img

রায় শুনে কী করবো, আসামিরা তো পালিয়ে গেছে: রায়হানের মা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৭, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

 রায় শুনে কী করবো, আসামিরা তো পালিয়ে গেছে: রায়হানের মা

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ (৩৪) হত্যা মামলার রায় আজ ঘোষণা করা হবে।

রায়গ ঘোষণার জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা এই মামলা একমাত্র আসামি পুলিশের বহিস্কৃত এএসআই আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। তবে এই মামলার প্রধান আসামি বহিস্কৃত এসআই আকবর হোসেন ভূঞাসহ বাকী ৫ আসামিই পলাতক রয়েছেন।

বেলা দুইটার পর সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী রায় পড়া শুরু করেন।

তার আগেই আদালতে হাজির হন নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম। আসামিরা জামিন পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রায় ঘোষণার আগে তিনি বলেন, দীর্ঘ ৬ বছর পর আজ রায় ঘোষিত হবে। কিন্তু এই রায় শুনে আমি কী করবো। আমার রায়হানকে যারা নির্যতন করে মারছে তারা তো পালিয়ে গেছে।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনের জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পরও কীভাবে প্রথম তিনজন আসামিই জামিন পায়? জামিন পেয়ে কীভাব তারা পালিয়ে যায়? আজকে তো শুধু কাগজে কলমে রায় হবে। আসামিরা তো শাস্তি পাচ্ছে না। আসামিরা শাস্তি না পেলে তো আমার ৬ বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেলো।

২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতের দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করলে তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা পাওয়া যায়। ঘটনার পরপরই এসআই আকবরসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং তিনজনকে প্রত্যাহার করা হয়।

পরবর্তীতে কনস্টেবল হারুনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই এবং ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত থেকে প্রধান অভিযুক্ত আকবরকে আটক করে। ২০২১ সালের ৫ মে আদালতে পিবিআই অভিযোগপত্র জমা দেয়, যেখানে ছয়জনকে আসামি করা হয়—এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই হাসান উদ্দিন ও আবদুল আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

আদালত সূত্র জানায়, হত্যা মামলার প্রধান আসামি বন্দরবাজার ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া ৪ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিন পান এবং ১০ আগস্ট কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরে তার জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে পলাতক রয়েছেন।

২০২১ সালের ৫ মে আলোচিত এ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয় পিবিআই। অভিযোগপত্রে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জের দায়িত্বে থাকা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে (৩২) প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। অন্য অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী (৪৩), কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ (৩২), টিটু চন্দ্র দাস (৩৮), ফাঁড়ির ‘টু-আইসি’ পদে থাকা এসআই মো. হাসান উদ্দিন (৩২) ও এসআই আকবরের আত্মীয় কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সংবাদকর্মী আবদুল্লাহ আল নোমান (৩২)।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের ৪০ফুট নিচে মোটর সাইকল, ফুটবলারের মুত্যু

প্রকাশিত :  ০৭:৫৩, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৬, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

সিলেট জেলার বালাগঞ্জে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক থেকে প্রায় ৪০ ফুট নিচে পড়ে ফুটবলার সাইফুর রহমান আলিম (২২) ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। তিনি বালাগঞ্জ উপজেলার বালাগঞ্জ ইউনিয়নের রিফাতপুর গ্রামের দুলাল মিয়ার পুত্র।

মোটর সাইকেলে থাকা অপর দুই আরোহী একই গ্রামের ওয়াব মিয়ার ছেলে ওয়ছে আহমদ (২১) ও আনছার মিয়ার ছেলে রাফি আহমদ (২০) গুরুতর আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দিনগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে সিলেট-সুলতানপুর-বালাগঞ্জ সড়কের বালাগঞ্জ ইউনিয়নের বির্ত্তনীয়া গ্রাম এলাকায় এদুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা সাইফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত দুইজনকে সিলেট শহরের দুটি প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিনজন রাতে তাদের এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে যান। ফেরার পথে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উঁচু সড়ক থেকে প্রায় ৪০ ফুট নিচে মোটর সাইকেলসহ হাওড়ের পানিতে পড়ে যান তারা। সড়কের পাশে বসানো ঢালাই করা ব্লকে আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই সাইফুরের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

দুর্ঘটনাস্থলের পাশের বাড়ির বাসিন্দা নজরুল ইসলাম নামের যুবক জানান, ভোর চারটার দিকে আহত ওয়েছ আহমদ তাদের বাড়িতে গিয়ে বাড়ির লোকজনকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে বিষয়টি জানান। বাড়ির লোকজন সেখানে গিয়ে সাইফুরের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। সেখান থেকে তিনজনকে গাড়ি তুলে সিলেট শহরে নিয়ে যান, ততক্ষণে ভোর গড়িয়ে সকাল হয়ে যায়।

সাইফুরের ইউরোপে যাওয়ার প্রসেসিং চলছিল বলে তার স্বজনরা জানিয়েছেন।

বালাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মুনিম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সকালে থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি।

বালাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল লতিফ তদফদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।


সিলেটের খবর এর আরও খবর