হাদিস শরিফে প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী, ‘তুমি মদ্যপান করবে না। কেননা, ইহা সব মন্দের চাবিকাঠি’ -(ইবনে মাজাহ)। অন্য হাদিসে বলা হয়েছে, ‘হজরত মু’আজ ইবনে জাবাল (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে দশটি বিষয়ে উপদেশ দান করেছেন, (তন্মধ্যে একটি হলো) কখনো শরাব তথা মদ পান করবে না। কেননা, তা সকল প্রকার অশ্লীল কর্মের উৎস’ -(আহমদ)। প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু মদের অন্তর্ভুক্ত। হাদিস শরিফে এসেছে, ‘হজরত ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন, প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু মদের শামিল এবং প্রত্যেক নেশা আনয়নকারী বস্তু হারাম। যে ব্যক্তি দুনিয়ায় মদ পান করবে, অতঃপর তওবা না করে মদ্যপানের অভ্যাস নিয়ে মৃত্যুবরণ করবে, সে পরকালে (জান্নাতের) মদ পান করতে পারবে না’ -(মুসলিম)। মদ হচ্ছে সকল গুনাহের মূল।
শুধু মদ্যপানকারী নয়, মদ প্রস্তুতকারী, বহনকারী, বিক্রিকারীসহ অনেকের উপর অভিসম্পাত করা হয়েছে। হাদিসের ভাষ্যানুযায়ী ‘হজরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদের ক্ষেত্রে দশ ব্যক্তিকে অভিসম্পাত করেছেন। এক. মদ প্রস্তুতকারী, দুই. যার নিমিত্তে মদ তৈরি করা হয়, তিন. মদ পানকারী, চার. মদ বহনকারী, পাঁচ. যার নিকট মদ বহন করে নেওয়া হয়, ছয়. মদ পরিবেশনকারী, সাত. মদ বিক্রেতা, আট. মদের মূল্য ভোগকারী ব্যক্তি, নয়. মদ তৈরি করার আসবাব ক্রয়কারী ব্যক্তি, দশ. মদের নিমিত্তে যা ক্রয় করা হয়’ -(তিরমিজি, ইবনে মাজাহ)। এ থেকে পরিষ্কারভাবে বোঝা যাচ্ছে যে, মদ্যপান বা নেশা করা ব্যক্তি বা দল, সমাজ, দেশ ও জাতির জন্য অমঙ্গল, অকল্যাণকর।



















