ইরানি ঝুঁকি

img

খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ০৭:০৯, ১১ আগষ্ট ২০২৬

খাবারের ট্রাকে লুকিয়ে সামরিক বিমানে তুরস্ক ছাড়েন ট্রাম্প

ইরানি ঝুঁকির কারণে গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসের প্রকাশ্য তথ্য এড়িয়ে গোপনে সামরিক বিমানে তুরস্ক ত্যাগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কার কারণেই ট্রাম্পের তুরস্ক ত্যাগের বিষয়টি গোপন রাখা হয়েছিল।

সাংবাদিকদের সঙ্গে থাকা অবস্থায় হোয়াইট হাউস থেকে জানানো হয়েছিল, ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানে আছেন, অথচ বাস্তবে তিনি ভিন্ন একটি ফ্লাইটে রওনা হন।

আঙ্কারায় নেটোর সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতার থেকে উপহার পাওয়া নতুন বিমানে করে যান, কিন্তু ফেরার সময় হঠাৎ পুরোনো বিমানে ওঠায় নিরাপত্তার প্রশ্ন ওঠে। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমানা থাকায় ও সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, ট্রাম্প ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর গোপনে একটি খাবারের ক্যাটারিং ট্রাকে করে সি-৩২এ নামের ছোট সামরিক বিমানে চলে যান। ট্রাম্পকে বহনকারী বিমানটি রাত ১০টা ২০ মিনিটে যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় এবং তার কিছু সময় পর সাংবাদিক ও কর্মীদের নিয়ে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান সেখানে অবতরণ করে।

ট্রামের এয়ার ফোর্স ওয়ান।

সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, পুরোনো স্মৃতির খাতিরে তিনি পুরোনো বিমানে ভ্রমণ করছেন এবং নতুন বিমানটি সেনাসদস্যদের প্রদর্শনের জন্য যুক্তরাজ্যে থামানো হয়েছে।

এই গোপন ভ্রমণের বিষয়ে হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চ্যাউং বলেন, প্রেসিডেন্টের সুরক্ষায় সর্বাধুনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুরা প্রেসিডেন্টের ওপর নজর রাখায় সব ধরনের নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তবে এ বিষয়ে পেন্টাগন তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: এনডিটিভি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরানের ক্ষতিপূরণ দাবির পাল্টা হিসাব দিলেন ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৩:৩৬, ১১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩৭, ১১ আগষ্ট ২০২৬

ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ক্ষতিপূরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে চান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কয়েক দশক ধরে ইরানের সমর্থনে বা ইরানের মাধ্যমে সংঘটিত বিভিন্ন হামলা ও সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য তেহরানের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের মতে, ইরানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ কোনো শান্তি চুক্তির আলোচনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত। এ ক্ষেত্রে ইরানকেই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দায়িত্ব নিতে হবে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা জানান। তিনি বলেন, ইরান গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিজেদের ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। ইরানের এই দাবিকে ‘আকর্ষণীয় ধারণা’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তিনিও ইরানের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করবেন। ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের ক্ষতিপূরণের দাবি এখন পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি।

তবে ভবিষ্যতের যেকোনো আলোচনায় বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাম্প তার পোস্টে ২০০০ সালের অক্টোবরে ইয়েমেনের এডেন বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কোল-এ চালানো বোমা হামলার কথা উল্লেখ করেন। ওই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৭ জন নাবিক নিহত এবং ৩০ জনের বেশি আহত হন। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই ওই হামলার জন্য আল-কায়েদাকে দায়ী করেছে।

ট্রাম্প বলেন, ইরানের কাছ থেকে তিনি বিভিন্ন হামলা ও সংঘাতে নিহত ও গুরুতর আহত ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ চান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব হামলার মধ্যে রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার হামলাও রয়েছে। তিনি আরো বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে ইরানের প্রয়াত জেনারেল কাসেম সোলেইমানির নেতৃত্বের বিষয়টিও যুক্ত। ইউএসএস কোল হামলায় নিহত মার্কিন নাবিকদের পরিবার এবং বিভিন্ন যুদ্ধে নিহত আরো হাজারো মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণের আওতায় আনার কথা বলেন তিনি। ক্ষতিপূরণের দাবির পরিধি আরো বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, গত ৫০ বছরে ইরানে বিক্ষোভে অংশ নিয়ে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। পাশাপাশি গত পাঁচ মাসের যুদ্ধে নিহত আরও ৫২ হাজার মানুষের পরিবারকেও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি তুলবেন তিনি।

ট্রাম্প বলেন, ভবিষ্যতে ইরানের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণের বিষয়টি সেখানে ‘দৃঢ়ভাবে’ অন্তর্ভুক্ত করতে তিনি তার প্রতিনিধিদের নির্দেশ দিয়েছেন। এর এক দিন আগে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরান যুদ্ধ নিয়ে তার অবস্থান কিছুটা নিম্নমাত্রায় আনছেন। তার বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, ইরানের ওপর আরো সামরিক হামলা চালানোর বদলে অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখার বিষয়ে তিনি আগ্রহী। অন্যদিকে, ইরানও শান্তি বা ভবিষ্যৎ আলোচনার ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তের কথা জানিয়েছে। দেশটি বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির অবরোধ তুলে না নেওয়া পর্যন্ত তারা প্রণালিটি আবার খুলবে না।

ইরানের দাবি, গত কয়েক মাসের যুদ্ধে দেশটির যে ক্ষতি হয়েছে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে ইরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে এবং দেশটির জব্দ করা সম্পদ ছেড়ে দিতে হবে। ইরান জানিয়েছে, এসব শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি খোলা হবে না। এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) আলাদাভাবে জানিয়েছে, আঞ্চলিক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে। ফলে দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনা হলে ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা, জব্দ করা সম্পদ এবং হরমুজ প্রণালির মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।