img

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ, কানাডার বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু

প্রকাশিত :  ০৬:৪৫, ০৫ মার্চ ২০২৫

যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ, কানাডার বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু

কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধ। কানাডার পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে প্রতিবেশী দেশ কানাডা।

দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ৩০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের মার্কিন পণ্য আমদানিতে তাৎক্ষণিকভাবে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ইতোমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো কানাডিয়ান পণ্য আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক শুল্ক আরোপের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের এই পদক্ষেপকে তিনি বাণিজ্য যুদ্ধ বলে অভিহিত করে বলেছেন, এটি আমেরিকান পরিবারগুলোকেই প্রথম এবং সর্বাগ্রে ক্ষতি করবে।

ট্রুডো জোর দিয়ে বলেন, কানাডিয়ানরা যুক্তিসঙ্গত এবং ভদ্র। কিন্তু লড়াই থেকে পিছপা হবে না, বিশেষ করে যখন দেশের কল্যাণ ঝুঁকিতে থাকে।

মঙ্গলবার পার্লামেন্ট হিল থেকে বক্তৃতাকালে ট্রুডো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন এবং বলেন, শুল্ক আরোপের বিষয়টি অত্যন্ত বোকা জিনিস। তিনি কানাডার মতো ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং মার্কিন অংশীদারের ওপর শুল্ক আরোপ করার সময় ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে (ট্রাম্পের) কাজ করার যুক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অতীতে পুতিনকে খুনি এবং স্বৈরশাসক বলে অভিহিত করেছিলেন ট্রুডো।

ট্রুডো বলেন, আজ যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেছে। (কানাডা) যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ অংশীদার এবং মিত্র, তার (আমেরিকার) সবচেয়ে কাছের বন্ধু।

এদিকে বাণিজ্য যুদ্ধের শুরুতেই কানাডার বিভিন্ন প্রদেশের নাগরিকদের মধ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এক ধরনের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। কানাডিয়ানরা বলেছেন এটা সম্পূর্ণ অনৈতিক, এতে শুধু কানাডিয়ানরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না,  যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। ফলে উভয় দেশই অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

আলোচনায় বসা ছাড়া ‘বিকল্প নেই’ ইরানের : ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৮, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পাকিস্তানে প্রতিনিধিদল পাঠানো ছাড়া ইরানের সামনে আর কোনো বিকল্প নেই বলে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন দেশটির  প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আজ মঙ্গলবার দেশটির সংবাদমাধ্যম সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

ইরানের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র একটি ‌‌চমৎকার চুক্তি করতে সক্ষম হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র খুব একটা ভালো মানুষদের সঙ্গে বোঝাপড়া করছে না। তবে তা সফলভাবেই করছে। এ সময় তিনি ইরানের সব বন্দরে মার্কিন নৌ-অবরোধকে বিশাল সাফল্য বলেও অভিহিত করেন।

আলোচনায় অগ্রগতি হলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, আমি সেটা করতে চাই না।

পরবর্তীতে ট্রাম্প বলেন, আমি বোমা হামলারই প্রত্যাশা করছি। কারণ সেটিই হবে আরও ভালো অবস্থান।

তিনি বলেন, চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য হাতে খুব বেশি সময় নেই। তবে ইরানের জন্য আশার বাণী শুনিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনও চুক্তিতে আসতে পারলে ইরান নিজেদের খুব ভালো অবস্থানে নিয়ে যেতে পারবে।

ইসলামাবাদের পরবর্তী দফার শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে ইরানের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের জন্য এখনও অপেক্ষায় রয়েছে পাকিস্তান। ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তি আলোচনা নিয়ে দোলাচলের মাঝে মঙ্গলবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেছেন, পাকিস্তান এখনও কূটনীতি ও সংলাপের পথ অনুসরণ করছে। তবে পাকিস্তানের এই মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ইরানের সিদ্ধান্ত এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ খুব শিগগিরই শেষ হতে চলেছে।

সূত্র: ডন