিয়তের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আবদুল মুনতাকিম। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনা পেশ করেন কাউন্সিল অফ মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটস এর চেয়ারম্যান হাফিজ মাওলানা শামছুল হক,মাজাহিরুল উলূম লন্ডনের প্রিন্সিপাল মাওলানা ইমদাদুর রহমান আল মাদানী।

আলোচনা সভায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের সহ সভাপতি মাওলানা সৈয়দ তামীম আহমদ, সহ সভাপতি হাফিজ হুসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, ইউকে জমিয়তের তাফসীরুল কুরআন বিষয়ক সম্পাদক হাফিজ মাওলানা মুশতাক আহমদ, ইউকে জমিয়তের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মইন উদ্দিন খান,ইউকে জমিয়তের সহ সাধারণ সম্পাদক মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ, ইউকে জমিয়তের সহ সাংগঠনিক সম্পাদক ও টাওয়ার হ্যামলেটস শাখার সেক্রেটারী মাওলানা নাজমুল হাসান, ইউকে জমিয়তের ট্রেজারার ও হ্যাকনী জমিয়তের সেক্রেটারি হাফিজ রশিদ আহমদ, ইউকে জমিয়তের উপদেষ্টা আলহাজ্ব খালিস মিয়া এবং ইউকে জমিয়তের প্রচার সম্পাদক মাওলানা শামসুল ইসলাম।

এ মহান অনুষ্ঠানে আল্লামা  হবিগঞ্জি রহ: সম্পর্কে বক্তাগণ উল্লেখ করেন যে, তিনি একসঙ্গে উপমহাদেশের প্রখ্যাত প্রবীন মুহাদ্দিস, লক্ষ লক্ষ মানুষের আলোর মিনার, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি এবং প্রকৃত অর্থে শায়খুল কুরআন ও শায়খুল বুখারী ছিলেন। 

বক্তাগণ আরো উল্লেখ করেন যে, আল্লামা তফজ্জুল হক হবিগঞ্জী রহ: ছিলেন, সংগ্রাম-সাধনার যুগপৎ কান্ডারী শায়খুল ইসলাম হযরত মাদানী ও শায়খুল হিন্দের প্রকৃত উত্তরসূরী। তিনি ছিলেন কুরআন সুন্নাহ'র অসাধারণ পন্ডিত ও ভাষ্যকার। সকলের কাছে তিনি ছিলেন মাকবুল। আল্লাহর ইশক-মুহাব্বাত, সুন্নাতের অনুসরণ, জিহাদ, সাধনাসহ সকল ক্ষেত্রে তিনি ছিলেন সমুজ্জল তারকা। 

বক্তাগণ আরো বলেন, হযরত মুহাদ্দিসে হবিগঞ্জি রহ:'র মাঝে ঘটিছিল সকল গুণাবলীর অপূর্ব সমাহার  তিনি ছিলেন এ শতাব্দীর বিরল প্রতিভার অধিকারী, একজন উপমাহীন ক্ষণজন্মা মহাপুরুষ। আল্লামা হবিগঞ্জি রহ: একাধারে হাটহাজারিতে আল্লামা আব্দুল কাইয়ুম সাহেব রহ: কাছে বুখারী শরীফ পড়েন। পরবর্তীতে তিনি আল্লামা মুফতি ফয়জুল্লাহ রহ., শায়খুল হাদিস ইমাম জাকারিয়া (রাহঃ)  আল্লামা ইদরিস কান্দালাভি রাহঃ রহ.আল্লামা ফখরুদ্দিন মুরাদাবাদি রাহঃ আল্লামা ইউসুফ বিন্নুরি রাহঃ'র কাছে  বুখারি শরিফ পড়েন।  এমন সুউচ্ছ বেমেসাল হাদিসের সনদের অধিকারি মুহাদ্দিস সত্যিই বিরল। মৃত্যুর সামন্য পূর্বপর্যন্ত তিনি দারসের মাধ্যমে এ বুখারি শরিফের খেদমত করে গেছন। আল্লামা হবিগঞ্জি রহ: ইসলাম বাস্তবায়নের মহান লক্ষ্যে, নিষ্ঠার সঙ্গে জীবনভর জমিয়তের নেতৃত্ব দিয়ে গেছেন।

সভায় বক্তাগণ আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি কে দ্বীন ইসলামের হেফাজত কল্পে ঈমানী আন্দোলন, শিরক বিদআতের খন্ডন এবং ইলম আমল ও আধ্যাত্মিক উৎকর্ষের দিক বিবেচনায় এযুগে ইসলামের মহানায়ক আখ্যায়িত করে তাঁর ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত জীবনের পদাংক অনুসরণের প্রয়োজন তুলে ধরেন।

আল্লামা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী সম্পর্কে বক্তাগণ উল্লেখ করেন, তাফসীর,হাদীস ও ফেকাহ সহ ইসলামী জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রতিটি শাখা প্রশাখায় অসাধারণ যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখার পাশাপাশি সাবলীল ভাষা ও অপ্রতিরোধ্য রুহানী শক্তি নিয়ে মাওলানা তাফাজ্জুল হক হবিগঞ্জী ওয়াজ ও তাফসীরের মাধ্যমে দেশ দুনিয়া চষে বেড়িয়েছেন। লক্ষ লক্ষ তাওহিদী জনতা কে সাবলীল ও হৃদয়গ্রাহী ভাষায় তাফসীরুল কোরআন ভিত্তিক আলোচনার মাধ্যমে হেদায়েতের পথ দেখিয়ে স্বীয় ময়দানে সাফল্যের শীর্ষে আরোহণ করেছেন তিনি।

ঈমানের দাবিতে গন আন্দোলনে সফল নেতৃত্ব দানের ইতিহাস ও তিনি রচনা করে গেছেন। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে তার হুংকারে মঞ্চ কাঁপত। তিনি সুন্নাতে নববীর চিত্তাকর্ষক নমুনা ছিলেন।

আল্লামা তাফাজ্জুল হক (রাহঃ)'র মহান জীবনাদর্শের দিকে তাকালে আমাদের চোঁখের সামনে ভেসে উঠবে তিনি যেন কুতবে আলম শায়খুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানীর প্রতিচ্ছবি। আশরাফ আলী থানভী ও শায়খুল হাদীস জাকারিয়া রহ এলমের গভীরতা।

একটি রোরাল ডিস্ট্রিকে বাস করেও উম্মুল মাদারিস হাটহাজারীর জলসাতে তিনি প্রধান অতিথি হয়ে আমন্ত্রিত হতেন। ঢাকার খতমে বোখারির মাহফিল গুলোতে তিনি হাদীসের আলো ছড়াতেন। সারা দেশে এক মহান শায়খুল হাদীস হিসাবে এক নামে শ্রদ্ধায় মহিয়ান ছিলেন।

বিরল ব্যক্তিত্বের অধিকারী এই মনীষা দেশের গন্ডি পেরিয়ে আরব বিশ্ব, ইউরোপ আমেরিকাতে মাসের পর মাস তার দাওয়াতি ও ইসলাহী মাহফিল দ্বারা উম্মাহ কে দ্বীনের পথে কোরআনের পথে আহ্বান করে গেছেন।

সভা শেষে হযরত শায়খ হবিগঞ্জী রাহমাতুল্লাহি আলাইহি সহ সকল উলামা মাশায়েখ এর পরকালীন দরজা বুলন্দীর জন্য বিশেষভাবে মোনাজাত করা হয়।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসের লোকাল প্ল্যান শুনানি স্থগিত করেছে প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরেট

প্রকাশিত :  ১৩:১৫, ০৮ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের খসড়া লোকাল প্ল্যানের শুনানি স্থাগিত করা হয়েছে। ৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিলো এই শুনানি। আপাতত এটি স্থগিত করেছেন প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরেট।

সম্প্রতি সিটি অব লন্ডনের খসড়া লোকাল প্ল্যানের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরেটদেরকে চিঠি পাঠিয়েছেন ইউকের হাউজিং ও প্ল্যানিং মিনিস্টার ম্যাথিউ পেনীকুক এমপি। এই দুই  ইন্সপেক্টরেট টাওয়ার হ্যামলেটসের খসড়া লোকাল প্ল্যান পরীক্ষার কাজে নিয়োজিত থাকায় শুনানি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মিনিস্টারের চিঠিতে ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা টাওয়ার অব লন্ডন-এর বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। টাওয়ার অব লন্ডন টাওয়ার হ্যামলেটস এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত শুনানি পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরেট। নতুন শুনানির তারিখ পরবর্তীতে প্ল্যানিং ইন্সপেক্টরেট ঘোষণা করবেন।

টাওয়ার হ্যামলেটসের লোকাল প্ল্যান হলো বারার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা নথি। যেখানে ভবিষ্যতে নতুন হাউজিং, কর্মসংস্থান, অবকাঠামো ও অন্যান্য উন্নয়ন কোথায় এবং কীভাবে হবে তার রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়। এটি হাউজিং সংকট মোকাবিলা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য আরও ভালো সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই সিদ্ধান্ত টাওয়ার হ্যামলেটস এবং সিটি অব লন্ডন উভয়ের জন্যই হতাশাজনক। আমাদের লোকাল প্ল্যানে বারার প্রয়োজনীয় হাউজিং ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিলো। বিশেষ করে লন্ডনের তীব্র  হাউজিং সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ও প্রকৃত সাশ্রয়ী মূল্যের ঘরবাড়ি নির্মাণে এই পরিকল্পনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”

এ ব্যাপারে পরবর্তী আপডেটের জন্য লোকাল প্ল্যান এক্সামিনেশন সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে ভিজিট করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


কমিউনিটি এর আরও খবর