img

যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলবে না: খামেনি

প্রকাশিত :  ০৭:৪৫, ১৯ জুলাই ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রকে এমন শিক্ষা দেওয়া হবে, যা তারা কখনো ভুলবে না: খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি যুক্তরাষ্ট্রকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরান ও তার আঞ্চলিক মিত্রদের পক্ষ থেকে এমন জবাব দেওয়া হবে, যা ওয়াশিংটন কখনো ভুলতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বারবার লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র প্রমাণ করেছে যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের কোনো বিশ্বাসযোগ্যতা নেই।

গতকাল শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে খামেনির নামে একটি লিখিত বিবৃতি প্রচার করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে লঙ্ঘন করেছে, তাতে ট্রাম্পের স্বাক্ষর ‘সম্পূর্ণ মূল্যহীন ও অবিশ্বাস্য’ বলে প্রমাণিত হয়েছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘চুক্তির ক্ষেত্রে মহাশয়তান বারবার অঙ্গীকার ভঙ্গ করে আবারও প্রমাণ করেছে যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের কোনো মূল্য নেই। জুলুম, আধিপত্যবাদ ও বর্বরতা যুক্তরাষ্ট্রের নীতির অবিচ্ছেদ্য অংশ।’

খামেনি আরও বলেন, ‘মার্কিন শত্রু যখন যুদ্ধ আরও উসকে দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং বড় মূল্য ও অপমানের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তখন তাদের জানা উচিত, প্রিয় ইরানি জাতি ও প্রতিরোধ ফ্রন্ট তাদের জন্য এমন শিক্ষা প্রস্তুত রেখেছে, যা তারা কখনো ভুলতে পারবে না।’

এদিকে চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও জোরদার করেছে। ইরানের অভিযোগ, মার্কিন হামলায় সেতু, রেলপথ, সমুদ্রের পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু হয়েছে।

জবাবে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর কথা নিশ্চিত করেছে তেহরান। এছাড়া ভারত মহাসাগরের উত্তরে অবস্থানরত একটি মার্কিন জাহাজে হামলার দাবিও করেছে তারা।

কুয়েতের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের হামলায় দেশটির একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও একটি পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নাগরিকদের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের আহ্বান জানানো হয়েছে।

খামেনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র তার ‘আসল চেহারা’ প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে দেশটির ‘প্রতারণাপূর্ণ চরিত্র, অবিশ্বস্ততা ও কু-অভিপ্রায়’ স্পষ্ট হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি দেশকে রক্ষায় নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখার আহ্বান জানান এবং চলমান সংঘাতের মধ্যে জনগণকে সতর্ক ও সক্রিয় থাকারও আহ্বান জানান।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী ইরানের সমর্থনে বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করতে পারে-এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ওপর যুদ্ধ বন্ধের চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।

গত মাসে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল স্থায়ী যুদ্ধবিরতির পরিবেশ তৈরি করা। তবে চুক্তির পর থেকেই উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সমঝোতাকে কার্যত অকার্যকর বলে ঘোষণা করেছে।

 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মেসিকে কীভাবে আটকেছেন, জানালেন স্পেনের কোচ

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ভিত্তি । ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সেই সফল কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, দলগত শৃঙ্খলা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিখুঁত দায়িত্ব পালনই বিশ্বকাপ জয়ের মূল চাবিকাঠি।

পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা পার করিয়ে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই পরিচিত মেসিকে খুব একটা দেখা যায়নি। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠের কারণে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন।

ফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল মেসিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখা এবং বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তার খেলোয়াড়রা। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগও ছন্দ হারায় এবং মেসি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম রাই স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ কোচ বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার দল ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তার বিশ্বাস, ফাইনালেও স্পেনই ছিল শ্রেষ্ঠ দল। যদিও ব্যবধান আরও বড় হতে পারত, তবু বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচে জয় কখনো সহজে আসে না। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের ফল হিসেবেই এই শিরোপা এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে এমন সব জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি খেলোয়াড় শতভাগ সফল হয়েছে।

স্পেনের কোচ আরও বলেন, এই বিশ্বকাপ জয়ে কোনো একক তারকার অবদান নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, দলের প্রতিটি ফুটবলার নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন এবং সবাই মিলে একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে খেলেছেন। সেই কারণেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, তার দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে, যারা কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজ করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রত্যেকেই দলের জন্য সর্বোচ্চ নিবেদন দেখিয়েছে। তিনি মনে করেন, স্পেন শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের দল নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে লা রোজার মাথায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর