img

ট্রেনে ‘ব্লেড হাতে হামলা’ করে অভিনেত্রী গ্রেপ্তার, যা জানা গেল

প্রকাশিত :  ১৫:১৮, ১৬ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:০২, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

ট্রেনে ‘ব্লেড হাতে হামলা’ করে অভিনেত্রী গ্রেপ্তার, যা জানা গেল

ভারতের মুম্বাইয়ে মডেল-অভিনেত্রী অন্তরা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে ট্রেনের সংরক্ষিত আসন নিয়ে তর্কাতর্কির জেরে রেলওয়ে সুরক্ষা বাহিনীর (আরপিএফ) কর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় ৩১ বছর বয়সী এই অভিনেত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে মুম্বাই রেলওয়ে পুলিশ। পুলিশের দাবি, তর্কাতর্কির একপর্যায়ে পোশাক খুলে ব্লেড হাতে আরপিএফ কর্মীদের ভয় দেখান তিনি এবং এক কর্মকর্তাকে আঘাতও করেন।

গত ১২ আগস্ট আরাবল্লী এক্সপ্রেসের একটি সংরক্ষিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় এ ঘটনা ঘটে। শুটিংয়ের কাজে সুরাট যাচ্ছিলেন অন্তরা। তার কাছে স্লিপার শ্রেণির টিকিট থাকলেও তিনি সংরক্ষিত শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরায় উঠে পড়েছিলেন বলে অভিযোগ। Time& Calendars

পুলিশের এফআইআরের তথ্য অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টা থেকে ১০টা ৫০ মিনিটের মধ্যে বোরিভলি ও দাহানুর মধ্যবর্তী এলাকায় এক যাত্রী অন্তরাকে সংরক্ষিত আসন ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি আসন ছাড়তে অস্বীকার করলে ওই যাত্রী বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আরপিএফকে জানান।

এরপর আরপিএফের সহকারী উপপরিদর্শক যামিনীকান্ত মিশ্র ও কনস্টেবল রাজেশ কুমার ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। অভিযোগ, এ সময় অন্তরা তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। একপর্যায়ে তার আচরণ আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

পুলিশের দাবি, একসময় নিজের পোশাক খুলে হাতে রেজর ব্লেড নিয়ে আরপিএফ কর্মীদের ভয় দেখাতে শুরু করেন অভিনেত্রী। অভিযোগ, ওই ব্লেড দিয়ে এক কর্মকর্তাকে আঘাতও করেন তিনি। এ ঘটনায় অন্তরাও আহত হন।

যামিনীকান্ত মিশ্রের অভিযোগ, অন্তরা তার পোশাক ও মোবাইল ফোনও নষ্ট করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় পরে কামরার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

অভিযোগ রয়েছে, তখন কামরা থেকে বের হওয়ার জন্য জানালার কাচ ভাঙারও চেষ্টা করেন অন্তরা। পরে দাহানু স্টেশনে তাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে সরকারি রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) হাতে তুলে দেওয়া হয়।

পুরো ঘটনা এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে বলে জানা গেছে। এ সময় ট্রেনের অন্য যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পরে বোরিভলি রেলওয়ে পুলিশ অন্তরা ব্যানার্জিকে হেফাজতে নেয়। পুলিশ সূত্রের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কামরার টিকিট না পাওয়ায় অভিনেত্রী সম্ভবত মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। তবে তার আচরণ ও হামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে।


বিনোদন এর আরও খবর

img

সেলেনা গোমেজের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা

প্রকাশিত :  ১৬:৩৩, ১৫ আগষ্ট ২০২৬

মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজের লক্ষ্যে ২০২১ সালে মা ম্যান্ডি টিফি ও অন্যদের সঙ্গে ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হলিউড তারকা সেলেনা গোমেজ। প্রতিষ্ঠানটি ঘিরে কয়েক বছরের মধ্যেই আইনি জটিলতায় পড়েছেন তিনি। প্রাতিষ্ঠানিক অব্যবস্থাপনা, প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থতা ও বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করার অভিযোগে সেলেনাসহ ওয়ান্ডারমাইন্ডের সহপ্রতিষ্ঠাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন পাঁচ বিনিয়োগকারী। 

বিবিসির প্রতিবেদনে জানা গেছে, নিউইয়র্ক ও ফ্লোরিডাভিত্তিক ওই বিনিয়োগকারীরা সেলেনার বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ এনেছেন। তাদের দাবি, সেলেনার নিষ্ক্রিয়তার কারণে প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়ার পথে। মামলায় প্রায় ১২ লাখ ডলার বিনিয়োগ ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, সেলেনা ওয়ান্ডারমাইন্ডের প্রধান বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করবেন এবং ব্র্যান্ডটির প্রচারে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন– এমন প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই বিনিয়োগ করেছিলেন তারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রসারে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি সেলেনা। 

বিনিয়োগকারীদের আরও অভিযোগ, বিজ্ঞাপনী চুক্তি, সেলিব্রিটি কাভার স্টোরি ও নতুন অ্যাপ চালুর মতো যেসব প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার অনেক কিছুই বাস্তবায়িত হয়নি। তিন বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের সংকট গোপন রাখার অভিযোগও করেছেন বিনিয়োগকারীরা। 

গত সেপ্টেম্বরে ‘দ্য কাট’-এর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওয়ান্ডারমাইন্ডের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার খবর প্রকাশ হয়। সেখানে ম্যান্ডি টিফির প্রশাসনিক ব্যর্থতা এবং মা-মেয়ের দ্বন্দ্বের কারণে সেলেনার দায়িত্ব এড়িয়ে চলার বিষয়ও উঠে এসেছিল। 

অন্যদিকে, পপতারকা ও অভিনেত্রী হিসেবে পরিচিতির পাশাপাশি সফল বিউটি ব্র্যান্ড ‘রেয়ার বিউটি’র প্রতিষ্ঠাতা সেলেনা। ২০২৪ সালে বিলিয়নেয়ার হিসেবেও স্বীকৃতি পান তিনি। এমন অবস্থায় তাঁর সহপ্রতিষ্ঠিত একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগকারীদের প্রতারণার অভিযোগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। 

তবে মামলা নিয়ে এখনও সেলেনা গোমেজ বা ওয়ান্ডারমাইন্ডের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। আদালতে বিনিয়োগ ফেরত ও ক্ষতিপূরণ আদায়ের লড়াই এখন কত দূর গড়ায়, সেটিই দেখার বিষয়।