img

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে বিমান হামলা

প্রকাশিত :  ০৫:২৩, ১৯ জুলাই ২০২৬

জর্ডানে দুই মার্কিন সেনা নিহতের পর ট্রাম্পের নির্দেশে ইরানে বিমান হামলা

জর্ডানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই মার্কিন সেনা নিহত এবং আরও একজন নিখোঁজ হওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনার পরপরই পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে বিমান হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

ফলে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। রোববার (১৯ জুলাই) বিবিসির এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

জানা যায়, ইরানের হামলায় আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে চিকিৎসার জন্য জর্ডানের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল ছেড়েছেন। এছাড়া সামান্য আহত অন্য সেনারা আবার দায়িত্বে ফিরে গেছেন।

তবে নিহত দুই সেনার পরিচয় কিংবা তারা কোথায় এবং কী পরিস্থিতিতে নিহত হয়েছেন, সে বিষয়ে কোনও তথ্য প্রকাশ করেনি মার্কিন সামরিক বাহিনী। 

এদিকে হামলার আগে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘সংঘাত বাড়িয়ে তোলার চেষ্টার’ জন্য ওয়াশিংটনকে চড়া মূল্য দিতে হবে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে আরও বলা হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে ইরানের হুমকি থামাতে এই হামলা চালানো হয়েছে। শনিবার রাতে জর্ডানে মার্কিন সেনাসদস্যদের ওপর হামলা চালানো ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) ইউনিটগুলোকে দ্রুত শাস্তি দিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।

এদিকে ইরানের মেহের নিউজ এ হামলার বিষয়ে জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের সিরিক এলাকার কাছে এই হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা বা অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ লিখেছেন, ‘বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা রইল। তাদের এই আত্মত্যাগ আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করবে।’

এর এক মাস আগে, স্বাক্ষরিত একটি অন্তর্বর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি গত সপ্তাহে ভেস্তে যায়। এরপর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একে অপরের ওপর হামলা জোরদার করেছে। এই পরিস্থিতি দুই দেশের মধ্যে আবারও একটি পুরোদস্তুর যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।


 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মেসিকে কীভাবে আটকেছেন, জানালেন স্পেনের কোচ

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ভিত্তি । ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সেই সফল কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, দলগত শৃঙ্খলা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিখুঁত দায়িত্ব পালনই বিশ্বকাপ জয়ের মূল চাবিকাঠি।

পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা পার করিয়ে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই পরিচিত মেসিকে খুব একটা দেখা যায়নি। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠের কারণে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন।

ফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল মেসিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখা এবং বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তার খেলোয়াড়রা। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগও ছন্দ হারায় এবং মেসি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম রাই স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ কোচ বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার দল ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তার বিশ্বাস, ফাইনালেও স্পেনই ছিল শ্রেষ্ঠ দল। যদিও ব্যবধান আরও বড় হতে পারত, তবু বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচে জয় কখনো সহজে আসে না। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের ফল হিসেবেই এই শিরোপা এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে এমন সব জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি খেলোয়াড় শতভাগ সফল হয়েছে।

স্পেনের কোচ আরও বলেন, এই বিশ্বকাপ জয়ে কোনো একক তারকার অবদান নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, দলের প্রতিটি ফুটবলার নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন এবং সবাই মিলে একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে খেলেছেন। সেই কারণেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, তার দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে, যারা কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজ করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রত্যেকেই দলের জন্য সর্বোচ্চ নিবেদন দেখিয়েছে। তিনি মনে করেন, স্পেন শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের দল নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে লা রোজার মাথায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর