img

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা-লুটপাট, ‘বরদাশত’ না করার হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা-লুটপাট, ‘বরদাশত’ না করার হুঁশিয়ারি ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভ, সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা জোরদারের প্রতিশ্রুতি দিলেও জরুরি অবস্থা বা কারফিউ জারির ঘোষণা দেননি তিনি। বিক্ষোভের নামে সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।

রোববার (১৮ অক্টোবর) জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে ম্যাক্রোঁ বলেন, যারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে, তাদের অপরাধের মূল্য দিতে হবে। শনিবার ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে কয়েক বছরের মধ্যে ভয়াবহতম নগর সহিংসতার ঘটনা ঘটে।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য ও জেন্ডারমেরি বাহিনীর সদস্য।

ম্যাক্রোঁ বলেন, ন্যায্য দাবি নিয়ে যারা বিক্ষোভ করছেন, তাদের সঙ্গে ভাঙচুর, ধ্বংসযজ্ঞ ও লুটপাটে জড়িতদের পার্থক্য করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘গতকাল আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও কর্মকর্তারা পেশাদারত্বের পরিচয় দিলেও বিভিন্ন শহরে তাদের নজিরবিহীন সহিংসতার মুখে পড়তে হয়েছে।’

ভবিষ্যতে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে সরকারকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা গ্রহণ এবং আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে সংকটের মধ্যে থাকা মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা দিতে একটি ‘সংকট মোকাবিলা ইউনিট’ গঠনের ঘোষণা দেন ম্যাক্রোঁ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ঐক্য, শান্তি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা প্রয়োজন।’

প্যারিস থেকে আলজাজিরার প্রতিবেদক নাতাশা বাটলার বলেন, ম্যাক্রোঁর ভাষণে নতুন কোনো চমক ছিল না। বিক্ষোভকারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের বক্তব্য শুনে আসছেন বলে তার ভাষণ তাদের ক্ষোভ প্রশমনে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আগামী বছর ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে বিক্ষোভের ঘটনাটি রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল জনসমর্থন আদায়ে এ পরিস্থিতিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে।

বামপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জ্যঁ-লুক মেলঁশো বিক্ষোভ চলাকালে ধ্বংসযজ্ঞের জন্য ফরাসি সরকারকে সম্পূর্ণ দায়ী করেছেন। তার অভিযোগ, জনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে, কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জর্ডান বারদেলা ম্যাক্রোঁর ভাষণকে ‘হতাশাজনক’ ও ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার দাবি, ফরাসি জনগণকে সুরক্ষা দেওয়ার সক্ষমতা সরকারের নেই এবং জনগণকে দেওয়ার মতো আর কিছুই সরকারের অবশিষ্ট নেই।


img

গাজায় খাদ্যসংকটে ভুগছে ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি

প্রকাশিত :  ০৯:৪১, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বাসিন্দারা ভয়াবহ খাদ্যসংকটে ভুগছে। জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) তথ্য অনুযায়ী, গাজার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। 

বার্তা সংস্থা ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, গাজায় খাদ্যসংকটের মধ্যে সহায়তার পরিমাণ কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ১৪ লাখ ফিলিস্তিনি তীব্র খাদ্যসংকটে রয়েছেন।

এদিকে খাদ্যসহায়তার রেশনও আগের তুলনায় অর্ধেক করা হয়েছে। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম খাবার পাচ্ছেন সংকটাপন্ন পরিবারগুলো।

গাজায় চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে ডব্লিউএফপির দেশীয় পরিচালক শন হিউজ বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, ‘মানুষ নিরাপদ নয়। প্রতিদিনই বিমান হামলা চলছে। মানুষকে এখনো এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় কেউই স্থায়ীভাবে বসবাস করার মতো বাড়ি পাচ্ছেন না। মানবিক পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ।’

ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, তহবিলের ঘাটতির কারণে তাদের খাদ্যসহায়তা কার্যক্রম এক-তৃতীয়াংশ কমাতে হচ্ছে। এর ফলে গাজার প্রায় ৫ লাখ মানুষ সহায়তা হারাবেন।

যুদ্ধ ও বাস্তুচ্যুতির কারণে বহু পরিবার আগে থেকেই খাদ্য, আশ্রয় ও অন্যান্য জরুরি সেবার সংকটে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সহায়তা কমে যাওয়ায় তাদের খাদ্য জোগাড় আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

গাজায় মানবিক সংকটের মধ্যেই ইসরাইল উপত্যকাটিতে বাণিজ্যিক পণ্য প্রবেশ বন্ধ রেখেছে। এতে খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্য বলছে, গাজার মানুষের জন্য নিয়মিত খাদ্য সরবরাহ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ না বাড়লে সেখানকার খাদ্যসংকট আরও গভীর হতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর