img

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ

প্রকাশিত :  ০৭:৩১, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের সঙ্গে ১০১ চুক্তি পর্যালোচনা করছে সরকার, শিগগিরই সিদ্ধান্ত: চিফ হুইপ

শেখ হাসিনার সরকারের সময়ে ভারতের সঙ্গে করা ১০১টি চুক্তি যাচাই-বাছাই করছে বর্তমান সরকার। এসব চুক্তির বিভিন্ন দিক পর্যালোচনার পর প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।

তিনি জানান, চুক্তিগুলো নিয়ে সরকারের পর্যালোচনা প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হতে পারে।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর সংসদের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, বিভিন্ন অনৈতিক চুক্তি থেকে বের হয়ে আসছে বর্তমান সরকার। বিএনপি সরকারের মূলনীতি হচ্ছে- সবার আগে বাংলাদেশ।

তিনি জানান, ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারত আমন্ত্রণ জানায়নি। স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাকে আমন্ত্রণ না জানানোর কারণে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ।

নুরুল ইসলাম মনি বলেন, চট্টগ্রাম পোর্টে বাংলাদেশ ও বন্ধু দেশের দুইটি জাহাজ একসঙ্গে আসলে, বন্ধু দেশের জাহাজ আগে খালাস হবে। দেশের স্বার্থ বিরোধী এমন অসংখ্য চুক্তি করে গেছেন শেখ হাসিনা। আমরা সেই জায়গা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছি। আমাদের দেশের স্বার্থ রক্ষার পরেই বন্ধুত্ব বজায় রাখা হবে।

তিনি বলেন, এই দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। আমরা স্বাবলম্বী করতে চাই এই দেশকে। এর জন্য আমাদের যা যা করা দরকার আমরা তাই করব।

চিফ হুইপ বলেন, হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া ২০৫ কোটি ডলারের ঋণ সরকার পরিশোধ করেছে। দেশে ১৬ লাখ টন সার মজুদ রয়েছে এবং বিদ্যুৎ, ও গ্যাস সমস্যা সমাধানে সরকারের সদিচ্ছার কোনো অভাব নেই।


জাতীয় এর আরও খবর

img

কারিগরি ত্রুটিতে এবার আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ, দেশে লোডশেডিং বাড়ছে

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কয়লার সংকট কাটিয়ে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বাড়তে শুরু করলেও হঠাৎ কারিগরি ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন আবার কমে যায়। এর প্রভাব পড়েছে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়, বেড়েছে লোডশেডিং।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত তারা সরবরাহ করছিল। গতকাল রাতে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় উৎপাদন। তবে একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন হচ্ছে ৭৫০ মেগাওয়াটের কম।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে এখানে। চাহিদা বুঝে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড আছে এই কেন্দ্রের।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

পিডিবি সূত্র বলছে, দুই মাসের বেশি সময় ধরে দেশে গ্যাসের সংকট তীব্র হয়েছে। গ্যাস থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লাস্বল্পতা ও কারিগরি কারণে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট কারিগরি কারণে বন্ধ। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা আছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গরম বাড়লেই লোডশেডিং বাড়ছে। গতকাল সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়—৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। আজ শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হচ্ছে সারা দেশে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর জ্বালানিসংকট দেখা দেয় বিশ্বজুড়ে। কয়লা, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের অভাবে দেশে চাহিদামতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। দেশে ১৩৬টি বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও জ্বালানির অভাবে বেশ কিছু কেন্দ্র নিয়মিত বন্ধ থাকছে। আর কিছু কেন্দ্র সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন করছে।

জাতীয় এর আরও খবর