img

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

প্রকাশিত :  ০৫:৫৫, ১১ আগষ্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত ১৩২, জরুরি অবস্থা জারি

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৪৮০ জনের বেশি। ধসে পড়া ভবনের নিচে আরও অনেকে আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

ভয়াবহ এই ভূমিকম্পের পর দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। উদ্ধারকারী দলগুলো ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছে। এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে দেশটিতে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। কলম্বিয়ার ভূতাত্ত্বিক সংস্থা জানিয়েছে, চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার এলাকার কাছে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি। এর গভীরতা ছিল প্রায় ১০৩ কিলোমিটার।

ভূমিকম্পের কম্পন কলম্বিয়ার পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কফি উৎপাদনকারী অঞ্চল ও আশপাশের শহরগুলোতে।

উৎপত্তিস্থল থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে অন্তত ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে। এর মধ্যে ১৫টি ভবনে মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু পেরেইরা মহানগর এলাকাতেই অন্তত ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও যাচাই করে বিবিসি জানিয়েছে, পেরেইরার প্রধান চত্বর প্লাজা বলিভারে একটি ভবন ধসে পড়েছে। এতে পুরো এলাকায় ধ্বংসাবশেষ ও ধুলায় ঢেকে যায়। শহরের কিছু এলাকায় মঙ্গলবার ভোর ৫টা পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়েছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে কালি শহরেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সেখানে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

মানিজালেস শহরে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন। সেখানে বেশ কয়েকটি ভবনের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে ইট ও প্লাস্টার খসে পড়েছে। কুইবদো, মেডেলিন, চোকো ও ভায়ে দেল কাওকা অঞ্চলেও প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানী বোগোটাতেও শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়েছে। গাছ ও ট্রাফিক সিগন্যাল দুলতে দেখা যায়। কিছু ভবনে ফাটল দেখা দিলেও রাজধানীতে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ভূমিকম্পে পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরাসহ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রতিবেশী ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের পর জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, ভূমিকম্পে ১ হাজার ৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগের পরপরই উদ্ধার অভিযান শুরু হয়েছে। ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছেন উদ্ধারকর্মীরা। আন্তর্জাতিকভাবেও সহায়তার প্রস্তাব এসেছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে সহায়তা দিতে প্রস্তুত। ইউরোপীয় ইউনিয়নও উদ্ধারকাজে কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহারের কথা জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ ভূমিকম্পটির শক্তিশালী কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল মাটির অনেক গভীরে। সাধারণত গভীর ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি সংঘটিত ভূমিকম্পের তুলনায় কম ক্ষতিকর হলেও এর শক্তিশালী কম্পন ভবন ও অবকাঠামোয় বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।

সূত্র: বিবিসি


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবির পাল্টা হিসাব দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ১১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৭, ১১ আগষ্ট ২০২৬

ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দশক ধরে ইরানের সমর্থনে বা ইরানের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন হামলা ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তেহরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের মতে, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো শান্তি চুক্তির আলোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে ইরানকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরান গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ইরানের এই দাবিকে ‘আকর্ষণীয় ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনিও ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ক্ষতিপূরণের দাবি এখন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।

তবে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প তার পোস্টে ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ চালানো বোমা হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন নাবিক নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন হামলা ও সংঘাতে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার হামলাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলেইমানির নেতৃত্বের বিষয়টিও যুক্ত। ইউএসএস কোল হামলায় নিহত মার্কিন নাবিকদের পরিবার এবং বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত আরো হাজারো মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। ক্ষতিপূরণের দাবির পরিধি আরো বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিহত আরও ৫২ হাজার মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলবেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সেখানে ‘দৃঢ়ভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর এক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা নিম্নমাত্রায় আনছেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের ওপর আরো সামরিক হামলা চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানও শান্তি বা ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা প্রণালিটি আবার খুলবে না।

ইরানের দাবি, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে দেশটির যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে। ইরান জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আলাদাভাবে জানিয়েছে, আঞ্চলিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।