img

রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় নিহত ৯

প্রকাশিত :  ০৯:৩৬, ১৯ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০২, ১৯ জুলাই ২০২৬

রাশিয়াজুড়ে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় নিহত ৯

ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৮০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। হামলায় মস্কোর উপকণ্ঠের একটি তেল ডিপো এবং দেশটির শীর্ষ অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (১৮ জুলাই) রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এপি।

রুশ কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক ও মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামে আগুন ধরে যায়। কতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কর্মরত সাত শ্রমিক নিহত এবং আরও ২৫ জন আহত হন।

মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেল ডিপোতেও ড্রোন হামলা হয়েছে। এতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলে কাছের একটি মাতৃসদন হাসপাতাল ও আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনে পড়ে আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তিনি আরও জানান, মস্কো অঞ্চলে মোট ৬১ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতদের একজন পরে মারা যান।

এদিকে শনিবার বিকেলে বেলগোরোদ অঞ্চলেও পৃথক এক ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

হামলার পর ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামেই আগুন লাগে। এর মধ্যে কতোভস্কের আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ইলেকট্রোস্তালের গুদামে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দাবি করেছেন, হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা এবং একটি তেল স্থাপনা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, এসব স্থাপনা রাশিয়ার ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহে ব্যবহৃত হতো।

এ ছাড়া ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, নোগিনস্কের জ্বালানি ডিপো, কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন লুহানস্ক অঞ্চলের একটি রেলসেতুতেও হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৯টি অঞ্চল, ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের আকাশে মোট ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে কিয়েভ রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা আরও জোরদার করেছে। ইউক্রেনের দাবি, এসব হামলার উদ্দেশ্য রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা দুর্বল করা এবং যুদ্ধের প্রভাব দেশটির ভেতরেও অনুভব করানো।

সূত্র: এবিসি নিউজ  

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মেসিকে কীভাবে আটকেছেন, জানালেন স্পেনের কোচ

প্রকাশিত :  ১০:৩৬, ২০ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসিকে কার্যকরভাবে নিষ্ক্রিয় করে রাখা ছিল স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের অন্যতম ভিত্তি । ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয়ের পর সেই সফল কৌশলের কথা তুলে ধরেছেন স্পেনের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তার মতে, দলগত শৃঙ্খলা, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিটি খেলোয়াড়ের নিখুঁত দায়িত্ব পালনই বিশ্বকাপ জয়ের মূল চাবিকাঠি।

পুরো ২০২৬ বিশ্বকাপজুড়ে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি ছিলেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সেও নিজের অসাধারণ পারফরম্যান্সে দলকে একের পর এক কঠিন পরীক্ষা পার করিয়ে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে সেই পরিচিত মেসিকে খুব একটা দেখা যায়নি। স্পেনের সংগঠিত রক্ষণ এবং নিয়ন্ত্রিত মাঝমাঠের কারণে আর্জেন্টিনার অধিনায়ক পুরো ম্যাচে নিজের স্বাভাবিক প্রভাব বিস্তার করতে ব্যর্থ হন।

ফাইনালের পর দে লা ফুয়েন্তে জানান, শুরু থেকেই তাদের লক্ষ্য ছিল মেসিকে বিপজ্জনক জায়গা থেকে দূরে রাখা এবং বলের দখল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখা। এই পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে পেরেছেন তার খেলোয়াড়রা। ফলে আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগও ছন্দ হারায় এবং মেসি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি করতে পারেননি।

ইতালির সংবাদমাধ্যম রাই স্পোর্টস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্প্যানিশ কোচ বলেন, পুরো বিশ্বকাপজুড়ে তার দল ধারাবাহিকভাবে ভালো ফুটবল খেলেছে এবং প্রতিটি ম্যাচ থেকেই গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা নিয়েছে। তার বিশ্বাস, ফাইনালেও স্পেনই ছিল শ্রেষ্ঠ দল। যদিও ব্যবধান আরও বড় হতে পারত, তবু বিশ্বকাপের মতো বড় ম্যাচে জয় কখনো সহজে আসে না। কঠোর পরিশ্রম, আত্মত্যাগ এবং ধৈর্যের ফল হিসেবেই এই শিরোপা এসেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মেসিকে থামানোর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, বলের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছে রাখাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। পজেশনভিত্তিক ফুটবল খেলায় আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে এমন সব জায়গায় আটকে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে তিনি ম্যাচে বড় প্রভাব ফেলতে পারেননি। তার মতে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রতিটি খেলোয়াড় শতভাগ সফল হয়েছে।

স্পেনের কোচ আরও বলেন, এই বিশ্বকাপ জয়ে কোনো একক তারকার অবদান নয়, বরং পুরো দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার ভাষায়, দলের প্রতিটি ফুটবলার নিজের দায়িত্ব নিখুঁতভাবে পালন করেছেন এবং সবাই মিলে একটি শক্তিশালী ইউনিট হিসেবে খেলেছেন। সেই কারণেই স্পেন পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে প্রতিপক্ষের ওপর আধিপত্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

খেলোয়াড়দের প্রশংসা করে দে লা ফুয়েন্তে বলেন, তার দলে বিশ্বের সেরা কয়েকজন ফুটবলার রয়েছে, যারা কঠিন পরিস্থিতিকেও সহজ করে তুলতে পারে। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, প্রত্যেকেই দলের জন্য সর্বোচ্চ নিবেদন দেখিয়েছে। তিনি মনে করেন, স্পেন শুধু প্রতিভাবান খেলোয়াড়ের দল নয়, বরং পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে সংগঠিত ও ভারসাম্যপূর্ণ দল হিসেবেই নিজেদের প্রমাণ করেছে। সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট উঠেছে লা রোজার মাথায়।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর