img

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল সই ট্রাম্পের; শতভাগ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত-চীন

প্রকাশিত :  ০৬:২৭, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিল সই ট্রাম্পের; শতভাগ শুল্কের ঝুঁকিতে ভারত-চীন

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত একটি বিলে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার স্বাক্ষর করা ওই বিলের ফলে রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা পেয়েছে তার প্রশাসন।

এতে ভারত ও চীনের ওপরও শুল্ক আরোপের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে জানায় ইন্ডিয়া টুডে। 

আইনটিতে বলা হয়েছে, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা গ্যাসের সবচেয়ে বেশি আমদানিকারক পাঁচ দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে ঢোকার ক্ষেত্রে ৩০ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে হবে ট্রাম্পকে। আইন কার্যকর হওয়ার পর জেনেশুনে রাশিয়ার তেল বা গ্যাস নতুন করে কেনা দেশগুলোর ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য হবে। পাশাপাশি রাশিয়াকে নিষেধাজ্ঞা এড়াতে সহায়তা করা শীর্ষ পাঁচ দেশের ক্ষেত্রেও এই আইন কার্যকর হবে।

রাশিয়ার তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে ভারত ও চীন রয়েছে। তবে আইনে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ করা হয়নি। শীর্ষ পাঁচ দেশের তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, সেটিও স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে কোন কোন দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করা হবে, তা নির্ধারণে ট্রাম্প প্রশাসনকে যথেষ্ট স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা ভারতীয় পণ্যের ওপর বড় ধরনের শুল্ক আরোপের পথ তৈরি হতে পারে। তবে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ভোক্তা পণ্যের দাম ও জ্বালানি খরচ বেড়ে যেতে পারে—এমন কোনো পদক্ষেপ নিতে ট্রাম্প হয়তো অনিচ্ছুক থাকবেন। বিশেষ করে নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হতে পারে। বুধবার কংগ্রেসে পাস হওয়া এই বিল রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতকে লক্ষ্য করেছে।

রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এড়াতে মস্কোকে সহায়তা করার অভিযোগ থাকা তেলবাহী জাহাজের বহরকেও এর আওতায় আনা হয়েছে। এসব জাহাজকে রাশিয়ার ‘ছায়া বহর’ বলা হয়। এ ছাড়া জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দেওয়া হয়েছে।

এক বছরের বেশি সময় ধরে বিলটি নিয়ে বিলম্বের পর গত জুলাইয়ে ট্রাম্প এটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দেন। কংগ্রেসের কয়েকজন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের পরিকল্পিত বৈঠকের আগে তার কাছে আর চাপ তৈরির ক্ষমতা দিতে মার্কিন কর্মকর্তারা বিলটি পাসের জন্য চাপ দিয়েছিলেন। হোয়াইট হাউসের আইনবিষয়ক পরিচালক জেমস ব্রেইড বলেন, প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কংগ্রেস নির্বাহী বিভাগের হাতে নতুন করে শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দিল। কোন কোন দেশের ওপর শেষ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, তা স্পষ্ট না হওয়ায় আইনটি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ন্যাশনাল ফরেন ট্রেড কাউন্সিলের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেনেট চু বলেন, কোন কোন দেশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে, তা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের হিসাব রয়েছে। আলোচনায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত, ব্রাজিল, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকটি দেশ রয়েছে। ভারত সতর্ক করে বলেছে, নতুন মার্কিন শুল্ক দুই দেশের সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে চীন আন্তর্জাতিক আইনে কোনো ভিত্তি নেই—এমন ‘দূরপ্রসারী এখতিয়ার’-এর বিরোধিতা করেছে। বিলটির সমালোচকেরা বলছেন, আইনের ভাষা খুব বিস্তৃত। এতে প্রেসিডেন্টকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী লরা ব্র্যাঙ্ক বলেন, প্রেসিডেন্টকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়ায় এই ক্ষমতার অপব্যবহার হতে পারে।

তবে রক্ষণশীল সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিসের দাবি, কোন কোন দেশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে, তা নির্ধারণের জন্য বিলে যথেষ্ট মানদণ্ড রয়েছে। তাদের মতে, এর মাধ্যমে অন্য কোনো সম্পর্কহীন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের গোপন সুযোগ রাখা হয়নি। নতুন শুল্ক কখন আরোপ করা হবে, সেটিও রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ৩০ দিনের মধ্যে শুল্ক ঘোষণা করতে হবে। ফলে এর বাস্তবায়ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের কাছাকাছি সময়ে হতে পারে। রাশিয়ার জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর বেশি শুল্ক আরোপ করা হলে তেল সরবরাহে সমস্যা তৈরি হতে পারে। এতে জ্বালানির দাম বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ বাড়তে পারে। 

২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আবার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প ৮০টির বেশি দেশের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন। এসব পদক্ষেপের অনেকগুলোই সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করেছে। আদালত বলেছে, এসব শুল্ক আরোপের ক্ষেত্রে ট্রাম্প তার ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিলেন। তবে নতুন আইনের আওতায় আরোপ করা শুল্ক নিয়ে আইনি চ্যালেঞ্জ করা আরো কঠিন হতে পারে। কারণ কংগ্রেস স্পষ্টভাবে এসব শুল্ক আরোপের অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে শুল্ক বা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ক্ষমতাও ট্রাম্পকে দিয়েছে আইনটি। ফলে নতুন ক্ষমতা কতটা কঠোরভাবে ব্যবহার করা হবে, তা নির্ধারণের সুযোগ প্রশাসনের হাতে থাকছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনে ট্রেজারি বিভাগের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বেন হ্যারিস বলেন, ‘আইনে দেওয়া সংজ্ঞাগুলো অস্পষ্ট। আর ছাড় দেওয়ার ক্ষমতার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের কাছে অনেকটা দায় এড়ানোর সুযোগ থাকছে।’

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুদ্ধ নয়, ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনে প্রস্তুত রাশিয়া: পুতিন

প্রকাশিত :  ০৯:২৫, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউরোপের বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই বলে দাবি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন ও সহযোগিতায় মস্কো প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন তিনি। খবর আনাদোলুর

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সামরিক-শিল্প কমিশনের এক বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন। 

তিনি আরও বলেন, ইউরোপের কিছু নেতা রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইউক্রেনের সংঘাত এবং রাশিয়ার কথিত হুমকিকে নিজেদের নীতির পক্ষে যুক্তি হিসেবে ব্যবহার করছেন তারা।

পুতিন বলেন, ‘আমি আবারও বলতে চাই, ইউরোপ বা ইউরোপীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে রাশিয়ার কোনো আগ্রাসী উদ্দেশ্য নেই। এর পক্ষে কোনো ভিত্তিই নেই। আমরা সহযোগিতা করতে এবং ইউরোপের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করতে প্রস্তুত।’

বাল্টিক সাগরে ইউরোপীয় দেশগুলোর সামরিক মহড়ারও সমালোচনা করেন তিনি। পুতিনের দাবি, এসব মহড়ায় বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘তারা সব সময় আন্তর্জাতিক আইন রক্ষা এবং এর নিয়ম মেনে চলার কথা বলে। অথচ তারাই বেসামরিক জাহাজ দখলের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

প্রয়োজনে রাশিয়া এর জবাব দেবে বলেও সতর্ক করেন পুতিন। তিনি বলেন, ‘আসুন আমরা শান্তিতে বসবাস করি। তা না হলে আমরাও জবাব দিতে বাধ্য হব।’

বৈঠকে রাশিয়ার নতুন রাষ্ট্রীয় অস্ত্র কর্মসূচির অগ্রাধিকারও তুলে ধরেন পুতিন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে আধুনিকায়ন করাই হবে এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

তিনি বলেন, রাশিয়ার পারমাণবিক ত্রয়ী—স্থল, সমুদ্র ও আকাশভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা—শক্তিশালী করাই হবে কর্মসূচির ‘পরম অগ্রাধিকার’। তার দাবি, এই সক্ষমতা রাশিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ।

পুতিন জানান, রাশিয়ার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর ৯২ শতাংশ আধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত।

এ ছাড়া বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা, চালকবিহীন ও রোবোটিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং নির্ভুলভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম অস্ত্রের উন্নয়নকেও অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

রাশিয়ার স্যাটেলাইট ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার কথাও বলেন পুতিন। তার মতে, পূর্ণাঙ্গ স্যাটেলাইট নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে মহাকাশভিত্তিক নজরদারি, নেভিগেশন, যোগাযোগ ও উচ্চগতির ইন্টারনেট সক্ষমতা বাড়বে।

একই সঙ্গে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সেনা ও অস্ত্রের ওপর তাৎক্ষণিক কমান্ড ও নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর করা সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি।

সব মিলিয়ে, একদিকে ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের বার্তা দিলেও অন্যদিকে রাশিয়ার সামরিক ও পারমাণবিক সক্ষমতা আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছেন পুতিন।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর