img

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরতে পারবে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা

প্রকাশিত :  ১৩:৩২, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে ফিরতে পারবে তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা

বাংলাদেশে বসবাসরত তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারবেন বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা। ২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনাবাহিনীর অভিযানের পর প্রাণ বাঁচাতে লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।

সেই ঘটনার ৯ বছর পূর্তিতে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা বলেছে, যখন রাখাইনের পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে তখন তিন লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।

মিয়ানমার জানিয়েছে, বাংলাদেশের কাছ থেকে ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তথ্য পাঠানো হয়েছে। যারমধ্যে তারা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করেছে। আর এরমধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জনকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করেছে। যখন রাখাইনের পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে তখন তাদের ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করা হবে বলে জানিয়েছে সামরিক জান্তা।

মিয়ানমার সরকারের দাবি, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী একটি সামরিক স্থাপনায় হামলা চালায়। এরপর রাখাইনে সেনা অভিযান শুরু করা হয়।

তবে সেনা অভিযানের নামে শত শত মানুষকে হত্যা ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটায় মিয়ানমারের সেনারা। তাদের হত্যাযজ্ঞ থেকে বাঁচতে একসঙ্গে সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। এর আগে থেকেই যুগ যুগ ধরে আরও অনেক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে বাস করছিল।

মিয়ানমারের পূর্ব নাম ছিল বার্মা। তারা রোহিঙ্গাদের নিজেদের জাতিগত সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। এর বদলে তারা রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে দাবি করে। তাদের মতে, রোহিঙ্গারা বাংলাদেশ থেকে এসে মিয়ানমারে বসতি স্থাপন করেছে।

জান্তা সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের সর্বশেষ বিবৃতিতে আরও বলেছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো রোহিঙ্গাদের তালিকার ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের তথ্য তারা যাচাই করতে পারেনি। আর ৪ হাজার ২৪১ জনকে তারা পেয়েছে যারা কথিত সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত।

এছাড়া বাংলাদেশে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা প্রবেশের দাবিও অস্বীকার করেছে মিয়ানমার। তারা বলেছে ২০১৭ সালের সহিংসতার পর মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে গেছে ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ। আর উত্তর রাখাইনে রয়ে গেছে ২ লাখ মানুষ।

২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের একটি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন চুক্তি করেছিল। কিন্তু ২০২১ সালে অং সান সুচিকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী অভ্যুত্থান ঘটানোর পর মিয়ানমারের পরিস্থিতি খারাপ হয়। দেশজুড়ে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ শুরু করে সাধারণ মানুষ। এতে করে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবর্তন আর সম্ভব হয়নি।

এরমধ্যে সেনাবাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০২৩ সালে লড়াই শুরু হয়। এতে করে নতুন করে আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

বর্তমানে আরাকান আর্মি রাখাইনের বেশিরভাগ অংশ নিয়ন্ত্রণ করে। ফলে রোহিঙ্গাদের ফেরার সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে এসেছে।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৩৮

প্রকাশিত :  ১৩:১৫, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস দ্বীপে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পে বহু মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা (বিএনপিবি)। 

স্থানীয় সময় শনিবার সকাল ৫টার কিছু আগে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১৫ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটির উৎপত্তি হয়। মূল ভূমিকম্পের পর ৬.১ মাত্রার একটি আফটারশকসহ বেশ কয়েকটি শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয়।

ভূমিকম্পের পরপরই সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। তবে প্রায় তিন ঘণ্টা পর সমুদ্রপৃষ্ঠে বড় ধরনের উচ্চতা পরিবর্তনের আশঙ্কা না থাকায় সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। আতঙ্কিত হয়ে প্রায় দুই হাজার মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উঁচু এলাকায় চলে যান।

ইস্ট নুসা টেঙ্গারা প্রদেশের গভর্নর ইমানুয়েল মেলকিয়াডেস লাকা লেনা জানান, ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে অনেক মানুষ ঘুমন্ত অবস্থাতেই প্রাণ হারিয়েছেন।

সিক্কা অঞ্চলের বাসিন্দা আর্নল্ড ওয়েলিয়ান্তো জানান, তীব্র কম্পনে তার ঘুম ভেঙে যায়। সমুদ্রের পানি নিচের দিকে সরে যেতে দেখে আতঙ্কিত হয়ে স্থানীয়রা পাহাড় ও উঁচু সড়কের দিকে ছুটে যান।

রুটেং শহরের বিশ্ববিদ্যালয় প্রভাষক ইউলিয়ান জুইতা একালিয়া বলেন, তিনি এর আগে এত শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভব করেননি। তার ভাষায়, কম্পনের সময় মনে হচ্ছিল তাঁরা ট্রামপোলিনের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন।

ভূমিকম্পে মৌমেরে বন্দরের মূল টার্মিনাল ভবনের কংক্রিটের অংশ ভেঙে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের ওপর পড়ে। এ সময় জাহাজে ওঠানামার সিঁড়ি ভেঙে কয়েকজন সমুদ্রে পড়ে যান।

প্রাথমিক হিসাবে, ভূমিকম্পে ৫৪টি বাড়ি, পাঁচটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র, তিনটি উপাসনালয়, ছয়টি সরকারি ভবন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও একটি গুদামঘর মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গরাই প্রদেশকে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিএনপিবি।

উদ্ধারকারী দলগুলো ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালাচ্ছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের জন্য বিশ্বের অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ দেশ ইন্দোনেশিয়া। দেশটি তিনটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় সেখানে প্রায়ই শক্তিশালী ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।

ইন্দোনেশিয়ার ভূমিকম্পে উদ্ধার অভিযান চললেও হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে, আর ক্ষয়ক্ষতি ও উদ্ধার তৎপরতার সর্বশেষ তথ্য পরিস্থিতির পরবর্তী চিত্র স্পষ্ট করবে।

সূত্র: বিবিসি

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর