img

‘১২তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ সম্পন্ন

প্রকাশিত :  ০৯:১৮, ১৫ এপ্রিল ২০২৩

 ‘১২তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ সম্পন্ন

করোনার পর ইউক্রেন-রাশিয়ার যুদ্ধজনিত পরিস্থিতিতে লণ্ডভণ্ড বিশ্ব অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারে সহায়ক গবেষণামূলক প্রবন্ধ-নিবন্ধ উপস্থাপন, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এবং আলোচনার মধ্যদিয়ে নিউইয়র্কে তিন দিনব্যাপী ‘১২তম ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’ শেষ হলো ১২ এপ্রিল সোমবার। 

এই কনফারেন্সের উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যস্থ ‘সেন্টার ফর বিজনেস এ্যান্ড ইকনোমিক রিসার্চ’র নির্বাহী সভাপতি এবং কুমিল্লার বড়ুরা উপজেলার তলাগ্রামের সন্তান ড. পল্টু রঞ্জন দত্ত এবারের আয়োজন প্রসঙ্গে এ সংবাদদাতাকে বললেন, করোনার সময় আমরা সবচেয়ে বড় একটি শিক্ষা পেলাম, আর তা হচ্ছে মানবতার শিক্ষা। সেকেন্ডলি পৃথিবীতে এখন যে সবকিছু নিউ নর্মাল শুরু হয়েছে, সেটি হচ্ছে ডিজিটাইজেশন। অর্থনীতিতে বলুন, সামাজিক পরিস্থিতিতে বলুন, দার্শনিক ক্ষেত্রে, নান্দনিকতায় বলুন, সবটাই ডিজিটাল মুভমেন্টকে ত্বরান্বিত করছে। ড. পল্টু বলেন, করোনার সময় আমরা সশরীরে উপস্থিত হয়ে কনফারেন্স করতে পারিনি। ভার্চুয়ালে করেছি। তবে সেখানে অনেক কিছুরই প্রকাশ যথাযথভাবে ঘটেনি। তিন বছর পর আমরা এই প্রথম আবার শুরু করলাম সশরীরে উপস্থিতির কনফারেন্স। 

এমন একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে কনফারেন্সের স্বার্থকতা কতটুকু বলে ভাবছেন? জবাবে বললেন ড.পল্টু দত্ত, আমি এখন যেটা মনে করছি, গ্লোবালাইজেশন এবং টেকনোলজির প্রসানে ইন্টারেকশনের খুবই প্রয়োজন রয়েছে। সে তাগিদেই আমরা দুদিনের কনফারেন্সে মিলিত হলাম। সারাবিশ্বের শিক্ষাবিদ-গবেষকরা এসেছিলেন এখানে। তথ্য-উপাত্ত নিয়ে তারা শেয়ার করলেন। এবং সেগুলোকে মানবতার কল্যাণে নিজস্ব আঙ্গিকে কীভাবে প্রয়োগ করতে পারি তা নিয়েও বাস্তবমুখী আলোচনা হলো। 

ড. পল্টু উল্লেখ করেন, আমরা চেষ্টা করছি বাংলাদেশ-সহ সারাবিশ্বে নাজুক অবস্থায় পতিত অর্থনৈতিক অবস্থার উত্তরণ ঘটানোর ক্ষেত্রে বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ঘটাতে। ২০১৯ সালে আমরা বাংলাদেশেও কনফারেন্স করেছি। সে সম্মেলনে বিদেশী শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অবাক হয়েছিলেন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অগ্রগতির জোয়ার দেখে। করোনা পরবর্তী বর্তমানের জেগে উঠার পরিক্রমায় আমাদের সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে পারস্পরিক সহযোগিতার দিগন্ত প্রসারিত করার। এই সম্মেলনের প্রতিটি পর্বে সেই আকুতিই উচ্চারিত হয়েছে। 

‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট’র যুগপূর্তির এই কনফারেন্সের উদ্যোক্তা, জনক হিসেবে কতটুকু সফল হতে পেরেছেন বলে মনে করেন? জবাবে কনফারেন্সের এক্সিকিউটিভ চেয়ার ডক্টর পি.আর. দত্ত বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র জুনিয়র একাডেমিশিয়ানদের মধ্যে একটা জাগরণ সৃষ্টি করা। বিশেষ করে বাংলাদেশ, ভারত তথা এশিয়ার শিক্ষক-শিক্ষার্থী যারা বিদেশে আসতে সক্ষম হন না, তাদের গবেষণাধর্মী পেপারগুলোকে আন্তর্জাতিক পাবলিকেশন্সে নিয়ে আসার মাধ্যমে তাদেরকে উৎসাহিত করা, তাদেরকে কনফারেন্সে এনে সচেতনতা সৃষ্টি করা, এটি ছিল মূল উদ্দেশ্য। আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, আমি যখন ২০০৬ সালে এই কনফারেন্স শুরু করি তখন বাংলাদেশ থেকে একজনও পেতাম না। এখন ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, বাংলাদেশ, নাইজেরিয়া, সাউথ আফ্রিকাসহ আফ্রিকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক একাডেমিক্স এ কনফারেন্সে আসছেন। তারা নিজস্ব আইডিয়ার সাথে অন্যদেরকে পরিচিত করার সুযোগ পাচ্ছেন। অন্যদের কাছে থেকেও ধারণা নিতে সক্ষম হচ্ছেন। এই কনফারেন্সে বাংলাদেশ থেকে এসেছিলেন ১০ জনের মত শিক্ষাবিদ। কনফারেন্সে শতাধিক শিক্ষাবিদ বিশ্বের ২০টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারীরা একটি বৈশ্বিক সমাবেশের মধ্যে জ্ঞান অন্বেষণ এবং নেটওয়ার্কিংয়ের এক অপূর্ব সুযোগ পেয়েছিলেন। সম্মেলনের আয়োজক ছিল সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের মেডগার এভার্স কলেজ এবং সেন্টার ফর বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিক রিচার্স। সামনের বছর একইস্থানে এই এপ্রিলেই অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ কনফারেন্স।  

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

লন্ডনে মেডিসিন অধ্যয়নে আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের দক্ষতা অর্জনের দিনব‍্যাপী বিশেষ শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ২০:২১, ১২ মে ২০২৬

লন্ডনে মেডিসিন অধ্যয়নে আগ্রহী ছাত্র-ছাত্রীদের বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষতা অর্জনের জন‍্য দিনব‍্যাপী বিশেষ শিক্ষামূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্টিত হয়েছে।  মেডিস্পুনের আয়োজনে গত রবিবার ইস্ট লন্ডনের কমার্শিয়াল রোডের এক্সেল  টিউটর এ কর্মশালা অনুষ্টিত হয়। এই কর্মশালার মাধ‍্যমে স্বপ্নের ডাক্তার হওয়ার পথে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিলো MEDISPOON LAUNCHPAD । গতকালের প্রশিক্ষনে অংশ নেন ইয়ার-৯ থেকে ইয়ার- ১২ এর শতাধিক শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা। যাদের সবার লক্ষ্য একটাই, ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়া। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলা এই ফ্রি ইভেন্টে মেডিকেল স্কুলে ভর্তির বিভিন্ন ধাপ নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।

MEDISPOON হলো যুক্তরাজ্যভিত্তিক একটি বিশেষজ্ঞ UCAT প্রস্তুতি প্ল্যাটফর্ম, যা NHS ডাক্তার ও অভিজ্ঞ শিক্ষাবিদদের মাধ্যমে পরিচালিত। বিশেষভাবে যুক্তরাজ্যের মেডিকেল স্কুলে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জন্য। প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ৫০ হাজারেরও বেশি অনুশীলনী প্রশ্ন, ৩৫০টির বেশি ভিডিও লেসন, মক পরীক্ষা, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং অ্যানালিটিক্স ড্যাশবোর্ড এবং সমন্বিত ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, সবকিছু একটি সংযুক্তপ্ল্যাটফর্মে। কিন্তু মেডিস্পুনকে সবচেয়ে আলাদা করে তোলে এরমিশন।। মেডিস্পুনের প্রতিষ্ঠাতা আনিস জামানের সভাপতিত্বে ও মেডিস্পুনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইমন আহমেদের পরিচালনায় বক্তব‍্য রাখেন, ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার ডা. মনজুর শওকত, অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডা. ক্রিস ইমাফিডন এবং প্রফেসর জোনাথন ওমানি। ইভেন্ট অংশগ্রহণকারী মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান, মিনারা সুলতানা প্রমূখ।

মেডিস্পুনের প্রতিষ্ঠাতা আনিস জামান বলেন,

\"আমরা বিশ্বাস করি, ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হওয়া উচিত পরিশ্রমআর নিষ্ঠার উপর ভিত্তি করে, পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য বা কোনস্কুলে পড়েছ তার উপর নয়। MEDISPOONসেই বিশ্বাস থেকেই জন্মনিয়েছে।\"

এই বিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা যায় মেডিস্পুনের প্রতিটি সিদ্ধান্তে। ফ্রিস্কুল মিলস (FSM) শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে প্ল্যাটফর্মঅ্যাক্সেস। এবং সবচেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে, মেডিকেল স্কুলে ভর্তির পরসম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশন ফি ফেরত — যুক্তরাজ্যে এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়াএকমাত্র UCAT প্ল্যাটফর্ম এটি।

দিনটি ছিল পুরোপুরি প্যাকড। ৫০ জন ইয়ার ১২-এর শিক্ষার্থী, ৮০জন ইয়ার ৯ থেকে ১১-এর শিক্ষার্থী এবং তাদের অভিভাবকেরা মিলেএকটি প্রাণবন্ত পরিবেশ তৈরি করেছিলেন।

ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের ক্লিনিক্যাল লেকচারার ডা. মনজুরশওকত শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরলেন মেডিকেল স্কুলে ভর্তিরবাস্তব চিত্র। A-লেভেলে A*A*A*-এর লক্ষ্যমাত্রা, UCAT স্কোরেরগুরুত্ব, MMI ইন্টারভিউ প্রস্তুতি এবং কার্যকর ওয়ার্ক এক্সপেরিয়েন্সেরপথ — সবকিছু নিয়ে তিনি দিলেন সরাসরি ও বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ডা. ক্রিস ইমাফিডন এবংপ্রফেসর জোনাথন ওমানির উপস্থিতি ইভেন্টটিকে এক অনন্য মাত্রাদিয়েছিল। কিংস কলেজ লন্ডন, ইম্পেরিয়াল এবং UCL-এর বর্তমানমেডিকেল শিক্ষার্থীরা MMI মক ইন্টারভিউ পরিচালনা করলেন এবংপার্সোনাল স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করলেন। তারা নিজেরা যে পথপেরিয়ে এসেছেন, সেই পথের আলো ছড়িয়ে দিলেন পরের প্রজন্মেরকাছে।

ইভেন্ট শেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুখে ছিল সন্তুষ্টির ছাপ।

মুহাম্মদ মনিরুজ্জামান বললেন, \"UCAT এবং মেডিকেল ক্ষেত্রসম্পর্কে অনেক দরকারি তথ্য ও সাহায্য পেয়েছি। অত্যন্ত সহায়কছিল।\"

মিনারা সুলতানা বললেন, \"ইয়ার ১২-এর শিক্ষার্থীদের মেডিকেলস্কুলে আবেদনের প্রস্তুতির জন্য অনেক ব্যবহারিক সম্পদসহ অত্যন্তসুসংগঠিত একটি ইভেন্ট।\"

দীপান্নিতা হক জানালেন, \"মেডিসিনে আবেদনের পুরো যাত্রা সম্পর্কেঅত্যন্ত তথ্যবহুল ছিল।\"

ইভেন্টে MEDISPOON তিনটি বড় ঘোষণা দেয় যা উপস্থিত সকলকেউৎসাহিত করে।

মেডিস্পুনের লাইফটাইম মেন্টরড প্ল্যান, যার স্বাভাবিক মূল্য £৭৯৫, সেটি মাত্র £২৯৯-তে ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য অফার করা হয়। এই১০০টি স্পট দিনের মধ্যেই সম্পূর্ণ নেওয়া হয়ে যায়। এছাড়াওআনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয় MEDISPOON রেফারেল প্রোগ্রাম — যেখানে কোনো শিক্ষার্থী বন্ধুকে রেফার করলে উভয়পক্ষই বিশেষসুবিধা পাবেন। এবং সকল উপস্থিত অংশগ্রহণকারী পানমেডিস্পুনের সকল প্ল্যানে ৫০% বিশেষ ছাড়।

দিন শেষে যখন শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরছিল, তখন তাদের হাতে ছিলঅংশগ্রহণের সার্টিফিকেট, মনে ছিল নতুন আত্মবিশ্বাস এবং চোখেছিল আরও স্পষ্ট স্বপ্ন।

মেডিস্পুনের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ইমন আহামেদ বলেন,

\"আজকের এই ইভেন্ট আমাদের কাছে শুধু একটি দিন নয়। এটিপ্রমাণ করে যে সঠিক সুযোগ পেলে আমাদের কমিউনিটির প্রতিটিশিক্ষার্থী ডাক্তার হওয়ার যোগ্য। MEDISPOONসেই সুযোগ তৈরিকরতে প্রতিদিন কাজ করে যাচ্ছে।\"

MEDISPOON LAUNCHPAD ছিল কেবল একটি শুরু। যুক্তরাজ্যেরবাংলাদেশি ও দক্ষিণ এশীয় কমিউনিটির পরবর্তী প্রজন্মের ডাক্তারেরাআজ এক ধাপ এগিয়ে গেছেন তাদের স্বপ্নের দিকে।

কমিউনিটি এর আরও খবর