img

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যে পরিকল্পনা নস্যাৎ করেন এরদোয়ান

প্রকাশিত :  ১৮:০৯, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যে পরিকল্পনা নস্যাৎ করেন এরদোয়ান

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে হাজারো কুর্দি যোদ্ধাকে প্রবেশ করিয়ে দেশটির ইসলামি সরকার পতনের পরিকল্পনা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তবে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের তীব্র আপত্তির মুখে শেষ পর্যন্ত ওই গোপন অভিযান বাতিল করা হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। 

রোববার (১৬ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১১ ফেব্রুয়ারি হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে একটি পরিকল্পনা তুলে ধরেন। এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল ইরাকি কুর্দিস্তান থেকে হাজার হাজার কুর্দি যোদ্ধাকে ইরানের পশ্চিম সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করানো এবং মার্কিন বিমান সহায়তায় তাদের মাধ্যমে দেশটির ভেতরে বিদ্রোহ উসকে দেওয়া।

বৈঠকে উপস্থিত ইসরায়েলি এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়ন করা গেলে ইরানের জনগণের সামনে নিজেদের ভাগ্য নিজেরা নির্ধারণ করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারত।

পরিকল্পনাটি ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ তৈরি করেছিল এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর সঙ্গেও আলোচনা করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

তবে পরিকল্পনার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান। ইরান ও তুরস্কের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে সশস্ত্র কুর্দি বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বিগ্ন আঙ্কারা। ফলে কুর্দিদের অস্ত্র ও সামরিক সহায়তা দিয়ে ইরানে প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার বিরোধিতা করেন এরদোয়ান।

ইসরায়েলি ও উপসাগরীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, এরদোয়ান ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানান, মধ্যপ্রাচ্যের কোথাও কুর্দিদের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে এগিয়ে নেওয়ার মতো কোনো পদক্ষেপ তুরস্ক মেনে নেবে না।

কুর্দিদের নিয়ে তুরস্কের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা উদ্বেগ। গত চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টি পিকেকের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত তুরস্ক। এ সংঘাতে কয়েক দশকে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি হয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রহীন জাতিগোষ্ঠী কুর্দিরা মূলত তুরস্ক, ইরান, ইরাক ও সিরিয়ায় বসবাস করে। ইরানের কুর্দিরাও দেশটির রাজতন্ত্র ও ইসলামি প্রজাতন্ত্র উভয় আমলেই বৈষম্য ও দমনপীড়নের অভিযোগ করে আসছে।

ইসরায়েল দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের কুর্দিদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলেছে। ইরানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের ব্যবহার করে দেশটির অভ্যন্তরে চাপ তৈরির সম্ভাবনাকেও ইসরায়েল গুরুত্ব দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইরানি কুর্দিদের ৬টি সংগঠনের যোদ্ধাদের নিয়ে একটি জোট গঠনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। তাদের ইরানে প্রবেশের সম্ভাব্য তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছিল ১৮ মার্চ। তবে অভিযানের জন্য শেষ পর্যন্ত ট্রাম্পের অনুমোদন প্রয়োজন ছিল।

ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে ইসরায়েলি বিমান হামলার পর পরিকল্পনাটি আরও বাস্তব রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। পশ্চিম ইরানে দেশটির সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা, পুলিশ স্টেশন, বাসিজ বাহিনী এবং সরকারি কর্মকর্তাদের অবস্থানেও হামলা চালানো হয়। এর ফলে কুর্দিদের সম্ভাব্য অগ্রযাত্রার জন্য ইসরায়েল পথ তৈরি করছে এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল।

তবে পরিকল্পনাটি নিয়ে খোদ কুর্দিদের মধ্যেও সংশয় দেখা দেয়। তারা শুধু সামরিক সহায়তা নয়, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তাও দাবি করতে শুরু করেন।

এরই মধ্যে তুরস্কের পক্ষ থেকে পরিকল্পনাটি বাতিলের জন্য ওয়াশিংটনের ওপর চাপ বাড়তে থাকে। উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও সতর্ক করে দেয়, ইরানের ভেতরে জাতিগত বিভাজন উসকে দিলে তা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

এর আগে মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তারাও নেতানিয়াহুর পরিকল্পনার বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন। নিউইয়র্ক টাইমসের বরাতে দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, সিআইএর পরিচালক জন র‌্যাটক্লিফ ট্রাম্পকে নেতানিয়াহুর শাসন পরিবর্তনের বিভিন্ন পরিকল্পনা সম্পর্কে ব্রিফ করার সময় সেগুলোকে অবাস্তব বলে অভিহিত করেছিলেন।

তবে এতে ট্রাম্পের আগ্রহ পুরোপুরি থামেনি। ১ মার্চ তিনি কুর্দি নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ইরানের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে দেশটির অভ্যন্তরে পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন।

পরিকল্পনাটি শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যাওয়ার পর মোসাদের প্রধান রোমান গোফম্যান ইরানের শাসন পরিবর্তনের পরিকল্পনা তৈরির সঙ্গে যুক্ত সংস্থাটির দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেন বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এদিকে গত ২৮ জুলাই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সর্বশেষ ওভাল অফিস বৈঠকেও ইরানে শাসন পরিবর্তনের বিষয়টি আবার আলোচনায় আসে। নেতানিয়াহু নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এখনও ইরানে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে ট্রাম্পকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। তবে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প সামরিক হামলার বদলে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ।

ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর আগে ও পরে ট্রাম্প প্রশাসনের লক্ষ্য একাধিকবার পরিবর্তিত হয়েছে। কখনো ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংস, কখনো হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া, আবার কখনো ইরানের মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা কমানোর কথা বলা হয়েছে। তবে ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনকে প্রকাশ্যে মার্কিন অভিযানের লক্ষ্য হিসেবে স্বীকার করেননি ট্রাম্প।

সূত্র : দ্য টেলিগ্রাফ


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

ইরান যুদ্ধে ৪৫টি রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষতি ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি

প্রকাশিত :  ০৯:২৭, ১৬ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৭, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের ইরানবিরোধী যুদ্ধে অন্তত ৪৫টি এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হওয়া এসব ড্রোনের মূল্য ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি। ফলে যুদ্ধ শুরুর আগে থাকা মার্কিন রিপার ড্রোনের প্রায় ২৫ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি। গত শুক্রবার প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনটি এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন মার্কিন–ইসরায়েলি হামলার পরও ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখনও কার্যকর। অথচ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর সহযোগীরা বারবার দাবি করে আসছেন, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে এমকিউ–৯ রিপার ড্রোন ধ্বংসের সংখ্যা মে মাসে প্রকাশিত ব্লুমবার্গের একটি প্রতিবেদনের তুলনায় কিছুটা বেশি দেখানো হয়েছে। ব্লুমবার্গের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মজুত থাকা এমকিউ–৯ রিপার-এর প্রায় ২০ শতাংশ হারিয়েছে দেশটি।

একেকটি এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনের মূল্য ৩ কোটি থেকে ৫ কোটি ডলার। এর দাম নির্ভর করে এতে ব্যবহৃত সেন্সর, রাডার এবং অস্ত্রের বিন্যাসের ওপর। মার্কিন বিমানবাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এই চালকবিহীন আকাশযান উচ্চ উচ্চতায় থেকে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

এমকিউ–৯ রিপার ড্রোনে হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জয়েন্ট ডিরেক্ট অ্যাটাক মিউনিশন (জেডিএএম) গাইডেড বোমাও বহন করা যায়। তবে ড্রোনটি তুলনামূলক ধীরগতির এবং মাঝারি থেকে নিচু উচ্চতায় উড়ে। উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ও শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এলাকায় এ বৈশিষ্ট্যই এটিকে সহজ লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। ইরানের আইআরজিসি এবং ইয়েমেন ও ইরাকে থাকা ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জন্যও তাই রিপার ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হরমুজ প্রণালির আশপাশে এই ড্রোনটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। বর্তমানে ওই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত চলছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি জলপথটিতে একটি ‘ইস্পাতের প্রাচীর’ নৌ অবরোধ কার্যকর করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে যেসব মার্কিন অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে এসেছে, এমকিউ–৯ রিপার সেই ক্রমবর্ধমান তালিকারই একটি অংশ।

এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জেনারেল অ্যাটমিকসের তৈরি রিপার ড্রোন ধীরে ধীরে বহর থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এর পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত কম খরচের এমন সশস্ত্র নজরদারি ড্রোনের একটি নতুন বহর গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে পেন্টাগন, যেগুলো ঝাঁকবদ্ধভাবে (swarming) লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালাতে সক্ষম হবে।

যুদ্ধের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক দূরপাল্লার স্ট্যান্ড-অফ অস্ত্রের মজুতও কমে গেছে। এগুলো হলো এমন সামরিক অস্ত্র বা ক্ষেপণাস্ত্র, যা শত্রুপক্ষের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা পাল্টা আক্রমণের সীমার বাইরে নিরাপদ দূরত্বে থেকে লক্ষ্যবস্তুতে নিক্ষেপ করা যায়। যুক্তরাষ্ট্র এ পর্যন্ত ৮৫০ টির বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১ হাজারটির বেশি প্যাট্রিয়ট ও টার্মিনাল হাই অলটিট্যুড এরিয়া ডিফেন্স (থাড) ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

অন্যদিকে, মার্কিন অস্ত্রের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছানোর খবর অস্বীকার করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এমন দাবি নাকচ করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং নতুন অস্ত্রও উৎপাদন ও সরবরাহ করা হচ্ছে।

 তবে একই সময়ে ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসের কাছে ৬৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি অতিরিক্ত অর্থ চেয়েছে। এর মধ্যে ইরানবিরোধী ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’র ব্যয় মেটানোর পাশাপাশি যুদ্ধে ব্যবহৃত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের মজুত পুনরায় পূরণের অর্থও রয়েছে।

গত ৬ আগস্ট ক্যাবিনেট বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের গোলাবারুদের মজুত নিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে সরাসরি বিরোধে জড়ান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বৈঠকে ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের ঘাটতি ইরানের বিরুদ্ধে বড় আকারের নতুন হামলা চালানো থেকে তার প্রশাসনকে বিরত রাখার অন্যতম কারণ।

 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর