img

দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৮:১৫, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশ পুনর্গঠনে তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নিতে তরুণ সমাজের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন । একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার পথ কেউ রোধ করতে পারবে না।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিন মাসব্যাপী ‘দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেওয়া ভাষণে যুবসমাজকে পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এইবার আপনারা আমাকে বলেন, এতগুলো মানুষ—আমরা যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চাই, কেউ কি ঠেকিয়ে রাখতে পারবে? কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। আপনাদেরকে দায়িত্ব নিতে হবে দেশটা কীভাবে আমরা গড়ে তুলব। এই দেশটা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে।’

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি তারা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সারা বিশ্বকে দেখিয়েছে। পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ এখান থেকে শুরু করেছেন। কাজেই আসেন, আগামী ৩ মাস যে ডেঙ্গুর সমস্যা সমাধান করার চেষ্টা করবো। হয়তো আমরা শতভাগ পারবো না, কিন্তু ৮০ ভাগ পারবো।

ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে নাগরিক সচেতনতার ওপর জোর দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু শতভাগ নির্মূল করা হয়তো পুরোপুরি সম্ভব নয়, তবে সমন্বিত পদক্ষেপ ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য আগামী তিন মাস দেশজুড়ে সর্বোচ্চ তৎপরতা চালানোর কথা জানিয়ে তিনি প্রতি সপ্তাহে নাগরিকদের অন্তত এক ঘণ্টা নিজ নিজ আঙিনা পরিচ্ছন্নতার কাজে দেওয়ার আহ্বান জানান। আগামী দিনের মূল লক্ষ্য হিসেবে তিনি ‘পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে তরুণ সমাজ দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে দেশকে পরিবর্তন করতে হয়। পরিবর্তন হয়েছে। তরুণ সমাজের কাছে আমার আহ্বান, আসুন এবার আমরা রাষ্ট্রকে, দেশকে পুনর্গঠন করি।

ডেঙ্গুর সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে আজ ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আগামী ১২ ডিসেম্বর পর্যন্ত টানা তিন মাস চলবে। ঢাকাসহ দেশের সব মহানগর, বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে মাঠপর্যায়ে এই অভিযান পরিচালিত হবে। মহানগর এলাকায় সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং জেলা পর্যায়ে জেলা প্রশাসকেরা (ডিসি) পুরো কার্যক্রম সমন্বয় করবেন। এ ছাড়া উপজেলা পর্যায়ে মাঠপর্যায়ের তদারকি ও সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা (ইউএনও)।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডেঙ্গু সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভাপতি ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, শিক্ষা সচিব আবদুল খালেক এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সচল হলো আদানির বিকল ইউনিট, দুপুরের মধ্যে বিদ্যুৎ পাবে বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৮:৩৯, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে কারিগরি সমস্যায় বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি আবার চালু হয়েছে। এর ফলে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় বিদ্যুৎ সরবরাহে যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট নির্ধারিত সময়ের আগেই বাংলাদেশ সময় রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা হয়। এ দিন সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে ইউনিটটির সমন্বয় (সিঙ্ক্রোনাইজেশন) সম্পন্ন হওয়ার কথা। এতে দুপুরের মধ্যেই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার এক বার্তায় আদানি পাওয়ার জানায়, এপিএল গোড্ডার দ্বিতীয় ইউনিট সকাল ৫টা ১৭ মিনিটে সফলভাবে চালু করা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই ইউনিটটি প্রস্তুত করা সম্ভব হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টার মধ্যে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সমন্বয় সম্পন্ন হওয়ার কথা জানানো হয় বার্তায়। ফলে দুপুরের আগেই বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু হবে বাংলাদেশে।
এর আগে, গত ১১ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ইউনিটটির বয়লারে কারিগরি ত্রুটি দেখা দেওয়ায় সেটি বন্ধ করতে হয়।

এর ফলে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় ও বাংলাদেশে সরবরাহও হ্রাস পায়।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিটটি বিকল হওয়ার আগে গোড্ডা কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ছাড়িয়ে গিয়েছিল। তবে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎ সরবরাহ ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে আগে থেকেই জ্বালানি সংকটের কারণে চাপের মুখে থাকা দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আরও চাপে পড়ে এবং বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়ে যায়।

বিপিডিবির কর্মকর্তারা জানান, বয়লারের ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পরপরই মেরামত কাজ শুরু করা হয়। প্রথমদিকে ধারণা করা হয়েছিল, ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। তবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত শেষ হওয়ায় দ্রুত উৎপাদনে ফেরা সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, কয়লা পরিবহনে বিঘ্নের কারণে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছিল।
আদানি কর্তৃপক্ষ রেলপথে যানজট, কয়লা পরিবহনে বিভিন্ন বিধিনিষেধ ও অতিবৃষ্টির কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল। এতে কেন্দ্রটিতে প্রয়োজনীয় কয়লা মজুত নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

তবে গত মাসের শেষ দিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। দিনের বেলায় উৎপাদন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় তা এক হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছায়।
পরে উৎপাদন আরও বাড়িয়ে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বেশি করা সম্ভব হলেও ঠিক সে সময়ই বয়লারের ত্রুটিতে একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে গোড্ডা কেন্দ্র বর্তমানে অন্যতম বড় আমদানি উৎস। কেন্দ্রটির দুই ইউনিট থেকে মোট ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বিকল ইউনিটটি পুনরায় সচল হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সরবরাহ বাড়বে ও চলমান লোডশেডিং কিছুটা কমবে।

জাতীয় এর আরও খবর