img

ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে বড় পরিবর্তন, অপেক্ষা ১০ বছর

প্রকাশিত :  ০৮:৪৫, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাসের নিয়মে বড় পরিবর্তন, অপেক্ষা ১০ বছর

ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাস বা ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেন (আইএলআর)-এর নিয়মকানুন ও ইনকাম থ্রেশহোল্ডে যুগান্তকারী ও কঠোর পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ। হাউস অব কমন্সে পেশ করা সরকারের নতুন ‘আর্নড সেটলমেন্ট’ কাঠামোর ফলে বৈধভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসরত প্রায় ৫ লাখ অভিবাসীর স্থায়ীভাবে বসবাসের পথ দীর্ঘায়িত হতে চলেছে। বিশেষ করে স্কিলড ওয়ার্কার ও বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত হাজার হাজার বাংলাদেশি অভিবাসী ও তাদের পরিবার এর ফলে মারাত্মক অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আকস্মিক এই নীতিমালার ফলে বহু অভিবাসী দীর্ঘমেয়াদি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়বেন। সরকারের পক্ষ থেকে একে ন্যায্য ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন নীতি হিসেবে দাবি করা হলেও অভিবাসী সংগঠনগুলো এর বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আইনি লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

১০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি শর্ত ও কিছু ক্ষেত্রে ছাড় নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য ডিফল্ট কোয়ালিফাইং সময়সীমা ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে সরাসরি ১০ বছর করা হয়েছে। এতদিন ৫ বছর পূর্ণ হলেই নির্দিষ্ট শর্তে সেটলমেন্টের আবেদন করা যেত।

তবে সরকার উচ্চ আয় এবং বিশেষ কিছু পেশার জন্য কিছু ছাড় রেখেছে। যাদের বার্ষিক আয় ১ লাখ ২৫ হাজার ১৪১ পাউন্ডের বেশি কিংবা যারা গ্লোবাল ট্যালেন্ট বা ইনোভেটর ফাউন্ডার রুটে আছেন, তারা ৩ বছরের মাথায় স্থায়ী বসবাসের আবেদন করতে পারবেন।

অন্যদিকে, উচ্চ করদাতা (যাদের আয় ৫০ হাজার ২৭৬ পাউন্ডের বেশি) এবং এনএইচএস-এর ডাক্তার, নার্স ও শিক্ষকসহ নির্দিষ্ট কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাবলিক সেক্টর পেশাজীবীরা ৫ বছরের পথেই সেটলমেন্টের সুবিধা পাবেন। তবে এই ক্যাটাগরিগুলোর বাইরে থাকা সাধারণ দক্ষ কর্মীরা এই ছাড়ের আওতাধীন না থাকায় তাদের ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে।

প্রাথমিকভাবে কেয়ার ওয়ার্কারদের স্থায়ী হওয়ার মেয়াদ ১৫ বছর করার প্রস্তাব করা হলেও সমালোচনার মুখে তাতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। বার্ষিক কমপক্ষে ২৫ হাজার পাউন্ড আয়ের শর্ত পূরণ সাপেক্ষে কেয়ার ওয়ার্কাররা ৫ বছরের পুরনো পথেই স্থায়ী বসবাস পেতে পারবেন। তবে কেয়ার সেক্টরের বাইরের অন্যান্য খাতের হাজার হাজার অভিবাসী কর্মীর জন্য এই ছাড় প্রযোজ্য নয়।

আইনি সতর্কতা ও অভিবাসীদের ওপর আর্থিক চাপ এই নিয়মের ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিবাসী অধিকারকর্মী ও পাবলিক ল’ ব্যারিস্টাররা। ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার আশায় যুক্তরাজ্যে আসা অভিবাসীরা এখন বিপাকে পড়েছেন। ৫ বছরের জায়গায় ১০ বছর অপেক্ষা করতে হওয়ায় পরিবারগুলোকে অতিরিক্ত ভিসা ফি, প্রতি বছর ইমিগ্রেশন হেলথ সারচার্জ এবং নবায়ন বাবদ হাজার হাজার পাউন্ড গচ্চা দিতে হবে। চার সদস্যের একটি পরিবারের ক্ষেত্রে এই বর্ধিত প্রক্রিয়া ও ফি মেটাতে গিয়ে ২৫ হাজার পাউন্ডের বেশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। এছাড়া ইংরেজি ভাষার মানদণ্ড আরও কঠোর করা হয়েছে এবং স্বেচ্ছাসেবা বা ভলান্টিয়ার কাজের মাধ্যমে সময় কমিয়ে আনার সুযোগ পুরোপুরি বাতিল করা হয়েছে।

বাংলাদেশি কমিউনিটি ও দক্ষ কর্মীদের ওপর প্রভাব যুক্তরাজ্যে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের একটি বড় অংশ কেয়ার ওয়ার্কার, বিভিন্ন রেস্তোরাঁ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য স্কিলড ওয়ার্কার ভিসায় অবস্থান করছেন।

ব্যারিস্টার সালাহ উদ্দীন সুমন বলেন, কেয়ার সেক্টরের বাইরে থাকা সাধারণ স্কিলড পেশাজীবী ও গ্র্যাজুয়েট রুট থেকে ওয়ার্ক পারমিটে যাওয়া অভিবাসীরা এই ১০ বছরের বেড়াজালে আটকে গেছেন। বহু পরিবার যারা স্থায়ীভাবে শিকড় গাড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন এবং যাদের ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছিল, তাদের মেয়াদ এখন হঠাৎ করেই দীর্ঘায়িত হওয়ায় মানসিক ও অর্থনৈতিক উভয় চাপই বহুগুণ বেড়ে গেছে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর

ইংলিশ চ্যানেলে নৌকা ডুবে শিশুসহ নিহত ৫ | JANOMOT | জনমত

img

পুরো ইসরাইলের ওপরই যুক্তরাজ্যের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া উচিত: ব্রিটিশ এমপি

প্রকাশিত :  ১৬:৪৬, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাজ্যের নরিচ সাউথের লেবার পার্টি দলীয় এমপি ক্লাইভ লুইস এক নিবন্ধে দাবি করেছেন, ইসরাইলের বিতর্কিত বসতি স্থাপনকারীদের (সেটলার) পাশাপাশি পুরো ইসরাইল রাষ্ট্রের ওপরও ব্রিটিশ সরকারের তাৎক্ষণিক ও কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা উচিত। মতামত নিবন্ধে  তিনি জানান, ব্রিটিশ পার্লামেন্ট সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দলকে অবৈধভাবে দখলকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশ করতে না দিয়ে প্রায় আট ঘণ্টা আটকে রেখে ফেরত পাঠিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী।

প্রতিনিধি দলটির উদ্দেশ্য ছিল পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চলা সহিংসতা ও নিপীড়নের বাস্তব চিত্র সরেজমিনে তদন্ত করা। তবে এমপি ক্লাইভ লুইস স্পষ্ট করে বলেছেন, তাদের সাথে ঘটে যাওয়া অসৌজন্যমূলক আচরণ ফিলিস্তিনিদের প্রতিদিনের চরম বাস্তবতার তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য। গাজায় চরম নৃশংসতার পর এখন পশ্চিম তীরেও ধীরগতির জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে, যা কোনো সাধারণ অপরাধ নয় বরং সরাসরি ইসরাইলি রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ।

ইসরাইলের বর্তমান অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ সম্প্রতি প্রকাশ্যে গাজার মতোই পশ্চিম তীরেও সামরিক অভিযান চালানোর হুমকি দিয়েছিলেন। এর পরপরই ফিলিস্তিনিদের প্রধান জীবিকা হিসেবে পরিচিত জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে অমানবিক আক্রমণের ঘটনাগুলো বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগী হয় এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ দল। লুইস অভিযোগ করেন, বিশ্ব যেন ইসরাইলের এসব অপরাধের সাক্ষী হতে না পারে, সেজন্য তারা প্রতিনিধি দল এবং সাংবাদিকদের নিয়মিত বাধা দিচ্ছে। গত দেড় বছরে যুক্তরাজ্যের দুটি এমপি প্রতিনিধি দলকে ফেরত পাঠানো ছাড়াও তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গাজা সংঘাতে দুই শতাধিক ফিলিস্তিনি সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের গ্লোবাল জাস্টিস নাউয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হয়, যখন যুক্তরাজ্য সম্প্রতি পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোর ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা ভেবেছে। তবে ক্লাইভ লুইস সতর্ক করে বলেন, শুধু কিছু নির্দিষ্ট উগ্র সেটলারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, কারণ তাদের পেছনে মূল শক্তি হিসেবে কাজ করছে ইসরাইল সরকার। অবৈধ বসতিগুলোর অর্থনীতি সম্পূর্ণ অচল করে দিতে ব্যাংকিং, বিমা ও নজরদারি প্রযুক্তি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে।

লুইস আরও উল্লেখ করেন, ব্রিটিশ সরকার ইসরাইলে অস্ত্র বিক্রিতে কিছু বিধিনিষেধ আনলেও এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের গুরুত্বপূর্ণ পার্টস সরবরাহ এখনও পুরোপুরি বন্ধ করেনি, যা দিয়ে গাজা ও পশ্চিম তীরে হামলা চালানো হচ্ছে। অবিলম্বে এই আইনি ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করে সব ধরণের অস্ত্র বিক্রি স্থগিতের দাবি জানান তিনি। গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে ত্রাণ সরবরাহে বাধা সৃষ্টিকারী ইসরাইলি মন্ত্রীদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন এই ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ইসরাইলের এই অবৈধ দখলদারিত্ব ও বর্ণবাদী নীতি বন্ধে যুক্তরাজ্যকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুততম সময়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যুক্তরাজ্য এর আরও খবর