img

সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক, দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন সোহানা সাবা

প্রকাশিত :  ০৭:৫০, ১২ আগষ্ট ২০২৬

সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক, দেড় বছর আগে বিয়ে করেছেন সোহানা সাবা

দীর্ঘদিন ধরে একমাত্র সন্তানকে ঘিরেই নিজের জীবন কাটাচ্ছেন অভিনেত্রী সোহানা সাবা। ব্যক্তিগত জীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই অভিনেত্রী এবার জানালেন, তাঁর জীবনে নতুন একজন মানুষের আগমন ঘটেছে।

সোহানা সাবা জানিয়েছেন, প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর ধরে চলা সম্পর্কের পর দেড় বছর আগেই তিনি বিয়ে করেছেন। এতদিন ব্যক্তিগত জীবনের এই অধ্যায়টি আড়ালেই রেখেছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনে নিজের জীবনে নতুন সম্পর্কের কথা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সোহানা সাবার স্বামীর নাম ফয়সাল। পেশায় তিনি একজন ব্যবসায়ী। 

বিয়ের খবর জানিয়ে অভিনেত্রী সোহানা সাবা গণমাধ্যমকে জানান, ফয়সালের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক সাড়ে পাঁচ বছরের। সেই সম্পর্কের পর তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন। বিয়ের খবর জানালেও দিন-তারিখ প্রকাশ করতে চাননি তিনি।

ফয়সালের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু ও বিয়ের সিদ্ধান্তের প্রসঙ্গে কথা বলেছেন সোহানা সাবা। তিনি বলেন, ‘আমাদের সাড়ে পাঁচ বছরের সম্পর্ক। বিয়ে অনেক আগে হয়েছে। মনে হয়েছে, এই মানুষটার জন্যই অপেক্ষা করেছি এত দিন, প্রথম দেখাতেই। কিন্তু তাকে বা কাউকে সেটা বুঝতে দিইনি। সে আমাকে নক করে ভালোবাসার কথা যখন জানায়, তখন তাকে রাজি হয়েছি।’

একসময় নির্মাতা ও অভিনেতা মুরাদ পারভেজের সঙ্গে ভালোবেসে ঘর বেঁধেছিলেন সোহানা সাবা। প্রায় এক দশকের সেই সংসারে তাদের একটি সন্তান রয়েছে। তবে ২০১৫ সালে সেই দাম্পত্য জীবনের ইতি ঘটে।

বিচ্ছেদের পর একমাত্র সন্তানকে নিয়ে নিজের মতো করে জীবন এগিয়ে নেন এই অভিনেত্রী। ধীরে ধীরে নিজেকে সামলে নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন।

টেলিভিশন নাটকের অভিনয়শিল্পী সাবা একটা সময় বড় পর্দায় যাত্রা শুরু করেন। চলচ্চিত্রের মিষ্টি মেয়েখ্যাত কবরী পরিচালিত ‘আয়না’ ছবির শুটিং দিয়ে তাঁর বড় পর্দার জীবন শুরু হয়। তবে মুক্তির দিক দিয়ে মোরশেদুল ইসলামের ‘খেলাঘর’ এগিয়ে ছিল। ‘খেলাঘর’ মুক্তির পরের মাসে মুক্তি পায় ‘আয়না’। এরপর একে একে অভিনয় করেছেন ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘প্রিয়তমেষু’, ‘বৃহন্নলা’ ও ‘অসম্ভব’ ছবিতে।

ভারতীয় ‘ষড়্‌রিপু’, ‘এপার–ওপার’ সিনেমাতে কাজ করেছেন তিনি। সর্বশেষ আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’ সিনেমায়ও অভিনয় করেন সোহানা সাবা।


বিনোদন এর আরও খবর

img

তিন দশক পর সালমান-শাবনূরের সম্পর্ক নিয়ে মুখ খুললেন নীলা চৌধুরী

প্রকাশিত :  ১৩:৪৫, ১১ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৩১, ১১ আগষ্ট ২০২৬

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহ। ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর অকালপ্রয়াণের পর প্রায় তিন দশক পেরিয়ে গেলেও এই জনপ্রিয় চিত্রনায়ককে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহে এতটুকুও ভাটা পড়েনি।

স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ যে কজন অভিনেত্রীর সঙ্গে সবচেয়ে বেশি জুটি বেঁধে অভিনয় করেছেন, তাঁদের মধ্যে শাবনূর অন্যতম। বড় পর্দায় এই জুটির রসায়ন দর্শকদের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাঁদের অভিনীত সিনেমার গান, গল্প ও পর্দার সম্পর্ক আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।

সালমান শাহের ক্যারিয়ার ছিল সময়ের তুলনায় সংক্ষিপ্ত, কিন্তু তাঁর অভিনয়শৈলী, স্টাইল ও পর্দা উপস্থিতি তাঁকে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্মরণীয় তারকায় পরিণত করেছে। আর শাবনূরের সঙ্গে তাঁর জুটি সেই স্মৃতিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

সালমানের মৃত্যুর পর এমন খবরও ছড়িয়ে পড়ে—এই দুই তারকার মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এই গুঞ্জন এখনো চলছেই। এবার প্রসঙ্গটি নিয়ে মুখ খুলেছেন সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী। তার দাবি, শাবনূরের সঙ্গে সালমানের কোনো প্রেমের সম্পর্ক ছিল না। বরং শাবনূরকে নিজের ছোট বোনের মতোই দেখতেন তিনি। 

সম্প্রতি সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা ডন গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ছেলে ও শাবনূরের সম্পর্ক নিয়েও মন্তব্য করেন নীলা চৌধুরী। তিনি জানান, শাবনূর সালমানের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন এবং সালমানও তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার চেষ্টা করতেন। সালমানের কোনো বোন না থাকায় শাবনূরকে তিনি বোনের মতো স্নেহ করতেন। 

শাবনূরও বরাবরই দাবি করে এসেছেন, তাদের সম্পর্ক ছিল ভাই–বোনের মতো। 

তবে এই অভিনেত্রীকে নিয়ে কিছু অভিযোগও করেছেন প্রয়াত সালমানের মা। তার দাবি, শাবনূর কখনো কখনো সালমানের সঙ্গে তার বিশেষ কোনো সম্পর্ক রয়েছে—এমন একটি ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করতেন। পরবর্তী সময়ে তাদের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নানা ধরনের গল্প ছড়িয়ে পড়ে। 

অন্যদিকে, শাবনূর বরাবরই এসব প্রেমের গুঞ্জন অস্বীকার করে এসেছেন। তার বক্তব্য, সালমানকে তিনি কখনো প্রেমিক হিসেবে দেখেননি, বরং ভাইয়ের মতো সম্মান করতেন। তিনি বলেন, কিছু মানুষ ও গণমাধ্যম তাদের বন্ধুত্বকে ঘিরে মুখরোচক গল্প তৈরি করেছে। 

এ প্রসঙ্গে শাবনূর গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোকজন আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’ 

উল্লেখ্য, ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমার মাধ্যমে ঢালিউডে অভিষেক হয় সালমান শাহর। এতে তার নায়িকা ছিলেন মৌসুমী। এরপর ‘তুমি আমার’ সিনেমার মাধ্যমে শাবনূরের সঙ্গে জুটি বাঁধেন তিনি। মাত্র চার বছরের ক্যারিয়ারে সালমান শাহ অভিনীত ২৭টি সিনেমার মধ্যে ১৪টিতেই তার নায়িকা ছিলেন শাবনূর। 

সালমান-শাবনূর জুটির ‘সুজন সখী’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘বিক্ষোভ’, ‘বিচার হবে’, ‘তোমাকে চাই’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’র মতো ব্যবসাসফল সিনেমা আজও দর্শকের মনে জায়গা করে আছে।