img

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৮:৪৬, ১৯ আগষ্ট ২০২৬

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচি ঘোষণা

আগামী ২৬ আগস্ট পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে  পালনের লক্ষ্যে দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে সরকার। বুধবার (১৯ আগস্ট) ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবুবকর সিদ্দীকের সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই জাতীয় কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তির তথ্যমতে, গত ১৩ আগস্ট ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে এসব কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়। ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ এনডিসির সভাপতিত্বে ওই সভায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুফতি মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) ড. আয়াতুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. ইমতিয়াজ হোসেনসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দিনটিতে মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণী দেবেন। পাশাপাশি সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি ভবন এবং সশস্ত্র বাহিনীর সব স্থাপনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক আইল্যান্ড, লাইটপোস্ট ও প্রধান সড়কগুলো জাতীয় পতাকা, রঙিন পতাকা এবং ‘কালিমা তায়্যিবা’ খচিত ব্যানারে সজ্জিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ সচিবালয় মসজিদসহ দেশের প্রতিটি মসজিদে বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন থাকবে। একই সঙ্গে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ তাদের নিজ নিজ আওতাধীন এলাকায় আলোচনা সভা ও প্রার্থনার আয়োজন করবে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ওয়াজ মাহফিল, সেমিনার ও টকশো সম্প্রচারের পাশাপাশি কিরাত, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ, শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা এবং আরবি ভাষায় খুতবা রচনা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়া বিশেষ স্মরণিকা ও ক্রোড়পত্র প্রকাশের পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে মাসব্যাপী ইসলামিক বইমেলা অনুষ্ঠিত হবে।

দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরতে বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ অন্যান্য সম্প্রচারমাধ্যমকে বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোকে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশের অনুরোধ জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, শিশু একাডেমি, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ওয়াক্‌ফ প্রশাসকের কার্যালয় এবং ঢাকা ও জেদ্দা হজ অফিসসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শ, ইসলামের শান্তি, প্রগতি, সৌহার্দ্য, সহনশীলতা, বিশ্বভ্রাতৃত্ব, মানবাধিকার ও নারীর মর্যাদা বিষয়ে আলোচনা সভা, দোয়া, হামদ-নাত, স্বরচিত কবিতা পাঠ এবং কুইজ প্রতিযোগিতার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি শিশুদের জন্য বিশেষ হামদ-নাত, আলোচনা ও রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করবে। এছাড়া দেশের সকল সামরিক ও বেসামরিক হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু সদন, আবাসিক শিশু বিকাশ কেন্দ্র ও প্রবীণ নিবাসে পরিবেশন করা হবে উন্নতমানের খাবার। বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস ও মিশনগুলোতেও উপযুক্ত মর্যাদায় দিবসটি উদযাপিত হবে।

সমগ্র দেশজুড়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


ধর্ম এর আরও খবর

img

বায়তুল মোকাররমে খতিবের ‘অপসারণ দাবি’ ঘিরে উত্তেজনা

প্রকাশিত :  ১১:২৪, ০৯ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:২৫, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

রাজধানীর ধর্মীয় ও রাজনৈতিক অঙ্গন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি আব্দুল মালেককে অপসারণের দাবি ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে । খতিবকে ‘সরিয়ে দেওয়া হবে’ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা রয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে জুমার নামাজের পর মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ করেন একদল মুসল্লি। এ সময় ‘জামায়াত-শিবিরের আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ এবং ‘মওদূদীর আস্তানা, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’ স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে এলাকা। তবে খতিবের অপসারণের বিষয়ে জামায়াতের অবস্থান নিয়ে ওঠা অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আজ শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওলামা দল, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের নেতৃত্বে বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া এক ব্যক্তি বলেন, এই মসজিদের খতিব মিম্বারে এবং সব মুসলমানের নয়নের মণি। তিনি এখানে খতিব থাকবেন এবং নামাজ পড়াবেন।

তিনি আরও বলেন, ইসলাম কোনো দলের পক্ষে নয়। ইসলাম আল্লাহর, ইসলাম তৌহিদীদের, ইসলাম আমাদের মুসলমানদের।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। বিএনপির সমর্থনে চারটি আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও কোনো আসনেই জয় পায়নি দলটি।

সম্প্রতি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক জামায়াতে ইসলামীর আদর্শ এবং কওমি আলেমদের একাংশের জামায়াতের সঙ্গে রাজনৈতিক জোটে যুক্ত হওয়ার সমালোচনা করেন। তার বক্তব্য ঘিরে ইসলামপন্থি রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট আলেমদের মধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আব্দুল মালেককে কওমি আলেমদের জামায়াতের জোটে যুক্ত হওয়াকে ‘গোমরাহি’ বা ‘পথভ্রষ্টতা’ হিসেবে বর্ণনা করতে শোনা যায়। একই বক্তব্যে জামায়াতের লোগোতে থাকা ‘আকিমুদ-দ্বীন’ শব্দের ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার ভাষ্য, শব্দটির মাধ্যমে ইসলামের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে নিজের আপত্তি তুলে ধরার সময় তাকে ‘নাউজুবিল্লাহ’ বলতেও শোনা যায়।

খতিবের এসব মন্তব্যের পর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে বিতর্ক আরও জোরালো হয়। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ ও জামায়াতবিরোধী স্লোগানের ঘটনা ঘটল।


ধর্ম এর আরও খবর