img

‘শ্রীরামসী ইউনাইটেড অর্গানাইজেশন্স ইউকে’র ঈদ পুনর্মিলনী ও ৯ম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত :  ১৩:০৮, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

‘শ্রীরামসী ইউনাইটেড অর্গানাইজেশন্স ইউকে’র ঈদ পুনর্মিলনী ও ৯ম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলাস্থ ৩ নং মিরপুর ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী শ্রীরামসী গ্রামের তরুণ প্রজন্ম দ্বারা প্রতিষ্ঠিত অরাজনৈতিক দাতব্য সংগঠন, ‘শ্রীরামসী ইউনাইটেড অর্গানাইজেশন্স ইউকে’র ঈদ পুনর্মিলনী ও ৯ম বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ১৪ এপ্রিল সোমবার হোয়াইটচ্যাপলে একটি রেস্টুরেন্টে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভার কার্যক্রম শুরু হয় সোহেল মিয়ার স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবিহীন ব্যতিক্রমধর্মী এই সভায় সংগঠনের বিপুল সংখ্যক সদস্য অংশগ্রহণ করেন। তরুণ প্রজন্মের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে লন্ডনের হোয়াইট চ্যাপেল যেন শ্রীরামেসী বাজারে রূপান্তরিত হয়। শুরুতে নতুন সকল সদস্যের সাথে পরিচয় করে দেওয়া হয়।  

সভায় বক্তব্য রাখেন জয়নাল মিয়া, গোলাম কিবরিয়া বিলাল, আনোয়ার মিয়া, আব্দুর রব, বেলাল মিয়া, কুতুব উদ্দিন, মুহিব মিয়া, শিবুল মিয়া, আছকর উদ্দিন (দুলু) বাবরু  মিয়া, এম এ হক (এমলাক), জাহেদ আহমেদ, মইনুল ইসলাম, আলী আসকরসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ। সভায় সংগঠনের সদস্যদের সর্ব সম্মতিক্রমে আগামী দুই বৎসরের জন্য নতুন কার্যকরী পরিষদ গঠন করা হয়।

নতুন কার্যকরী পরিষদের সদস্যরা হলেন এম এ হক (এমলাক), আছকর উদ্দিন (দুলু), বেলাল মিয়া, সোহেল মিয়া, বেলাল উদ্দিন (মিঠু) , মাহবুব হোসেন, পাবেল রব্বানী (ইমরান), মতিউর রহমান (মিজান), সুহেবুর রহমান, রুবেল হোসেন, গফুর মিয়া।

প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ বেলাল মিয়া গত দুই বছরের অর্থিক  রির্পোট পেশ করেন। নতুন বোর্ড এর সদস্যগণ আগামী দিনে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করে সকলের সহযোগিতায় নিষ্ঠা, সততা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে সংগঠন পরিচালনা করবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন! এম এ হক  (এমলাক)  এর সমাপনী বক্তব্য শেষে ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কেক কেটে এক প্রীতি ভোজের মাধ্যমে সভার সমাপ্তি ঘটে।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

বিশ্বজুড়ে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচারের সুযোগ করে দিচ্ছে এডিনবার্গের দাতব্য সংস্থা: ফয়ছল চৌধুরী এমবিই

প্রকাশিত :  ০৬:৪৭, ১৫ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫৮, ১৫ মার্চ ২০২৬

স্কটিশ পার্লামেন্ট সদস্য ফয়ছল চৌধুরী এমবিই (MSP) স্কটিশ চ্যারিটি কিডস অপারেটিং রুম (KidsOR)-এর অগ্রণী কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। সম্প্রতি তিনি সংস্থাটির এডিনবার্গের অফিস পরিদর্শন করেন এবং বিশ্বজুড়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ অস্ত্রোপচারের সুযোগ তৈরিতে তাদের ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন।

পরিদর্শনকালে জনাব চৌধুরী প্রজেক্ট ম্যানেজার ক্রিস্টিনা এ. রাইকোভস্কা এবং কিডসওআর (KidsOR) টিমের সদস্যদের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী শিশুদের সার্জিক্যাল কেয়ারের জরুরি প্রয়োজনীয়তা এবং এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় স্কটল্যান্ড যে ভূমিকা পালন করছে সে সম্পর্কে আলোচনা করেন। বর্তমানে লক্ষ লক্ষ শিশু প্রয়োজনীয় সাধারণ অস্ত্রোপচারের সুযোগ পায় না, যার ফলে প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু বা আজীবন পঙ্গুত্বের শিকার হতে হচ্ছে।

২০১৮ সালে স্কটিশ সমাজসেবী গ্যারেথ এবং নিকোলা উড কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত কিডসওআর (KidsOR) হলো বিশ্বের একমাত্র স্বাস্থ্যবিষয়ক দাতব্য সংস্থা যা একচেটিয়াভাবে শিশুদের অস্ত্রোপচারের জন্য কাজ করে। স্কটল্যান্ড ভিত্তিক এই সংস্থাটি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে শিশু-বান্ধব অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করে, স্থানীয় সার্জিক্যাল টিমকে প্রশিক্ষণ দেয় এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারদের সহায়তা করে, যাতে শিশুরা তাদের বাড়ির কাছেই নিরাপদ ও সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা পেতে পারে।

এ পর্যন্ত কিডসওআর-এর কার্যক্রম ৩৮টি দেশে বিস্তৃত হয়েছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া, লাতিন আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে ১২৫টি বিশেষায়িত শিশু অপারেশন থিয়েটার স্থাপন করেছে তারা। এর মাধ্যমে ৭ লক্ষ ৮০ হাজারেরও বেশি অস্ত্রোপচারের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা না হলে এই শিশুদের জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা পাওয়া কঠিন হতো। স্বতন্ত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই দাতব্য সংস্থার কাজ ইতোমধ্যে লক্ষ লক্ষ বছরের পঙ্গুত্ব রোধ করেছে এবং অংশীদার দেশগুলোর জন্য বিলিয়ন বিলিয়ন পাউন্ডের অর্থনৈতিক সুবিধা তৈরি করেছে।

স্কটল্যান্ডে এডিনবার্গের অফিস এবং গ্লাসগো সদর দপ্তরের পাশাপাশি ডান্ডিতে কিডসওআর-এর একটি 'গ্লোবাল অপারেশন সেন্টার' রয়েছে। সেখানে বিশেষজ্ঞ দল বিদেশের হাসপাতালগুলোর জন্য অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম প্রস্তুত ও রক্ষণাবেক্ষণ করে। এই নেপথ্য সুবিধাই নিশ্চিত করে যে, বিদেশে পাঠানো প্রতিটি অপারেটিং রুম ব্যবহারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত থাকে, যেখানে শিশুদের উপযোগী অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম থেকে শুরু করে ছোট রোগীদের ভয় কাটাতে রঙিন ও আশ্বস্ত করার মতো নকশাও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

কিডসওআর-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো শক্তিশালী ও স্বনির্ভর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে এক সময় বাহ্যিক সাহায্যের আর প্রয়োজন না পড়ে। তারা চায় প্রতিটি দেশের নিজস্ব অবকাঠামো এবং বিশেষজ্ঞ থাকুক যাতে তারা নিজেরাই নিজেদের শিশুদের যত্ন নিতে পারে। স্বল্পমেয়াদী সফরের পরিবর্তে, এই সংস্থাটি স্থায়ী অপারেটিং রুম তৈরি এবং স্কলারশিপ ও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় সার্জনদের দক্ষ করে তোলার ওপর গুরুত্ব দেয়।

ফয়ছল চৌধুরী এমএসপি বলেন, "কিডস অপারেটিং রুম পরিদর্শন করা এবং বিশ্বজুড়ে এই স্কটিশ দাতব্য সংস্থার অবিশ্বাস্য প্রভাব স্বচক্ষে দেখাটা ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক। শুধুমাত্র কোথায় জন্ম নিয়েছে, সেই কারণে কোনো শিশুর জীবন রক্ষাকারী অস্ত্রোপচার থেকে বঞ্চিত হওয়া উচিত নয়। তাদের কাজ প্রমাণ করে যে স্কটল্যান্ডের দক্ষতা এবং প্রতিশ্রুতি কীভাবে শিশুদের বেড়ে উঠতে, বিকশিত হতে এবং তাদের পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে সাহায্য করছে।"


কমিউনিটি এর আরও খবর