img

টাওয়ার হ্যামলেটসের স্কুলগুলোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়নে ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ

প্রকাশিত :  ১৯:৫১, ২০ জুলাই ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটসের স্কুলগুলোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উন্নয়নে ৪ দশমিক ৮ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ
ক্যাপশনঃ গত মার্চে হারমিটেজ প্রাইমারী স্কুলে একটি আধুনিক অটিজম রিসোর্স সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার।
ক্যাপশনঃ গত মার্চে হারমিটেজ প্রাইমারী স্কুলে একটি আধুনিক অটিজম রিসোর্স সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে

টাওয়ার হ্যামলেটস বারার স্কুলগুলোতে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা উন্নত করতে £৪.৮ মিলিয়ন বিনিয়োগ থেকে বিশেষ শিক্ষাগত চাহিদা ও প্রতিবন্ধিতা (এসইএনডি বা সেন্ড) সম্পন্ন শিশু ও তরুণরা উপকৃত হবে।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল পরিচালিত এই কর্মসূচিটি স্থানীয়ভাবে এ ধরনের প্রথম উদ্যোগ, যা স্কুলের পরিবেশে বিভিন্ন উন্নয়ন সাধনে সহায়তা করবে, যাতে অতিরিক্ত চাহিদাসম্পন্ন আরও বেশি শিক্ষার্থী মূলধারার স্কুলে শিখতে, বিকশিত হতে এবং সফল হতে পারে।

এই বিনিয়োগের মাধ্যমে স্কুলগুলোতে নতুন ও উন্নত অন্তর্ভুক্তিমূলক সুবিধা তৈরি করা হবে, যার মধ্যে থাকবে সেন্সরি রুম, থেরাপিউটিক সুবিধা, এডাপ্টেড ক্লাসরুম বা অভিযোজিত শ্রেণিকক্ষ এবং অ্যাক্সেসিবিলিটি উন্নয়ন। এসব উদ্যোগ স্কুলগুলোকে আরও বিস্তৃত চাহিদা পূরণে সহায়তা করবে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশ তৈরি করবে।

ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি স্কুল বিভিন্ন প্রকল্পের প্রস্তাব জমা দিয়েছে, যা এটাই দেখায় যে শিশুদের নিজ নিজ এলাকার কাছাকাছি থেকে সহায়তা পাওয়ার জন্য এই ধরনের সুবিধার চাহিদা কতটা বেশি।

এই কর্মসূচি শিশু ও তরুণদের শিক্ষাগত ফলাফল উন্নত করতে, দূরবর্তী যাতায়াতের প্রয়োজন কমাতে এবং পরিবারগুলোকে তাদের সন্তানের শিক্ষার জন্য আরও বেশি বিকল্প প্রদান করতে সহায়তা করবে।

টাওয়ার হ্যামলেটসের এক্সিকিউটিভ মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “প্রতিটি শিশুরই নিজের এলাকার কাছাকাছি একটি সহায়ক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্কুলে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া উচিত। এই £৪.৮ মিলিয়ন পাউন্ড বিনিয়োগ আমাদের বারার শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য বাস্তব পরিবর্তন আনবে। এটি সুবিধা উন্নত করবে, অন্তর্ভুক্তি জোরদার করবে এবং আরও বেশি সংখ্যক সেন্ড-সম্পন্ন কিশোর-তরুণকে মূলধারার শিক্ষায় সফল হতে সহায়তা করবে।”

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের চিলড্রেন, ইয়ূথ এন্ড লাইফ চান্সেস (শিশু, তরুণ ও জীবন সম্ভাবনা) বিষয়ক ক্যাবিনেট মেম্বার কাউন্সিলর ফয়সাল আহমেদ বলেন, “এই কর্মসূচিটি স্কুলগুলো সেন্সরি স্পেস থেকে শুরু করে অভিযোজিত শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত যে বাস্তব উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা আমাদের জানিয়েছে, তা বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক পরিবেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমরা স্কুলগুলোকে আরও বিস্তৃত চাহিদা পূরণে সহায়তা করছি এবং নিশ্চিত করছি যে আরও বেশি শিশু তাদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।”

এই কর্মসূচি কাউন্সিলের বৃহত্তর অঙ্গীকারের অংশ, যার লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয় সেন্ড সেবা জোরদার করা এবং শিশু ও তরুণদের উন্নত ফলাফল নিশ্চিত করা।

গত মার্চে হারমিটেজ প্রাইমারী স্কুলে একটি আধুনিক অটিজম রিসোর্স সুবিধা চালু হয়েছে, যা প্রাথমিক স্তরের অটিজম সম্পন্ন শিশুদের জন্য বিশেষায়িত সহায়তা প্রদান করে।

এছাড়াও কাউন্সিল ১৬-২৫ বছর বয়সী সেন্ড-সম্পন্ন তরুণদের জন্য ৯ লাখ পাউন্ড এবং ১৮-৩০ বছর বয়সী সেন্ড- সম্পন্ন তরুণদের জন্য অতিরিক্ত ৫ লাখ পাউন্ড বিনিয়োগ করেছে। এই অর্থায়ন তরুণদের জীবন দক্ষতা উন্নয়ন এবং কর্মসংস্থানে প্রবেশে সহায়তা করবে।

প্রকল্পগুলো ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা হবে, যেখানে স্কুলগুলো তাদের কমিউনিটির চাহিদা অনুযায়ী উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে কাউন্সিলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

এই £৪.৮ মিলিয়ন বিনিয়োগ হাই নিডস্ প্রভিশন ক্যাপিটাল এলোকেশন বা এইচএনপিসিএ থেকে এসেছে।


কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ইস্ট লন্ডন মসজিদে আদমশুমারির তথ্য নিয়ে আলোচনা: ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখ

প্রকাশিত :  ২০:০০, ২০ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ২১:২০, ২০ জুলাই ২০২৬

ক্যাপশনঃ গত মার্চে হারমিটেজ প্রাইমারী স্কুলে একটি আধুনিক অটিজম রিসোর্স সুবিধা আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন ডেপুটি মেয়র কাউন্সিলর মাইয়ুম তালুকদার।

লন্ডন, ২০ জুলাই ২০২৬ :  ইস্ট লন্ডন মসজিদের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের আদমশুমারির তথ্যের আলোকে ব্রিটিশ মুসলিম কমিউনিটির বর্তমান চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে । মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন- এর সহযোগিতায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষার্থী, সমাজকর্মী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী অংশ নেন। আলোচনায় ব্রিটেনে ১০ বছরে মুসলমানের সংখ্যা বেড়ে ২৮ লাখ থেকে ৪০ লাখে উন্নীত হয়েছে বলে তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।  

১৪ জুলাই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় লন্ডন মুসলিম সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ আলোচনায় সভায় “সংখ্যায় ব্রিটিশ মুসলিম : কমিউনিটির উন্নয়নে নেতৃত্বদানকারীদের জন্য আদমশুমারির তথ্য” শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয় । এতে গত দুই দশকে ব্রিটিশ মুসলিম সমাজের জনসংখ্যাগত, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের চিত্র জনশুমারির তথ্যের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করা হয়েছে।  আলোচনা সভাটি ইস্ট লন্ডন মসজিদের 'ইএলএম কনেক্স' প্রজেক্টের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়।

গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন মুসলিম কাউন্সিল অব বৃটেনের রিসার্চ অ্যান্ড ডকুমেন্টেশন কমিটির দুই গবেষক ড. জামিল শরীফ এবং ফাতেমা সুন্দারজি।

প্রথম পর্বে ড. জামিল শরীফ ব্রিটেনের মুসলিম জনসংখ্যার পরিবর্তন তুলে ধরেন । তিনি জানান, এক দশকে ব্রিটেনে মুসলমানের সংখ্যা ২৮ লাখ থেকে বেড়ে ৪০ লাখে পৌঁছেছে । দশ বছরে বেড়েছে ১২ লাখ মুসলিম।

ড. শরীফ জামিল মুসলিম কমিউনিটির বয়স কাঠামো ও সামাজিক অগ্রগতির বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন। তিনি জানান, উচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও পেশাজীবী পদে মুসলমানদের অংশগ্রহণ ২০০১ সালে ছিলো ৬.৬ শতাংশ। কিন্তু এটা বেড়ে ২০২১ সালে ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

তিনি মুসলমানদের সম্পর্কে প্রচলিত কিছু উগ্র ডানপন্থী প্রচারণারও তথ্যভিত্তিক জবাব দেন । উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের চিকিৎসকদের ১১ দশমিক ৪ শতাংশ মুসলিম। আবার মুসলমানরা ইংরেজি বলতে পারেন না—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। আদমশুমারী অনুযায়ী, ৯১ শতাংশ মুসলমানের ইংরেজি ভালো বা খুব ভালোভাবে বলতে পারেন, যেখানে জাতীয় গড় ৯৮ শতাংশ।

ফাতেমা সুন্দারজি টাওয়ার হ্যামলেটস, নিউহ্যাম, রেডব্রিজ এবং বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যার বিস্তার এবং ইনডেক্স অব মাল্টিপল ডিপ্রাইভেশন-এর (বহুমাত্রিক বঞ্চনা সূচক) সঙ্গে তার সম্পর্ক বিশ্লেষণ করেন। তিনি বলেন, গত ২০ বছরে বার্কিং অ্যান্ড ড্যাগেনহামে মুসলিম জনসংখ্যা ৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৪ শতাংশে পৌঁছেছে । এসব এলাকায় মুসলিমদের প্রধান সমস্যা আবাসন । তিনি প্রশ্ন তোলেন, এ ধরনের সমস্যাগুলো কি শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী কমিউনিটির সঙ্গেও মিল রয়েছে?

ফাতেমা সুন্দারজি জানান, মুসলিম পরিবারের ৩৫ দশমিক ৭ শতাংশ বিবাহিত দম্পতি ও নির্ভরশীল সন্তান নিয়ে গঠিত, যা যুক্তরাজ্যের সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সর্বোচ্চ এবং জাতীয় গড়ের আড়াই গুণ। তিনি আরও বলেন, প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার মুসলমান একাকী বসবাস করেন, যা মসজিদ ও কমিউনিটি সেন্টারগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

চারটি বরোতে স্কুলপড়ুয়া শিশুদের ৫৬.৮ শতাংশ মুসলিম, যেখানে পুরো যুক্তরাজ্যে এ হার মাত্র প্রতি দশজনে একজন।

শিক্ষাক্ষেত্রে মুসলিম তরুণদের অগ্রগতিও আলোচনায় উঠে আসে। ২০০১ সালে সাধারণ জনগোষ্ঠীর তুলনায় পিছিয়ে থাকলেও ২০২১ সালে তারা সেই অবস্থান অতিক্রম করেছে। বর্তমানে তরুণ মুসলিম নারীরা শিক্ষাগত যোগ্যতার দিক থেকে মুসলিম পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছেন । টাওয়ার হ্যামলেটসে মুসলিম নারীদের ২৪ দশমিক ৪ শতাংশ বিশ্ববিদ্যালয় ডিগ্রিধারী, যা ইংল্যান্ডের প্রধান মুসলিম অধ্যুষিত এলাকাগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

প্রবীণ মুসলিমদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। টাওয়ার হ্যামলেটসে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী মুসলিম নারীদের ৪০.৫ শতাংশ নিজেদের স্বাস্থ্যকে খারাপ বা খুব খারাপ বলে উল্লেখ করেছেন, যেখানে একই বয়সী সব নারীর ক্ষেত্রে এ হার ২৬.৮ শতাংশ।

এছাড়া ৬৫ বছরের বেশি বয়সী টাওয়ার হ্যামলেটসের প্রায় এক-চতুর্থাংশ মুসলমান ইংরেজি বলতে পারেন না, যাদের অধিকাংশই নারী। তিনি প্রশ্ন রাখেন, আগামী দুই দশকে প্রবীণ মুসলিম জনগোষ্ঠীর সংখ্যা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে—সেই বাস্তবতার জন্য কমিউনিটি কতটা প্রস্তুত?

সমাপনী উপস্থাপনায় ড. জামিল শরীফ ২০২৯ সালের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুসলিম কাউন্সিল অব ব্রিটেন কোনো রাজনৈতিক দলের পক্ষে নয়; বরং ভোটার নিবন্ধন, নির্বাচনী ইশতেহার বিশ্লেষণ এবং প্রার্থীদের জন্য জবাবদিহিমূলক প্রশ্নমালা তৈরির মাধ্যমে সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কাজ করে।


কমিউনিটি এর আরও খবর