img

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : আসুন, হৃদয়ের সুস্থতার জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসি

প্রকাশিত :  ০৬:৫৫, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৭, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবা : আসুন, হৃদয়ের সুস্থতার জন্য আল্লাহর দিকে ফিরে আসি
শায়খ মুস্তাফা আবদুল্লাহ

মানুষ প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে এমনভাবে জীবনের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, যেন এই পৃথিবীই তার স্থায়ী ঠিকানা । কর্মস্থল, যাতায়াত, বিল, পরিবার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার ভিড়ে মানুষ প্রায়ই ভুলে যায়—একদিন কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই তার রূহ এই দুর্বল শরীর থেকে নিয়ে নেওয়া হবে।

১৮ সেপ্টেম্বর ইস্ট লন্ডন মসজিদের জুমার খুতবায় কথাগুলো বলেছেন শায়খ মোস্তাফা আবদুল্লাহ। তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াত উদৃত করে বলেন, “হে মানুষ! তোমাকে কোন জিনিসটি তোমার মহানুভব রব সম্পর্কে প্রতারিত (গাফেল) করেছে?” —সুরা আল-ইনফিতার, ৮২:৬।

শায়খ মোস্তাফা বলেন, একজন আলেম এই আয়াত শুনে বলেছিলেন, মানুষকে সবচেয়ে বেশি প্রতারিত করে তার অজ্ঞতা। কারণ অজ্ঞতাই মানুষকে গাফেল ও উদাসীন করে তোলে।

তিনি বলেন, আয়াতটিতে আল্লাহ নিজেকে ‘আল-কারিম’ বা মহানুভব ও পরম উদার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। উদারতা শুধু সম্পদ দেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং হৃদয়ের প্রশস্ততাও এর অংশ । একজন মানুষ অন্যের ভুল ক্ষমা করতে পারে কি না, অতীতকে পেছনে ফেলতে পারে কি না এবং মানুষের ত্রুটির পাশাপাশি তার ভালো দিকও দেখতে পারে কি না—এসবও উদারতার অংশ।

তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন, “পার্থিব জীবন তো প্রতারণার ভোগসামগ্রী ছাড়া আর কিছুই নয়।” সুরা আলে ইমরান। তাই যে দুনিয়াকে আল্লাহ নিজেই প্রতারণার সামগ্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেই দুনিয়ার মোহে মানুষের অতিরিক্ত আসক্ত হওয়া উচিত নয়।

শায়খ মুস্তাফা আবদুল্লাহ বলেন, প্রথম যুগের এক ইমাম তাঁর এক ভাইকে উপদেশ দিয়েছিলেন—এই পৃথিবীতে যা নির্মিত হয়, একদিন তা ধ্বংস হবে; যা একত্রিত হয়, তা বিচ্ছিন্ন হবে; আর মানুষ শেষ পর্যন্ত কবরের যাত্রী হবে। তাই আল্লাহর দিকে দ্রুত ফিরে যাওয়া, তাঁর দেওয়া রিজিকে সন্তুষ্ট থাকা, আমল বাড়ানো এবং দুনিয়াবি আশা-আকাঙ্ক্ষা সীমিত করা জরুরি।
তিনি বলেন, এখান থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। প্রথমত, মানুষের আকাঙ্ক্ষা সীমিত করা দরকার। প্রতি বছর নতুন ফোন, প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও নতুন গাড়ি কিংবা আরও বড় বাড়ির পেছনে ছোটা সবসময় হারাম নয়। তবে মানুষকে নিজের কাছে প্রশ্ন করতে হবে—এসব কি প্রকৃত প্রয়োজন, নাকি শুধু আকাঙ্ক্ষা? আখিরাতের জন্য সে কী প্রস্তুতি নিয়েছি?

দ্বিতীয়ত, প্রত্যেকের উচিত নিজের হিসাব নিজেই নেওয়া। তিনি আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর উক্তি উল্লেখ করে বলেন, “আজ আমলের সময়, হিসাব নেই; আর আগামীকাল হিসাব হবে, কিন্তু আমলের সুযোগ থাকবে না।”
অর্থাত, দুনিয়ার জীবন হচ্ছে কাজ করার সময়, আর আখিরাত হচ্ছে সেই কাজের হিসাব দেওয়ার সময়।

তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা:) জানিয়েছেন, বান্দার প্রাণ কণ্ঠে পৌঁছানোর আগ পর্যন্ত আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন। তাই তওবা ও সংশোধনের সময় এখনই।

তৃতীয়ত, ভালো কাজ করার তাওফিক আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে । তিনি নবী শু‘আইব (আ.)-এর কথা উদৃত করে বলেন, “আমার তাওফিক কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই । তাঁরই ওপর আমি ভরসা করি এবং তাঁরই দিকে ফিরে যাই।” —সুরা হুদ, ১১:৮৮।

শায়খ মুস্তাফা বলেন, মানুষ মোবাইল ফোন ও গাড়ি চার্জ করতে ভুলে না, কিন্তু হৃদয়কে আধ্যাত্মিকভাবে সচল রাখার কথা প্রায়ই ভুলে যায়। সালাতের সময় হয়ে যাওয়ার পরও নামাজে দাঁড়াতে অনীহা কিংবা রমজানে রোজার প্রতি অনাগ্রহ—এসব আত্মিক অসুস্থতার লক্ষণ।

তিনি বলেন, শরীরের মতো হৃদয়েরও সুস্থতা প্রয়োজন, আর সেই সুস্থতার জন্য আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়া জরুরি।

সবশেষে তিনি দোয়া করেন, “হে আল্লাহ, আমাদের হৃদয়কে গাফেলতা থেকে জাগিয়ে দিন, অন্তরকে সংশোধন করুন, দুনিয়ার দীর্ঘ আশা কমিয়ে দিন এবং আপনার সঙ্গে সাক্ষাতের দিন আমাদের একটি নির্মল হৃদয় দান করুন। আমিন।”

শায়খ মুস্তাফা আবদুল্লাহ : অতিথি খতীব, ইস্ট লন্ডন মস্ক এন্ড লন্ডন মুসলিম সেন্টার । জুমার খুতবা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬।

ধর্ম এর আরও খবর

img

সৌদি আরবে কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কারজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৭:৪৪, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত আগস্টে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা দিয়েছেন ।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে তাদের সংবর্ধনা দেওয়া হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হাসান শিপলু।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে এবং বই উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কার জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদের অর্জন নয়। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সব মুসলমানের অর্জন।’

তারেক রহমান বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি। দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সরকার রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে সেটির স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।’

এর আগে হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন প্রধানমন্ত্রী।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।