img

আন্দোলনের মাঝেই আজ ১০ বোর্ডে চলছে পরীক্ষা, বিকেলে হবে লংমার্চ

প্রকাশিত :  ০৫:৩৪, ১৫ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৪০, ১৫ জুলাই ২০২৬

আন্দোলনের মাঝেই আজ ১০ বোর্ডে চলছে পরীক্ষা, বিকেলে হবে লংমার্চ
পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে চলমান আন্দোলনের মধ্যেই আজ, ১৫ জুলাই, দেশের ১০টি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি ও সমমানের নির্ধারিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই দিনে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর রাজধানীর উত্তরা থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। ফলে শিক্ষা অঙ্গনে একদিকে পরীক্ষা গ্রহণ, অন্যদিকে আন্দোলন—দুই পরিস্থিতিই একসঙ্গে চলছে।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টা থেকে আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আরবি দ্বিতীয় পত্র এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা-২ বিষয়ের পরীক্ষাও অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

তবে জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এ দিনের পরীক্ষা স্থগিত রয়েছে। অন্যদিকে, আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি জানিয়েছে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড ছাড়া বাকি সব শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষা নেওয়ার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। এ কারণে পূর্বঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও একই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন একদল শিক্ষার্থী। তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— বন্যা ও জলাবদ্ধতার প্রভাব পুরোপুরি কেটে না যাওয়া পর্যন্ত এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর পদত্যাগ।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘোষণায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, বুধবার পরীক্ষা শেষে বেলা ১টা ৩০ মিনিটে রাজধানীর উত্তরার বিএনএস সেন্টার থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশে লংমার্চ শুরু হবে। ‘শিক্ষা আমাদের অধিকার, অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হোন’— এই স্লোগানে ঘোষিত কর্মসূচিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থী, সাধারণ শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের অংশ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

শিক্ষা এর আরও খবর

img

শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ৪ কোপ, চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৮, ১৪ জুলাই ২০২৬

সিঁথি সীমিতা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট পড়ানোর পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা নামে এক স্কুলশিক্ষিকার ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছাত্রীর মা ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। হামলায় শিক্ষিকার মাথায় চারটি গভীর কোপ লাগে এবং হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম মোছা. প্রিয়া বেগম (২৫)। তিনি পানাউল্লাচারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। পরে এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) শিবপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির মৃত সুলয়মান মিয়ার মেয়ে ও পানাউল্লাচর এলাকার ইতালি প্রবাসী মো. মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়ান। সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো প্রিয়া বেগমের মেয়ে সাফা মনিকে (৪) পড়াতে তার বাসায় যান শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা। এ সময় ওই শিক্ষিকা প্রিয়া বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া থাকা ১ হাজার ৫০০ টাকা চান। প্রাইভেট পড়ানো শেষে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়ার পর আবার ফেলে আসা ছাতা আনতে প্রিয়ার বাসায় যান। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী দা দিয়ে শিক্ষিকাকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করেন। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটক করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। 

আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ‘আমার ভাবী একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াতে গিয়েছিলেন। পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে এসআই আসিবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 


শিক্ষা এর আরও খবর